× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার

চীনের নতুন ভাইরাস ছড়াচ্ছে মানুষের মাধ্যমে ঢাকায় সতর্কতা

প্রথম পাতা

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ | ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ৯:৩২

চীনে শনাক্ত হওয়া নতুন ভাইরাসে বাংলাদেশও ঝুঁকিতে রয়েছে। নতুন রোগ ‘নোবেল করোনা ভাইরাস’ চীনসহ আরো তিনটি দেশে চিহ্নিত হয়েছে। অন্য দেশগুলো হলো জাপান, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়া। সমপ্রতি চীনের হোবে প্রদেশের হুওয়ান শহরে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত (নিউমোনিয়া) এ রোগটি প্রথম চিহ্নিত হয়। ইতিমধ্যেই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে দু’জনের মৃত্যু ও কমপক্ষে দুই শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রথমবারের মতো ভয়াবহ নোবেল করোনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষের দেহে সংক্রমণের কথা স্বীকার করেছেন চীন সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান। ফলে এই ভাইরাস দ্রুততার সঙ্গে এবং ব্যাপকভিত্তিতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এটা বাজার থেকে ছড়িয়েছে।
সেখানে সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হতো। এছাড়া ওই বাজারে বিড়াল, কুকুর, সাপ বিক্রি হচ্ছিল। এই নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগামীকাল জেনেভায় জরুরি বৈঠকে ডেকেছে।

বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কারণে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত ফ্লাইটে যাত্রী যাতায়াত করায় নতুন ধরনের ভাইরাসজনিত এ রোগটি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে সতর্কতামূলকভাবে এখনই ‘নোবেল করোনাভাইরাস’ এর সংক্রমণরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, সমপ্রতি চীনের হুওয়ান শহরে দেখা দেয়া নতুন ধরনের ভাইরাসজনিত ‘নোবেল করোনাভাইরাস’ এর সংক্রমণরোধে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এই রোগ এখন শুধু চীনের এক প্রদেশে নয়, বহু প্রদেশে এবং চীন ছাড়া আরো তিনটি দেশে এই ভাইরাস চিহ্নিত হয়েছে। অন্য দেশগুলো হলো জাপান, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়া। তিনি বলেন, এ ভাইরাস পশু থেকে ছড়াচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এটা বাজার থেকে ছড়িয়েছে। সেখানে সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হতো। এছাড়া ওই বাজারে বিড়াল, কুকুর, সাপ বিক্রি হচ্ছিল। তিনি বলেন, চীন ও হংকং থেকে ফ্লাইটযোগে নিয়মিত যাত্রী আসা যাওয়া করায় এ রোগে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাই এখন থেকেই চীন ও হংকংয়ের ফ্লাইটে আসা যাত্রীদেরকে বিশেষ ধরনের স্বাস্থ্যকার্ড সরবরাহ করার মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যাসহ নতুন এ রোগের উপসর্গ রয়েছে কি না, তা যাত্রীদের কাছ থেকে জানার উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের চিকিৎসকদেরকে নতুন এ রোগটি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি জনগণের মাঝেও এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, এই রোগের লক্ষণ হলো জ্বর, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শ্বাস কষ্ট হওয়া। ১৪ দিনের মধ্যে যাত্রীদের এধরনের উপসর্গ দেখা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের চিকিৎসকদেরকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি আরো বলেন, এই রোগ সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছু জানা নেই। চিকিৎসক, আইসিইউতে যারা আছেন, তাদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই রোগতত্ত্ববিদ। এছাড়া ল্যাবরেটরির সক্ষমতা উন্নয়ন করার প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ১০ই জানুয়ারি চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য নতুন এ রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে অন্তর্বর্তীকালীন গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে। গাইডলাইনে কীভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে, নমুনা পরীক্ষা করা, রোগীর চিকিৎসা, স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে সংক্রমণ প্রতিরোধ, চিকিৎসাসামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা ও নতুন এ ভাইরাসটি সম্পর্কে জনসচেতনতার ওপর গুরত্বারোপ করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চীন থেকে সরাসরি ফ্লাইটে আসা যাত্রীদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য অধিপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অধিদপ্তরের সংক্রমণ ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার উদ্যোগে এ রোগটি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি ওরিয়েন্টশেন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকারের আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা মানবজমিনকে বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত ফ্লাইটে যাত্রী যাতায়াত হয়। একারণে বিমানবন্দরে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সিভিল এভিয়েশনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, চীনের রহস্যজনক নতুন ভাইরাস সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (এসএআরএস) ঠেকাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার চীন থেকে আগত যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে। চীনের নতুন ভাইরাস যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে, সেজন্য নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার চীন থেকে আসা তিনটি সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের ফিজিক্যাল স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

বিমানবন্দরে স্থাপিত থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে আসার সময় সংকেত দিলে ওই যাত্রীকে পরীক্ষা করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সাধারণত কারো শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলেও থার্মাল স্ক্যানার সংকেত দেয়। এ হিসেবে ওই যাত্রীকে বিমানবন্দরে কোয়ারেনটাইন রুমে রেখে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেয়া হবে। এরপর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ওই যাত্রীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা-চীন-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, চায়না ইস্টার্ন ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ছয়টি ফ্লাইট যাওয়া-আসা করে। এসব এয়ারলাইন্স যোগে প্রতিদিন চীন ও বাংলাদেশে বেশ কিছু যাত্রী আসা যাওয়া করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীনে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্লেন সংস্থাকে এ সম্পর্কে অবহিতও করা হয়েছে।

চীন সরকারের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি খবরে বলেছে, এসএআরএস একটি নিউমোনিয়া-সংশ্লিষ্ট ভাইরাস। এতে চীনা দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া হুয়ান শহরে এই ভাইরাসে ৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে গত শুক্রবার লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশনস ডিজিজ অ্যানালাইসিসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ই জানুয়ারি পর্যন্ত হুয়ানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। যদিও চীন সরকার এই ভাইরাসের আক্রমণ ও বিস্তার রোধে বিভিন্নভাবে কাজ করছে।

করোনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা: প্রথমবারের মতো ভয়াবহ করোনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষের দেহে সংক্রমণের কথা স্বীকার করেছেন চীন সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান। এর ফলে এই ভাইরাস দ্রুততার সঙ্গে এবং ব্যাপকভিত্তিতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় মিডিয়া বলেছে, শ্বাসযন্ত্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ টিমের প্রধান ঝং নানশান বলেছেন, গুয়াংডং প্রদেশে একই পরিবারের আরো দু’জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। চায়না ডেইলি পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, মেডিকেল বেশ কিছু কর্মীর দেহে এই ভাইরাসের পরীক্ষায় পজেটিভ পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণায় আতঙ্ক আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

এখন পর্যন্ত কমপক্ষে দুই শতাধিক মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন অবস্থায় চীনা নেতারা এই প্রাদুর্ভাব থামাতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে সরকারের প্রতি। প্রথমবার এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং। তিনি বলেছেন, সম্প্রতি উহান এবং অন্যান্য স্থানে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস নিউমোনিয়ার বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। জনগণের জীবন ও তাদের স্বাস্থ্যের বিষয়কে সবার উপরে স্থান দিতে হবে দলীয় কমিটি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে। আগামী ২৫ শে জানুয়ারি চীনে চীনা নতুন বছর। এ উপলক্ষ্যে সেখানে উৎসবের আমেজ দেখা দেয়। লাখ লাখ চীনা এ সময় ভ্রমণ করেন। ফলে চীন ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ডিসেম্বরে। প্রথমে এটা দেখা গিয়েছিল উহানের ফুড মার্কেটে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
MUHA. RAUF HOSSEN
২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, ৭:৫৯

বিমান বন্দরে আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।

Md.Ahsanul Moyeen
২১ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার, ৬:৩৮

চীন ভ্রমন করে আসা লোকদের কি ভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে তার প্রতিবেদন সাংবাদিকদের নিকট থেকে জাতীয় পত্র পত্রিকায় প্রকাশের আশা করছি।

অন্যান্য খবর