× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার

বুলবুলের ক্ষত এখনো শুকায়নি কয়রার বহু গ্রামে

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, ৭:৪৭

খুলনার কয়রা উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে খানিক দূরে মদিনাবাদ পুরোনো লঞ্চঘাট। এক সময় এখানে জমজমাট ঘাট ছিল। লঞ্চ আসতো বিভিন্ন এলাকা থেকে। সেই ঘাটটি বহু আগে কপোতাক্ষের স্রোতে হারিয়ে গেলেও এখনও এলাকাটিকে সবাই লঞ্চঘাট হিসাবেই চেনে। লঞ্চ ঘাটের রাস্তাধরে একটু সামনে অগ্রসর হতেই চোখে পড়ে ভাঙা একটি ঘর ছাউনিসমেত পড়ে আছে মাটিতে।

স্থানীয়রা জানালো গত ১০ নবেম্বর ঘরটি ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ভেঙে পড়ে। ঘরের লোকজন কোথায় থাকে? জানতে চাইলে একজন হাতের ইশারায় পাসের টিনের ঘরটি দেখিয়ে দিলেন। জানাগেল ভাঙা ঘরটির মালিক ভ্যান চালক ইলিয়াস গাজী। বুলবুলের তান্ডবে ঘর ভেঙে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে থাকছেন পাসের বাড়ির ইউনুস গাজীর ঘরে।
ভ্যান চালক ইলিয়াস গাজীর স্ত্রী বিলকিস বেগমের সাথে কথা হলে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, স্বামী-স্ত্রী অন্যের বাড়িতে বসবাস করছি। প্রশাসন আমাদের দেখতে পায় না। আজ পর্যন্ত কোনও সরকারি সাহায্য পাইনি আমরা।
কয়রা সদর থেকে দক্ষিণ দিকে দুই কিলোমিটার গেলেই গোবরা গ্রাম। কপোতাক্ষের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা গ্রামটির বেড়িবাঁধের গা ঘেঁসে আবদুল জলিলের ঘরটি এখনও বুলবুলের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। ঘরের উপর গাছ উপড়ে ভেঙে পড়ে আছে চালের কিছুটা অংশ আর মাটির দেয়াল। ঝড়ের দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অর্থসংকটে ঘরটি আজও মেরামত করতে পারেননি ঘরটির মালিক আব্দুল জলিল। ভাঙা ঘরটির একটি অংশে শীতের মধ্যে ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে কোনোমতে বাস করছেন তিনি।

সর্বনাশা বুলবুলে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের হরিহরপুর এলাকার বামাচরণ মন্ডলের সর্বস্ব কেড়ে নেয়ায় পরিবার নিয়ে পার্শবর্তী উপজেলা পাইকগাছায় শশুরবাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তার আরেক ভাই নিত্যনন্দ মন্ডল বাপ-দাদার পুরনো ভিটে ছেড়ে দিয়ে মাথা গুজে আছে বেড়িবাঁধের ধারে। শত চেষ্টা করেও সব হারানো এই পরিবারের পক্ষে এখনো ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। নিত্যনন্দ মন্ডল জানালেন, বাড়ি-ঘর সব নষ্ট। মাটির উপরে কোনও মতে ছেঁড়া ত্রিপল ঢাকা দিয়ে প্রায় অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

উপজেলাটির সর্বদক্ষিণের ইউনিয়নটির নাম দক্ষিণ বেদকাশী। এই ইউনিয়নের সর্বদক্ষিণে শাকবাড়িয়া নদী তীরবর্তী এলাকার নাম গোলখালী। গোলখালী এলাকার মাজেদা বেগম ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রলয়ঙ্করী এ ঝড়ে তার ঝুপড়ি ঘরটি উড়ে গেছে।  লন্ড-ভন্ড- হয়ে গেছে মাথা গোঁজার ঠাই। নিরূপায় হয়ে মাজেদা বেগমকে ঠাই নিতে হয়েছে প্রতিবেশির পোল্ট্রি মুরগির খামার ঘরের এক কোনে। মুরগির বিষ্ঠার দূর্গন্ধে যেখানে স্বাভাবিক মানুষের দাড়িয়ে থাকা দায়, সেখানে রাত যাপনও করতে হয় তার। টাকার অভাবে নিজের ঘরটি মেরামত করতে পারেনি এখনও। কোনরকম সহযোগিতাও জোটেনি কপালে। বুলবুলের ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ওই বৃদ্ধা।

বুলবুলের পর সুন্দরবনঘেঁষা এই উপজেলার শত শত মানুষের দিন কাটছে এভাবেই। প্রচন্ড শীতের মধ্যে জবুথবু হয়ে কোনো রকমে দিন পার করছেন তাঁরা। আর্থিক সংগতি না থাকায় একটু সাহায্যের আশায় তাকিয়ে আছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিকে। ঝড়ের পর কিছু কিছু পরিবার আর্থিক সাহায্য পেলেও অধিকাংশই থেকে গেছে এর বাইরে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, দূর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায়  উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সরকারিভাবে ২ লক্ষ ৫০হাজার টাকা, ৫০মেট্রিক টন চাল ও  ৭০০ প্যাকেজ শুকনা খাবার বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাতক্ষনিকভাবে বিতরণ করা হয়েছিল। এছাড়া পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৫০ বান্ডেল টিন ও ৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। সেগুলিও ইউনিয়ন অয়িজ বন্টন করে দেয়া হয়েছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসনের সহযোগিতা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বিষয়টি শিকার করে উপজেলার এই নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কিছু ঘর অথবা গৃহ নির্মাণের জন্য  আর্থিক সহায়তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদনও করা হয়েছ। সাহায্য পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর