× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার

বরিশালে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে ক্ষোভ

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে | ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, ৮:০৯

 ২০১২ সালের ২৫শে ডিসেম্বর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৫ সদস্যে নিয়ে গঠিত বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ এখনও বহাল। তিন বছর মেয়াদি এ কমিটি ৭ বছর অতিক্রম করেছে। ৫ জনের মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করায় ৪ জন দিয়ে কাগজে-কলমে চলছে কমিটির কার্যক্রম। অথচ বিভাগীয় সদর হিসাবে স্থানীয় রাজনীতিতে বরিশাল সদর উপজেলার গুরুত্ব অনেক। একই অবস্থা জেলার আরও তিন উপজেলা যথাক্রমে হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও বানারীপাড়ায়। যা নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলন পরবর্তী কমিটিতে পদ-পদবি বণ্টন এবং কমিটি কুক্ষিগত করার অভিযোগসহ নানা বিষয়ে নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারায় এ সংকট চলছে। এর ফলে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনও করা যাচ্ছে না।
গত ডিসেম্বরে জাতীয় সম্মেলনের আগে জেলা সম্মেলন করার উদ্যেগ নেয়া হয়েছিল। আগামী মার্চের মধ্যে জেলা সম্মেলন করার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বরিশাল- ৫ (সদর-সিটি এলাকা) সংসদ সদস্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নিষ্ক্রিয়তায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রাণ হচ্ছে সদর উপজেলা। এ কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে তার প্রভাব পড়ে গোটা জেলার ওপর। সদরের যে বর্তমান কমিটি রয়েছে তার কোন তালিকাও নেই কেন্দ্রে। তাই এ কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তারা কোন ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি গঠন করলেও সেগুলোও বৈধ হবে না। কেন্দ্র থেকে আগামী মার্চের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার আগে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্পন্ন করতে হবে। নতুন কমিটি যাতে যোগ্য নেতৃত্বে আসে সে বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জানা গেছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্ব নেন বর্তমান সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি ও সম্পাদক হালিম রেজা মোফাজ্জেল। কমিটির অপর তিন নেতার মধ্যে জামাল গাজী মৃত্যুবরণ করেছেন এবং রেহানা বেগম মহিলা আওয়ামী লীগ ও মাহাতাব হোসেন সুুরুজ জেলা আওয়ামী লীগের পদ নিয়ে রাজনীতি করছেন। চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরর সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, ৭ বছর ধরে কেবল সভাপতি ও সম্পাদকই আছেন উপজেলা কমিটিতে। তারা পদ ধরে রাখতে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পকেট কমিটি গঠন করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোন মতামত নেয়া হচ্ছে না। যেকারণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মামুন তালুকদার বলেন, সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেই বললেই চলে। বর্তমান কমিটি পুনরায় পদ ধরে রাখতে তারা ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নে পকেট কমিটি শুরু করেছেন। উপজেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার কথা স্বীকার করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি বললেন, সমন্বয়হীনতার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি। এখন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্সিল করার চেস্টা করছি। এরপর উপজেলা কাউন্সিল হবে। সম্পাদক হালিম রেজা মোফাজ্জেল বললেন, কাজে ব্যস্ত থাকায় সময় হয়নি। তাই কমিটি করা যায়নি। হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিলন বলেন, গত নভেম্বরে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি না করেই উপজেলা সম্মেলন করতে চেয়েছিল একটি পক্ষ। এ নিয়ে বিরোধে তখন সম্মেলন স্থগিত হয়। নতুন করে কমিটি গঠনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পরিবর্তন চান। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন বলেন, গত নভেম্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে ইউনিয়ন কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। অঙ্গ সংগঠনের নেতা স্বপদ ত্যাগ না করেই মূল দলে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এ কারণে জেলা কমিটির নির্দেশে তখন সম্মেলন স্থগিত হয়। আপাতত এ উপজেলাতে সম্মেলনের কোন উদ্যোগ নেই বলে কামাল খান জানান।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছেন তারা কেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি তার কারন জানতে চাওয়া হয়েছে। অতি শিগগিরই সদর উপজেলাসহ অন্যান উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য লোকের হাতে দলের নেতৃত্ব দেয়া হবে। সদর উপজেলা কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা কমিটি কেন্দ্র নয় জেলা অনুমোদন দেয়, তাই এর বৈধতা রয়েছে।


অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর