× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার

ভুট্টা চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছে কৃষক

বাংলারজমিন

আবদুল জলিল, (কাজিপুর) সিরাজগঞ্জ থেকে | ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৭:৩৭

যমুনা নদীবিধৌত সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার কৃষকেরা এখন ভুট্টা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গতবার ভুট্টা চাষে লাভের মুখ দেখায় এবার তারা ব্যাপকভাবে ভুট্টাচাষ শুরু করেছেন। ভাঙন জনপদের এই উপজেলায় প্রতিবছর হাজার হাজার আবাদি জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষক হয়ে পড়েন দিশাহারা। সর্বস্ব খুইয়ে এক সময়ের জোতদার হয়ে পড়ে দিনমজুর। মহাজনের পাওনা পরিশোধে বিক্রি করতে হয় হালের বলদ।  এ অবস্থার উত্তরণে উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে পাল্টে যাচ্ছে কৃষকের জীবন-জীবিকা ও চাষাবাদের ধরন। নদীকে শাসন করে তার উর্বর পলিমাটিতে চলছে সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদ।
উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশাল চরাঞ্চলসহ বিড়া অঞ্চলে ভুট্টা ফসলকে টার্গেট করে চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন কাজিপুর উপজেলার কৃষি অফিস।  কৃষকদের ভুট্টা চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করতে গত বছর কৃষি অফিস একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর ফলে এবার গতবারের চেয়ে চারশ’ হেক্টর জমি বেড়ে ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চারশ’ থেকে সাড়ে চারশ’ মণ।  

এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে ইতিমধ্যে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় বিভিন্ন প্রকল্প, পুষ্টি প্রকল্প, বীজ ও বালাইনাশক সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। বিড়া ও  দুর্গম চরাঞ্চলে ভুট্টাচাষি কৃষক দল গঠন ও উৎপাদিত ভুট্টা সঠিক মূল্যে বিক্রয়ের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কৃষক কন্ট্রাক্টর তৈরি, নতুন জাতের ভুট্টার প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, দলভুক্ত কৃষক ও কন্ট্রাক্টরদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও সুষম সারের ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান, বালাই দমনে কোয়ালিটি সমৃদ্ধ বালাইনাশক এবং হাইব্রিড জাতের বীজের সরবরাহ নিশ্চিতকরণের মতো কাজ করে যাচ্ছেন তারা।  ফলে কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বছর রাজস্ব খাতের মাধ্যমে ১২০ টি এবং এনএটিপি’র মাধ্যমে ৩০ নতুন ও হাইব্রিড জাতের ভুট্টার মাঠ প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারদ্বয় ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং কৃষকের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছেন। মানসম্মত বীজ সরবরাহ করতে বিভিন্ন হাইব্রিড বীজ আমদানিকারক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। কৃষকদের মাঝে  গণসচেতনতা সৃষ্টির  লক্ষ্যে আইসিএম/আইপিএম/ আইএফএমএসএস এর মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ চলছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকেরা এবার  কনক-৫১ এবং সিনজেনটার ৭৭২০ জাতের ভুট্টার বীজ রোপণ করেছেন।  কৃষি অফিসের তথ্যমতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে  প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কৃষক ও কন্ট্রাক্টর কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং  ৪৫টি প্রদর্শণী প্লট স্থাপন করা হয়। ওই অর্থবছরের রবি মৌসুমে ৫ হাজার ৪৮৫ হে. জমি চাষের আওতায় আসে এবং গড় ফলন হয় ৮.৮৫ টন/হে.। ভুট্টার মোট ফলন হয় ৪৮ হাজার ৪৮৭ মে.টন।  

২০১৫-১৬ মৌসুমে ৬ হাজার ৫০০ হে. জমিতে ভূট্টা চাষ করা হয়। সর্বশেষ গত বছর ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষকগণ কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন ফিড উৎপাদনকারী কোম্পানির কাছে শুকনো ভুট্টা গড়ে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছে। আর ভু্‌ট্টার চাহিদাও রয়েছে বেশ। ফলে অন্যান্য ফসলের চেয়ে এ ফসলে লাভের পরিমাণ বেশি।

উপজেলার নতুন মাইজবাড়ী চরের ভুট্টাচাষি জহুরুল ইসলাম জানান, ‘গতবার কৃষি স্যারদের পরামর্শে ভুট্টার চাষ করে আর সব ফসলের চেয়ে বেশি টাকা পাইছি। এবারও ভুট্টার চাষ করছি।’                 
মনসুরনগরের চাষি মানিক মিয়া জানান, ‘ফলন ভালো পাই। পাশাপাশি ভুট্টার কোনো কিছুই ফেলে দিই না। এর পাতা গরুকে খাওয়াই, ডাঁটা/কাণ্ড ও মোচা লাকড়ি হিসেবে বাজারে বিক্রি করি।’ কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম জানান, ‘কাজিপুরের যমুনাবিধৌত মাটি ভুট্টাচাষের জন্য উপযোগী। ফলনও ভালো। নিবিড় প্রশিক্ষণে কৃষকেরা ভু্‌টাচাষে লাভবান হচ্ছে।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর