× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার

সিএএ’র বিরুদ্ধে শাহিনবাগ বিক্ষোভ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৫ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ১:১৩

নতুন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির রাজপথে মধ্য ডিসেম্বর থেকে অবস্থান করে প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছেন বিলকিস। সমালোচকরা বলেন, এই আইনটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের বিরোধী। গত এক মাস ধরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী শাহিনবাগের কাছে প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। এর বেশির ভাগই হিজাব ও বোরকা পরা মুসলিম নারী। শাহিনবাগ হলো মুসলিমপ্রধান কর্মজীবীদের এলাকা। সেখানে যে সড়কে তারা অবস্থান নিয়েছেন তা স্যাটেলাইট শহর নয়ডার সঙ্গে দিল্লিকে সংযোগ করেছে। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন বিল নিয়ে অনলাইন আল জাজিরায় ১৫ই জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে সাংবাদিক বিলাল কুচে আরো লিখেছেন, গত মাসে ভারতে পাস হয় নাগরিকত্ব সংশোধন আইন।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মুসলিম বাদে ধর্মীয় নির্যাতিত যেসব সংখ্যালঘু ভারতে গিয়েছেন তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য এই আইন করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে এসব মানুষ প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছেন। তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে যোগ দিচ্ছেন অনেক উদারপন্থি ভারতীয়। তারা বলছেন, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণের মাধ্যমে ভারতীয়দের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চাইছে হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।

মঙ্গলবার আল জাজিরাকে ৮২ বছর বয়সী বিলকিস বলেছেন, ২৯তম দিনের মতো আমি এই অবস্থান ধর্মঘটে অবস্থান নিয়েছি। আমি এখানেই খাবার খাই। এখানেই নামাজ আদায় করি। ঘুমাইও এখানে। পোশাক পরিবর্তন বা গোসলের জন্য শুধু আমি বাড়ি যাই। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার আগেই জন্মগ্রহণ করেছেন বিলকিস। তিনি বলেছেন, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো প্রতিবাদ বিক্ষোভে যোগ দেন নি। এটাই তার প্রথম প্রতিবাদ। ওই প্রতিবাদ বিক্ষোভস্থলে রশি ও স্টিলের বেড়ার পাশে অবস্থান নিয়েছেন পুরুষরা। তারা একসঙ্গে স্লোগান দিচ্ছেন- সিএএর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করো। আমরা স্বাধীনতা চাই। বৈষম্য থেকে স্বাধীনতা চাই।

ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দিল্লিতে মারাত্মক ঠাণ্ডা এখন। সেই হিম ঠান্ডাও এসব বিক্ষোভকারীকে বিরত রাখতে পারে নি। সেখানে ছোট আকারে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। তার একেবারে কাছেই কয়েকজন বৃদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে বসেন বিলকিস। মঞ্চের পিছনে ঝুলানো আছে একটি বড় ব্যানার। তাতে রয়েছে ভীমরাও আম্বেদকরের ছবি। ভীমরাও আম্বেদকার হলেন ভারতীয় সংবিধানের প্রণেতা ও দলিত সম্প্রদায়ের আইকন। ওই মঞ্চে বিপ্লবী কবিতা আবৃত্তি করা হয়, অধিকারকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন বিলকিস। তিনি বলেন, মোদি সরকার এই যে নতুন আইন করেছে এর বিরুদ্ধে আমরা রাস্তায় নেমেছি। এই আইন করা হয়েছে মুসলিমদেরকে টার্গেট করে। আমাদের সন্তানদেরকে তারা বন্দিশিবিরে পাঠাবে। বিলকিস যখন এভাবে কথা বলছিলেন তখন তার গা ঘেঁষে বসা অন্য নারীরা সম্মতি জানিয়ে মাথা দোলাচ্ছিলেন। আরেকজন বৃদ্ধা সাবা খাতুন বলেছেন, আমরা প্রতিবাদ করছি ন্যায়বিচার, আমাদের অধিকারের জন্য। এই আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে সরবো না।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ইউনিভার্সিতে পুলিশি অভিযান ও শিক্ষার্থীদের মারধরের পর ১৬ই ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে শাহিনবাগে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ। উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের প্রতিবাদে জামিয়াতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশ প্রবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। প্রহার করে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের। পুলিশি এই নির্যাতনের ভিডিও অসংখ্যবার শেয়ার করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। এই আইনের বিরুদ্ধে গত মাসে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর বেশির ভাগই মুসলিম। উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশে মারা গেছেন সবচেয়ে বেশি মানুষ। শাহিনবাগের বিক্ষোভ শুরু হয় অল্প কয়েকজন পুরুষ ও মহিলার সমন্বয়ে। কিন্তু তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে দিল্লির অন্য এলাকার মানুষ যোগ দিতে থাকেন। ফলে এই বিক্ষোভ বিশাল আকার ধারণ করে। শাহিনবাগ বিক্ষোভকে এখন তুলনা করা হচ্ছে যন্তরমন্তরের সঙ্গে। যন্তরমন্তর হলো ভারতীয় পার্লামেন্টের খুব কাছে প্রতিবাদের একটি স্থান।

দিল্লি থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে আলীগড়ের বাসিন্দা শাহিজা ফাতেমা (৪৪) আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছেন শাহিনবাগে। কিন্তু তিনিও বিক্ষোভ শুরু করেছেন। তারপর থেকে প্রতিদিন তিনি এতে যোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, এসব নারী ঘরে ফিরে যাওয়ার আগে তাদের অধিকার চান। তাই তাদের সঙ্গে যোগ দেয়াকে আমি উত্তম হিসেবে দেখি। প্রথমে এই বিক্ষোভ অল্প কিছু মুসলিম শুরু করলেও তা এখন মুসলিমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন ধর্মের শত শত মানুষ প্রতিদিন এতে যোগ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, তারা দেশ ও দেশের সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

এখানেই নারীদের সীমানা আলাদা করে দেয়া হয়েছে। এর পাশেই যুবক ও ছেলেমেয়েরা দলবদ্ধ হয়ে সিএএ এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। তাদের অনেকে ইন্ডিয়া গেটের রেপ্লিকার কাছে গিয়ে সেলফি তুলছে। গত সপ্তাহে এই রেপ্লিকা স্থাপন করেছেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভের স্থান থেকে রাস্তার পাশে ব্যানার টানানো হয়েছে। তাতে লেখা ‘সিএএ প্রত্যাখ্যান কর, এনআরসি প্রত্যাখ্যান কর’, ‘একতাই বল, ধর্মীয় বিশ্বাসেই ঐক্য’। আবার বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন ‘হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান ভাই ভাই’। বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক সম্বলিত প্লাকার্ড পোস্টার শোভা পাচ্ছে। শ্যামা খান (২৪) বলেছেন, এই বিক্ষোভ শুধু মুসলিমদের নয়। এই বিক্ষোভ সবার, যারা ভারতের সংবিধান ও তা রক্ষায় বিশ্বাস করেন।

বিক্ষোভের কারণে বেশ কিছু দোকান অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবু দোকানিরা বিরক্ত নন। মোবাইল বিক্রির দোকানের মালিক জাকির বলেছেন, এই বিক্ষোভে অবশ্যই আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও আমরা সমর্থন দিচ্ছি। আমরা দোকান খুলবো না। আর্থিক ক্ষতি মেনে নিতে প্রস্তুত আমরা। কারণ, এই বিক্ষোভ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের পরিচয় ও মর্যাদার বিষয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর