× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার

ফের অস্থির চালের বাজার

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৯:২০

আবারো অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের চালের বাজার। বিশেষ করে খুচরা বাজারে কোনো অজুহাত ছাড়াই প্রকারভেদে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) দাম বেড়েছে ২০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, গত দুই/তিন দিন ধরে বাড়তি দাম রাখছেন মিল মালিকরা। এ কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। এজন্য উত্তরবঙ্গের রাইস মিল মালিক ও চালের করপোরেট কোম্পানিগুলোই দায়ী। অন্যদিকে মিল মালিকরা বলছেন, সরকারের আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হওয়ায় ধানের দাম এখন কিছুটা বাড়তির দিকে। এরই ধারাবাহিকতায় দাম বেড়েছে চালেরও।
আর ক্রেতারা বলছেন, এক মাসের মধ্যে দুই ধাপে চালের দাম বাড়লেও এ নিয়ে কোনো তদারকি নেই।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরায় বস্তাপ্রতি চালের দর বেড়েছে ২০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনিগুঁড়া বা পোলাও চালের দর। কেজিপ্রতি চিনিগুঁড়া চালের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা পর্যন্ত। এসব বাজারে এক সপ্তাহ আগে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪,৭০০ টাকার মধ্যে। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে চিনিগুঁড়া চাল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২৫০ টাকায়।
অন্যদিকে মাত্র তিনদিন আগে খুচরা বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ২২০০ টাকা, আটাশ চাল ১৭০০ টাকা, বিভিন্ন প্রকার নাজির চাল প্রতিবস্তা ২১০০ টাকা থেকে ২৮০০ টাকায়। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ২,৪৫০ টাকা, মিনিকেট (পুরনো) ২৫০০ থেকে ২,৫৫০ টাকা, আটাশ চাল ১,৮৫০ টাকা, বিভিন্ন প্রকার নাজির চাল প্রতিবস্তা বিক্রি হচ্ছে ২২৫০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

হঠাৎ করে চালের দাম বাড়া নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। আর বিক্রেতারা বলছেন, মিলকল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মিল থেকে বাড়তি দামে চাল কেনায় তাদের বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।
হাবিবুর নামে রাজধানীর মালিবাগ বাজারের এক ক্রেতা বলেন, এখন ব্যবসায়ীরা সব পণ্যের দর-দাম ঠিক করে দেন। আমরা বাধ্য হয়েই তাদের থেকে মালামাল সংগ্রহ করি। মাত্র চারদিন আগে যে চাল ৪৪ টাকা কেজি দরে কিনেছি এখন সেটার দাম হয়ে গেলো ৫০ টাকা। এ যেন মগের মুল্লুক!

একই কথা জানালেন, রামপুরা বাজারের ক্রেতা বাবুলি। তিনি বলেন, এ নিয়ে এক মাসের মধ্যে দু’বার চালের দাম বাড়লো। সরকারিভাবে বাজার তদারকি না করলে শুধু চাল কেনো সব কিছুর মূল্য নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে ব্যবসায়ীদের হাতে। যখন প্রথমে দাম বাড়ানো হলো সে সময়েই পদক্ষেপ নেয়া হলে এখন আবার দাম বাড়তো না।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা দুষছেন মিলকল মালিকদের। তাদের মতে, বাজারে চালের বিক্রি কম হলেও অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে চালের। তাছাড়া বিভিন্ন নতুন চাল বাজারে আসতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই।

এ বিষয়ে কাওরান বাজারের চাল বিক্রেতা ও সিরাজ অ্যান্ড সন্সের সত্বাধিকারী খোকন বলেন, তিন/চার দিনের ব্যবধানে চালের দাম বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৫৫০ টাকা বেড়েছে। এখন চালের বিক্রি কম হলেও মিলকল মালিকরা এ দাম বাড়িয়েছেন। সেখান থেকে বেশি দামে চাল কেনায় আমাদের বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মিল মালিকরা চালের দাম কমালে আমাদের এখানেও দাম কমে আসবে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, এক সপ্তাহ আগে এখানে জিরাশাইল সেদ্ধ চাল বিক্রি হয়েছিল বস্তাপ্রতি ২ হাজার ১০০ টাকায়। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া মিনিকেট (সেদ্ধ) বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৭৫০ টাকা, স্বর্ণা (সেদ্ধ) ১৩০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪৮০, মোটা (সেদ্ধ) ২৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ২৫০, গুটি (সেদ্ধ) ১০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়, বাসমতী (সেদ্ধ) ২০০ টাকা বেড়ে বস্তাপ্রতি ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের এ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কারসাজি রয়েছে বলে মনে করছেন পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ৬ লাখ টন ধান ও ৪ লাখ টন চাল কিনবে সরকার। এর মধ্যে সেদ্ধ চাল কেনার লক্ষ্য রয়েছে ৩ লাখ টন। আতপ চালের ক্রয় লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার টন। এক্ষেত্রে প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহমূল্য ধরা হয়েছে ২৬ টাকা করে। এছাড়া কেজিপ্রতি সেদ্ধ চাল ৩৬ টাকায় ও আতপ চাল ৩৫ টাকায় সংগ্রহ করা হচ্ছে। ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এ চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অন্যদিকে, নভেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া ধান সংগ্রহ অভিযানও একই দিনে শেষ হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
tawab
২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৩:১৬

সরকারি চাকরিজীবীদের সরকার যেভাবে বেতনভাতা বাড়িয়ে দিয়েছে তাতেকরে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, শুধু আমাদের মতো খেটেখাওয়া মানুষের অসুবিধা হবে, যাদের কথা সরকার কোনদিনও ভাববেনা। যদি ভাবতো তবে অবশ্যই কঠোরভাবে বাজার মনিটরিংয়ের ওপর জোর দিতো।

অন্যান্য খবর