× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২০, বৃহস্পতিবার

ফের সক্রিয় জৈন্তার চোরাকারবারি চক্র

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৫ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ৯:০০

সিলেটের জৈন্তাপুর। ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা। একসময় জৈন্তাপুরে চোরাচালানের ‘তকমা’র ব্যাপক পরিচিত ছিল। সেই তকমা থেকে বেরিয়ে এসেছিল জৈন্তাপুর। কিন্তু আবারো চোরাকারবারিদের কারণে জৈন্তাপুরের সুনাম ক্ষুণ্ন্ন হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে গরু-মহিষ চোরাকারবারির নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত এলাকার মানুষ। গরু-মহিষের অবাধ বিচরণই নষ্ট করে দিচ্ছে ফসলি জমি সহ ঘরবাড়ি।
এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিস্তর অভিযোগ জমা পড়েছে। অবশেষে চোরাচালানের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে উপজেলার আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেও। সোমবার উপজেলার এ বৈঠকে চোরাকারবার নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। তারা বলেন- প্রতিটি গরু-মহিষের মালিকের কাছ থেকে প্রশাসনের তরফ থেকে ১৭০০ টাকা চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। জীবন বাজি রেখে চোরাকারবারিরা পশু নিয়ে আসছে সীমান্তের ওপার থেকে। এতে করে সীমান্ত হত্যা বাড়তে পারে। তাদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠোর হয়েছে প্রশাসন। অবৈধভাবে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন- দিনের বৈঠকের কোনো ফলাফল রাতে দেখা যায়নি। সোমবার রাতেও আগের মতো গরু মহিষ সীমান্ত দিয়ে নেমেছে। আর এসব পশু মানুষের ফসলি জমি বাসা বাড়ি মারিয়ে ছুটে গেছে গন্তব্যে। চোরাকারবারিদের আনা গরু তোলা হচ্ছে সিলেটের কানাইঘাট ও জৈন্তাপুরের কয়েকটি হাটে। এসব হাট নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে তোলপাড় চলছে। হাটের নিয়ন্ত্রক স্থানীয় প্রভাবশালীরা। পুলিশও তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছিল। এতে হস্তক্ষেপ করেন সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। তার নির্দেশে কানাইঘাট উপজেলার একটি হাট গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এখন সেই হাট আবার সরব হয়েছে। পশুর হাটে এনে রশিদ গ্রহণের মাধ্যমে পশুর বৈধতা দেয়া হচ্ছে। এদিকে-  জৈন্তাপুর উপজেলায় নির্বাহী অফিসার নাহিদা পারভীনের সভাপতিত্বে  সোমবারের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ। উপস্থিত ছিলেন- মহিলা ভাইস  চেয়ারম্যান পলিনা রহমান, ভাইস  চেয়ারম্যান বশির আহমদ, জৈন্তাপুর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ তদন্ত ওমর ফারুক মোড়ল, ইউপি  চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, এখলাছুর রহমান, মো. ইয়াহিয়া, শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল, আবুল কাহির, আমিনুর রশিদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথ, সমাজসেবা কর্মকর্তা একে আজাদ ভূঁইয়া, জৈন্তাপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি শাহেদ আহমদ, জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেস ক্লাব সভাপতি এমএম রুহেল, উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা তাসলিমা ফেরদৌস মনি, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ফারুক  হোসাইন সহ বিভিন্ন দপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ। বৈঠক সূত্র জানায়- সভায় জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু, মহিষ, মাদক প্রবেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলা হয়। সীমান্ত বাহিনীর সহযোগিতায় উপজেলার শ্রীপুর, আলুবাগান, আসামপাড়া, মিনাটিলা,  কেন্দ্রি কাঁঠালবাড়ী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল ফুলবাড়ী, টিপরাখলা, কমলাবাড়ী, গোয়াবাড়ী, বাইরাখেল, কলিঞ্জিবাড়ী, লালাখাল, বাঘছড়া, তুমইর, বালিদাঁড়া দিয়ে গরু-মহিষ প্রবেশের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে সকল প্রকার অবৈধ গরু, মহিষ প্রবেশ বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কমান্ডারদের নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি বলেন- অবৈধ গরু, মহিষ প্রবেশ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন চোরাকারবারি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ছে। অপরদিকে চোরাকারবারিরা অবৈধ পথে গরু প্রবেশ করতে গিয়ে সীমান্তের বিভিন্ন জনের ফসল বিনষ্ট করছে। সীমান্তের বাসিন্দারা বার বার আমাদেরকে বিষয়টি জানাচ্ছেন কিন্তু কোনো অবস্থায় তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আর এই সুযোগে  চোরাকারবারীরা ভারত হতে মদ ও মাদক জাত পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ চোরাকারবারি বন্ধে করিডোর স্থাপনের দাবি জানান। তিনি বলেন- করিডোর দিয়ে গরু এলে সরকার রাজস্ব পাবে। এতে করে চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন। এদিকে- জৈন্তাপুরের চোরাকারবারিদের নিয়ে সম্প্রতি সক্রিয় হয়েছেন গোয়েন্দারা। পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সম্প্রতি ৮৪ জন চোরাকারবারির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব চোরাকারবারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও আসতে পারে উপর মহল থেকে। ওই তালিকায় রয়েছেন- জৈন্তাপুরের রুবেল আহমদ, আহমদ আলী, রাশিদ আলী, ইসলাম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, রুবেল মিয়া, মাছুম, আবদুল্লাহ, সুহেল আহমদ, মালিক, রাজু, মিজান, লোকমান, হাজী রফিক লোদাই, মোহাম্মদ আলী, হাসেন আলী, নূরুল ইসলাম, আলকাছ মিয়া, রিয়াজ আহমদ, শাহজাহান, আলমগীর, শাহজাহান, আশিক, নূর আহমদ, আবদুুল হাই, হারুন মিয়া, নাজমুল ইসলাম, সুলেমান আহমদ, আবদুল হান্নান পটল, মনসুর আহমদ, মনা আহমদ, সিদ্দিক আহমদ, আরিফ আহমদ, সামসুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন, সলিম আহমদ, মা. জালাল উদ্দিন, মো. রফিক আহমদ, মো. ইয়াহিয়া, বিলাল আহমদ, বিলাল আহমদ, রফিক আহমদ, হেলাল আহমদ, সুফিয়ান, রুহুল মিয়া, বদরুল ইসলাম, আলিম উদ্দিন, মো. আবদুল,  মোহাম্মদ, কন্টাই মিয়া, হারুন, শাহিন, এখলাছ, সাদ্দাম হোসেন, মাসুক আহমদ, আহসান, ফয়সল আহমদ, নজরুল ইসলাম, মাসুক আহমদ, নাজিম উদ্দিন, আতিক আহমদ, সিদ্দিক আহমদ, হুকইন জালাল, ফখরুল ইসলাম, ইসরাক আলী, মুহিব আলী, মো. আবুল হোসেন, মো. রহিম উদ্দিন, ফরিদ আহমদ, গফুর মিয়া, লাল মিয়া উরফে লালা, পারভেজ, শাহীন আহমদ, আমিন, ডালিম, মো. আজাদ মিয়া, কাদির মিয়া, বারেক, বেলু, জিতু, মতিন, এরশাদ, দিলীপ, বিলাল, কাশেম, স্বপন মোল্লা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর