× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার

পোস্টারের সংস্কৃতি বদলাবেন আতিক

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, ৯:০৯

নির্বাচন সামনে এলেই প্রচারণায় ব্যবহৃত সামগ্রী হিসেবে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে যায় পুরো শহর। নষ্ট হয় শহরের সৌন্দর্য। কখনো কখনো সড়কে পড়ে তা আবর্জনায় পরিণত হয়। আর সেসব সিটি করপোরেশনের কর্মীদেরই পরিষ্কার করতে হয়। নির্বাচনী প্রচারণার এই সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তন চান ঢাকা উত্তরের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম। তার মতে, শহরকে সুন্দর করতে নির্বাচনী প্রচারণার পদ্ধতি ডিজিটাল হওয়া উচিৎ। এমনকি আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হলে, সিটি করপোরেশনের কাজ এবং নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ব্যবহৃত পোস্টারের সংস্কৃতি বদলে দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আতিকুল।  তিনি বলেছেন, নির্বাচিত হলে আমরা পোস্টার লাগানো ও প্রচার কাজের জন্য দেয়াল নির্ধারণ করে দেব। এতে নগরকে সুন্দর রাখা যাবে।
গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল সংলগ্ন গণভবন ইউনিট আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পাশের মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণার সমাবেশে আতিকুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনে এখনো সনাতনী পদ্ধতিতে খাতা-কলমে কর সংগ্রহ করা হয়। এখনো পুরোনো পদ্ধতিতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঝাড়ু দিয়ে শহর পরিষ্কার করে। এই বিষয়গুলোর আধুনিকায়ন করা হবে।

আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করেছি যাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্বাচনের প্রচার করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। নির্বাচিত হলে আমরা পোস্টার লাগানো ও প্রচার কাজের জন্য দেয়াল নির্ধারণ করে দেবো। এতে নগরকে সুন্দর রাখা যাবে। নির্বাচনী সমাবেশে নৌকায় ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ২৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ফরিদুর রহমান  ইরান ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী হামিদা আক্তার মিতার পক্ষে ভোট চান আতিকুল। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচি, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে প্রচারণা না করার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আতিকুল বলেছেন, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না রাস্তা আটকে দিলে একটি অ্যাম্বুলেন্স নাও যেতে পারে। ভুলে গেলে চলবে না রাস্তা আটকে দিলে আমাদের কোনো ভাই বা বোন পরীক্ষা দিতে যেতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, যে কয়দিন প্রচারের কাজ বাকি আছে, সে কয়দিন রাস্তা বন্ধ করে, গাড়ি চলাচল বন্ধ করে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করা হয়, নেতাকর্মীদের বলবো। তিনি বলেন, অনেক ‘কমপ্লেইন’ আসছে। আমাদের আমুল পরিবর্তন দরকার। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা দরকার। মানসিকতা পরিবর্তন আমরা যদি নিজেরা না করি তাহলে কারা করবে? তাই আজকে আপনাদের অনুরোধ করবো, আসুন একটি সুশৃঙ্খল ইলেকশন প্রচারণা করে আমরা দেখিয়ে দেই, আমরা যেমন ইলেকশনে সুশৃঙ্খল তেমনি একটি সুশৃঙ্খল ঢাকা গড়তে পারি।

আতিকুলের নির্বাচনী প্রচারণার সময় সকালেই সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের কর্মরত বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স এসে যোগ দেন।  নির্বাচনী সমাবেশে ডাক্তার ও নার্সদের উপস্থিত থাকার বিষয়ে আতিকুল বলেন, আমি কোনো সময় বলিনি যে কেউ এখানে এসে আমার বক্তব্য শুনুক, আমার জন্য অপেক্ষা করুক।

আমি এগারোটা থেকে সাড়ে এগারোটার মধ্যে সময় দিয়েছি। এর আগে যারা এসেছেন তারা হয়তো মেডিকেলের শিক্ষার্থী, শিফটিং ডিউটি করে এসেছেন। তারা চাইলে আসতে পারেন, কিন্তু রোগী বাদ দিয়ে, এখানে এসে অপেক্ষা করবে, আমার ভাষণ শুনবে, এটা কোনো সময় কাম্য নয়। একে আমি স্বাগত জানাতে পারি না। এই মেয়রপ্রার্থী বলেন, আমার ভাই-বোন যদি কেউ আজ হাসপাতালে থাকে, আর ডাক্তার-নার্সরা সে কাজ বাদ দিয়ে এখানে আসে, তা কাম্য নয়। এটা আমি পছন্দ করি না। আমার দলও এটা পছন্দ করবে না। ঢাকা উত্তরের নতুন সমপ্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে আতিকুল বলেন, এসব এলাকায় সড়কের অবস্থা খারাপ, বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, সড়কে বাতি নেই। নির্বাচিত হলে, এখানে খেলার মাঠ সড়ক সংস্কার ও বাজার কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থা করা হবে। নতুন ওয়ার্ড নিয়ে মহাপরিকল্পনা একনেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলেও জানান তিনি। সমাবেশ শেষে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পেছনে গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা দিয়ে আবাসিক হলগুলোর পাশে শেরে বাংলা নগরে গণসংযোগে যান তিনি। এরপর তিনি মণিপুরিপাড়া, পশ্চিম রাজাবাজার, পূর্ব রাজাবাজার, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, নয়াটোলা ওয়ারলেস মোড়ে গণসংযোগ করেন। পরে বিকালে মধুবাগে আসাদুজ্জামান কমিউনিটি সেন্টার, ঝিলপাড়, হাতিরঝিল এলাকায় প্রচারণা করেন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর