× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার

বেনাপোল স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে ধস

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে | ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, ৮:০৪

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। সূচক প্রতি বছরই নিম্নমুখী। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দ্বৈতনীতির কারণে ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অর্জিত হচ্ছে না লক্ষ্যমাত্রা। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এই স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। যা অর্থ বছর শেষে প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে দাবি বন্দর সংশ্লিষ্টদের।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামো সুবিধার ঘাটতি আর অনিয়মের কারণে রাজস্ব আদায়ের এই পরিণতি। তবে এটি শিগগিরই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে দাবি কাস্টমস কমিশনারের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৪২৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫৫৩ কোটি ৮০ লাখ, আগস্টে ৫০৬ কোটি ২৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৪০৫ কোটি ১০ লাখ, অক্টোবরে ৪২৮ কোটি ৩১ লাখ ও নভেম্বরে ৫৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে গত পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র এক হাজার ২৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫২ শতাংশ। ফলে অর্থ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি পড়েছে এক হাজার ১৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। একইভাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ১৪৫ কোটি টাকা এবং এর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ফলে প্রতি বছর বেনাপোল স্থল বন্দরে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন,  বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমান পণ্য আমদানি হয়। সেই হিসাবে  বেনাপোল স্থলবন্দরে বছরে গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অধিক রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা। পণ্য আমদানির বেলায় স্থলবন্দরে চলে নানা অনিয়ম। কখনো পণ্য আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা, আবার ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য এনে সরকারের শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয়। যার সঙ্গে বন্দর সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীরা জড়িত। অভিযোগ রয়েছে বন্দরের প্রধান কর্মকর্তাও এই ক্ষেত্রে তার দায় এড়াতে পারেন না। যার ফলে  সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমান প্রতি বছর কমে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোল স্থল বন্দরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ অন্য বন্দরের তুলনায় বেশি। ফলে ব্যবসায়ীরা বেনাপোল বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। একজন আমদানিকারক বলেন, সব বন্দরে আমদানি পণ্যের ওপর রাজস্ব পরিশোধের নিয়ম এক হতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে যে পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য ধরা হয় চার ডলার, বেনাপোল বন্দরে একই পণ্যের শুল্কায়ন ধরা হয় সাড়ে চার ডলার। দেশের সব বন্দর  থেকে বেনাপোলে সবচেয়ে বেশি মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়। এ কারণে অনেক আমদানিকারক  বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে হয়ে পড়ছেন। তারা পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভিন্ন বন্দর ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া বৈধভাবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও মাত্রাতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করায় রাজস্ব ঘাটতির কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। বন্দর সূত্র জানায়, ৯০ একর জমির ওপর বেনাপোল স্থলবন্দরের অবস্থিত। ৫৯ হাজার টন ধারণক্ষমতা সম্পন্য এ বন্দরে প্রায় গড়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টন পণ্য ওঠানামা করে। দেশের ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে চলমান ১২টি বন্দরের অন্যতম বেনাপোল স্থলবন্দর। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পণ্য আমদানির জন্য দেশে যতগুলো বন্দর রয়েছে তার মধ্যে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। এ ছাড়া সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অন্য যেকোনো বন্দরের তুলনায় উন্নত। বেনাপেলা থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। সে কারণে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়। এই পথে রপ্তানির পরিমানও যথেষ্ট। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, স্থলবন্দরের ধারণক্ষমতা ৫৯ হাজার টন। কিন্তু এখানে সবসময় পণ্য থাকে কমপক্ষে দেড় লাখ টন। জায়গার অভাবে পণ্য খালাস করতে না পেরে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকে। খোলা জায়গায় পড়ে থেকে মূল্যবাণ পণ্যসামগ্রী নষ্ট হয়। ব্যবসায়ীরা বৈধ সুবিধা পেলে স্থলবন্দর থেকে বর্তমাণে সরকার যে পরিমান রাজস্ব পাচ্ছে তখন দ্বিগুণ আয় হবে। বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, পণ্য চালান খালাসে আগের চেয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়েছে। শুল্ক ফাঁকি বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করায় কিছু ব্যবসায়ী বন্দর দিয়ে আমদানি কমিয়েছেন। বিশেষ করে রাজস্ব বেশি আসে এমন পণ্য চালান কম আমদানি হচ্ছে। এতে রাজস্ব কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর