× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
রায়ে রোহিঙ্গাদের বৈশ্বিক স্বীকৃতি

প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টির চাপে পড়বে মিয়ানমার: ঢাকা

অনলাইন

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১১:৪৫

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) বৃহস্পতিবার যে রায় দিয়েছে তাতে বিশ্ব সম্প্রদায় মিয়ানমারকে চাপ দিতে আরও যত্নবান হবে বলে আশা করে বাংলাদেশ। ঢাকা মনে করে এ রায় সরাসরি প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত না হলেও পরোক্ষভাবে এটি মিয়ানমারকে চাপে ফেলবে বাংলাদেশে অাশ্রয় নেয়া ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার ননাগরিককে স্বভূমে ফেরতের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতে।

সন্ধ্যায় রাজধানীর এক হোটেলে এ রায় নিয়ে এক আলোচনা সভায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এভাবেই ঢাকার প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন। ওই আলোচনা সভায় অংশ নেয়া সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেন, এই প্রথম বিশ্ব ফোরামে রোহিঙ্গারা রোহিঙ্গা হিসাবে স্বীকৃতি পেলো। আইসিজের আদেশে রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ করে তাদেরকে মিয়ানমারের 'প্রটেক্টেড' জনগোষ্ঠি হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। এ রায়কে কূটনীতির বড় অর্জন হিসাবে উল্লেখ করেন তিনি। সদ্য সাবেক পররাষ্ট্র সচিব, যার আমলেই মূলত মামলার প্রস্তুতি নিতে ওআইসির মাধ্যমে গাম্বিয়াকে উতসাহিত করা হয়েছে সেই শহীদুল হক মামলার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। আলোচনায় নব নিযুক্ত পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, মিয়ানমারের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলোও জাতিসংঘের সদস্য হওয়ায় আইসিজের রায় মেনে চলতে বাধ্য। সেদিক থেকে তারা আরও যত্নবান হবেন যে কীভাবে মিয়ানমারকে তারা প্রভাবিত করবেন।
এ রায়টি নিরাপত্তা পরিষদেও যাবে। সুতরাং নিরাপত্তা পরিষদেরও দায় দায়িত্ব থাকবে। রায়ে (মিয়ানমারকে) প্রতিবেদন দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

এগুলো পর্যবেক্ষণ করার জন্য পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়বদ্ধতা থাকবে। সচিব জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র রাশিয়া, চীন, ভারত ও জাপানের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াবে এবং বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে এসব দেশ যাতে মিয়ানমারের সাথে তাদের সম্পর্ক ব্যবহার করে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান বের করতে সাহায্য করে। আইসিজের রায় প্রত্যাবাসনের বিষয় নয় মন্তব্য করে সচিব বলেন, গণহত্যার বিচারের জন্য মামলাটি হয়েছে। সুতরাং গণহত্যার উদ্দেশ্য ছিল কি- না সেটিই মামলার মূখ্য বিষয়। চূড়ান্ত বিচারে সেই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে। এর জনৌ বেশ ক'বছর হয়ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু অন্তবর্তী আদেশে আদালত যে সব নির্দেশনা দিয়েছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো সরাসরি সম্পর্কিত মিয়ানমারে সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য, যা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য পরোক্ষভাবে জরুরি।’

আলোচনায় প্যনালিস্ট হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক এবং সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ বিষয়ক মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান, ঢাকায় নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনের ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স প্রধান পেদ্রা মুন মরিস। উন্মুক্ত আলোচনায় প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার নিরাপত্তা বিশ্লেষক বিগ্রেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রমূখ অংশ নেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর