× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার

আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া বিএনপি’র ৫ ইউপি চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বাংলারজমিন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি | ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ৮:১৪

দলীয় গঠনতন্ত্র শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দল থেকে বহিষ্কার হতে পারে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত সেই পাঁচ চেয়ারম্যান। গত ১২ই জানুয়ারি বিএনপি’র ঘাটাইল উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আ.খ.ম রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত কেন দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না- এই মর্মে জানতে চেয়ে পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্ত পাঁচ চেয়ারম্যান হলেন- উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইখলাক হোসেন খান শামীম, উপজেলা বিএনপি’র সদস্য ও দিঘলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, দিগড় ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও দিগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, উপজেলা বিএনপি’র সদস্য ও সন্ধানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, ধলাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এজহারুল ইসলাম মিঠু ভূইয়া। এছাড়াও উপজেলা বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহীন, উপজেলা বিএনপি’র সদস্য ও দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেনকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এই নোটিশের পরপরই ঘাটাইল উপজেলার বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন দলীয় বিরোধী কার্যকলাপে এসব নেতা দল থেকে বহিষ্কার হতে পারেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আ.খ.ম রেজাউল করিম বলেন, বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যানসহ সাতজনকে দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যকলাপের কারণে দল থেকে কেন বহিষ্কার করা হবে না- তা জানতে চেয়ে সাত দিনের মধ্যে তাদের কাছে জবাব চেয়েছি। তিনি বলেন, গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব চেয়ারম্যান বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
এখনও তারা বিএনপি’র সদস্য পদে বহাল রয়েছেন। তাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন্ন হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, দল থেকে বহিষ্কারই তাদের একমাত্র শাস্তি। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, দিগড় ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও দিগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন বলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ আমরা পেয়েছি তবে, জবাব দিতে আমরা রাজি নই। আমরা তো বিএনপির দল থেকে বের হয়েই গেছি, বিএনপির নীতি আদর্শ ভাল লাগে না, আওয়ামী লীগের আদর্শ ভালো লেগেছে তাই আমরা আওয়ামী লীগে যোগদান করেছি। তাদের নোটিশের জবাব দিতে আমি রাজি নই। তারা দল থেকে বহিষ্কার করলেও আমাদের আপত্তি নেই। উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইখলাক হোসেন খান শামীম বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না, আরও যাদেরকে নোটিশ দেয়া হয়েছে তাদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি জানানো হবে। উল্লেখ্য, গত ইউপি নির্বাচনে উপজেলার চৌদ্দটি ইউনিয়নের ছয়টি ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি’র সমর্থনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ তৃণমূলের প্রভাবশালী অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তাদের যোগদান নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ঘাটাইল উপজেলা বিএনপি মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে একাধিক দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল থেকে তাদেরকে কেন বহিষ্কার করা হবে না এই মর্মে পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যানসহ সাত জনকে নোটিশ প্রদান করা হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর