× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার

খুলনায় সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ যান

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, ৮:০৫

খুলনার সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। যানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইটবাহী ট্রলি, লেগুনা, নসিমন, ভটভটি, আলমসাধু। ট্রলি এক সময় পাবনার কৃষকরা কলের লাঙল হিসেবে ব্যবহার করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই যন্ত্রটি এখন ট্রলি নামক যান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ এই যানের নেই ইমারজেন্সি ব্রেক। ফলে প্রতিদিন ঘটছে কোথাও না কোথাও ছোট-বড় দুর্ঘটনা, ক্ষতি হচ্ছে জানমালের। কেউ মারা যাচ্ছেন আবার কেউ পঙ্গুত্ববরণ করছেন দুঘর্টনায়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর ৮ই জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে রূপসার নেহালপুর গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক মো. লুৎফর রহমানের ছেলে শিশু মো. মহিদুল ইসলাম (১০) ইটবাহী ট্রলির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়।
তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে দরিদ্র এ পিতার পক্ষে সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গুরুতর জখম হওয়া শিশুটি। গেল বছর ৩০শে জানুয়ারি সকালে রূপসা উপজেলার শিয়ালি থেকে একটি নছিমনে করে ৪ জন কৃষক তেরখাদার দিকে খড় আনতে যাচ্ছিল। উপজেলার চাঁদপুর কলেজের সামনে পেছন দিক থেকে আসা একটি ট্রলি নসিমনকে ধাক্কা দেয়। এতে শিয়ালি এলাকার তপন বৈরাগী (৫০), বিদুর হালদার (৪৫), শিপন বিশ্বাস (৩৫) ও ভোগীরত বিশ্বাস (৪২) গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শিয়ালি পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ফিরোজ ট্রলি চালককে আটক করেছিলেন। একই বছর ট্রলির ধাক্কায় রূপসার শ্রীরামপুর গ্রামের মো. শওকত শেখের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম, মো. ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. রমজান আলী, নৈহাটী গ্রামের মো. শাহজাহান শেখের ছেলের মো. রাসেলের মৃত্যু হয়েছে। রূপসার নেহালপুর গ্রামের মো. সাহেব আলীর ছেলে মো. মাইনুল যন্ত্রদানব ট্রলির ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে কোনোরকম চিকিৎসাসেবা দেয়া হলেও পরবর্তীতে তার একটি পা কেটে ফেলা হয়। অর্থের অভাবে তাকে সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রীরামপুর গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের পিতা ভ্যানচালক আব্দুল ওহাব (৬০) ইলাইপুর মোড়ে ট্রলির সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে কিছুদিন চিকিৎসাসেবা দেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এদিকে চার বছর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সারা দেশে ২২টি জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার অটোরিকশা, টেম্পো ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলা নিষিদ্ধ করেছিল। তখন বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে যেসব সড়ক-মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে, সেসব মহাসড়কের পাশে ধীরগতির যানবাহন চলায় বাইলেন নির্মাণ করা হবে। কিন্তু সেই ঘোষণা ও প্রজ্ঞাপনের চার বছর পরও মহাসড়কে অরাজকতা বন্ধ হয়নি। উদ্যোগ নেয়া হয়নি ধীরগতির থ্রি-হুইলারের জন্য বিকল্প লেন তৈরির। মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের পর বারবার চেষ্টা করেও দেশের ২২ মহাসড়কে নসিমন, করিমন, আলমসাধু, ভটভটিসহ অনিয়ন্ত্রিত যান চলা বন্ধ করা যায়নি। এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে সড়ক-মহাসড়ক। অটোরিকশা, ইজিবাইক, লেগুনা, নসিমন, টেম্পো, ভটভটি, আলমসাধু, মাহেন্দ্রাসহ অবৈধ যানবাহনের কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর