× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার

‘খুবই আবেগময় একটি সফর’

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, ৮:৫৯

২০০৯-১০ মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার তারকা লিওনেল মেসির পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে আলোচনায় আসেন হুলিও সিজার। ওই ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছিল তার দল ইন্টার মিলান, পরে হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। একই মৌসুমে ইউরোপিয়ান ট্রেবল জেতার গৌরবও অর্জন করেছিল ইন্টার মিলান। যাতে বড় অবদান ছিল ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক হুলিও সিজারের। ক্যারিয়ারজুড়েই পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতার কারণে বিশেষ পরিচিত ছিলেন সিজারের। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভূতুড়ে পরাজয় ব্যতীত উজ্জ্বল ক্যারিয়ারই ছিল তার। সেই সিজার সংক্ষিপ্ত সফর করে গেলেন বাংলাদেশে। ৩২ ঘণ্টার এই সফরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাজ্ঞ অর্পণসহ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের বাংলাদেশ-বুরুন্ডির সেমিফাইনাল মাঠে বসে উপভোগ করেন সাবেক ব্রাজেলিয়ান তারকা।
এর গতকাল বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিয়ারের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলেন ধরেন সিজার। আগের দিন সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছে গতকাল সকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিজার। সেখানে রক্ষিত মন্তব্য খাতায় নিজের নাম এবং মন্তব্য লেখেন তিনি। এরপর সেখানে লেখেন, It was a pleasure to be here. Thanks a lot for having nice trip (or something lyk that)। এরপর চলে আসেন মতিঝিলের বাফুফে ভবনে। গ্লাভস-বল হাতে নেমে পড়েন বাফুফের আর্টিফিশিয়াল টার্ফে। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের আশপাশে থাকা গোলরক্ষকদের নিয়ে করেন হালকা ট্রেনিং সেশন। এরপর বাফুফের নারী দলের ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের করা শট ঠেকাতে গোলপোস্টের সামনে দাঁড়ান সিজার। প্রথমে শট নেন জুনিয়র দলের গোলরক্ষক জবা। তার শট সহজেই ঠেকান সিজার। গোলরক্ষকদের বেশ কয়েকটি শট ঠেকানোর পর একদম শেষদিকে আসেন জাতীয় নারী দলের খেলোয়াড় সিরাত জাহান স্বপ্না। তার প্রথম শটেই বাজিমাত । মাটি কামড়ানো শটে পরাস্ত করেন সিজারকে। বিকালে সংবাদ সম্মেলনে সিজার বলেন, এই সফরের উদ্দেশ্য জাতির পিতাকে সম্মান জানানো। খুবই আবেগপূর্ণ একটি সফর। ফিফা সভাপতি এদেশের ফুটবলের খোঁজ রাখেন। বিশেষ করে নারী ফুটবলের উন্নয়ন দেখতে চান। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-০ গোলে পরাজয়ের পর ড্রেসিং রুমের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, কেউই কথা বলছিল না। একদমই চুপ হয়ে গিয়েছিল সবাই। অনেকেই কাঁদছিল। আমি কাঁদছিলাম অঝোরে। এমনকি সান্ত্বনা দেয়ারও কেউ ছিল না। অনেকটা সময় পরে আমাদের ফেডারেশনের সভাপতি এসে সান্ত্বনা দেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে এমন কিছু হতেই পারে। এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবতে হবে। আমাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল পরদিন ট্রেনিং গ্রাউন্ডে যাওয়া। কারণ, তখনো নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাকি। মাথা উঁচু করে সেখানে যাওয়াটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের গোলরক্ষকদের নিয়ে সিজার বলেন, আমার উচ্চতা ১ দশমিক ৮৬ মিটার। সেই তুলনায় এখানকার গোলরক্ষকরা খাটো। আমি তাদেরকে বলেছি, গোলরক্ষক হতে হলে লম্বা না হলেও হবে। তবে পায়ে শক্তি থাকতে হবে। আমি তাদের মুভমেন্ট দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। লাঞ্চে বাংলাদেশের জাতীয় গর্ব স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। তারা ইতিহাস লিখেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন। এমন ফুটবলারদের নিয়ে পুরো জাতিই গর্বিত। এবার বাড়িতে গিয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের গল্প বলতে পারবো। তাদের বীরত্বের কথা বলতে পারবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর