× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার

ফ্রান্সে মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

শেষের পাতা

আবদুল মোমিত (রোমেল) ফ্রান্স থেকে | ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, ৯:১৯

যুক্তরাজ্য, কানাডার পর ফ্রান্সে ধীরে ধীরে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভিত্তি শক্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে- প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা আলোকিত কর্মপদচারণাও। রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা চেষ্টা করছেন- ফরাসির মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার। এবার ফ্রান্সে যেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

আগামী ১৫ ও ২২শে মার্চ ফ্রান্সে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় প্রশাসন সরকার নির্বাচন। ফ্রান্সে এবারের স্থানীয় প্রশাসন সরকার নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক সরুফ ছদিওল ও নয়ন এনকে।
এই দুইজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক ফ্রান্সের স্থানীয় প্রশাসন সরকার নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে কাউন্সিল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

নয়ন এনকে ভিগনিকস সুর সেইন (Vignexu sur seine) এলাকা থেকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে লা ফ্রান্স ইনসোমাইস (LFI) দলের হয়ে তিনি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি জানান যে, তার কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করা নিশ্চিত। তবে তিনি চেষ্টা করছেন ডেপুটি মেয়র হিসেবে দলের মনোনয়ন লাভের।

নয়ন  Vignexu sur seine শহরের দলীয় দায়িত্ব পালন করছেন এবং সেখান থেকেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ২০১৮ সালে নয়ন এই দলে যোগদান করেন এবং তার কর্মদক্ষতা দিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই  Vignexu sur seine এর দায়িত্ব লাভ করেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আগের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে তার দলের প্রার্থী জন লুক মেলন্স ভোটপ্রাপ্তির দিক থেকে ৪র্থ অবস্থানে ছিলেন।  La France Insoumise (LFI) দলটি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাজনীততে বেশ দ্রুত দলটি জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
বাংলাদেশ থেকে দশবছর বয়সে ফ্রান্সে আসা নয়ন কিয়াং ইন্টারন্যাশনাল বিসনেস ম্যানেজমেন্ট এবং Conseil Etudes et Recherche  এর ওপর ডাবল মাস্টার্স করেছেন।

বর্তমানে ফ্রান্সের Université Paris Est Marne-la-Vallée বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
অন্যদিকে সরকারি বিভিন্ন শাখায় যেমন, OFII, OFPRA, Préfecture, Hôpital  প্রভৃতি স্থানে দোভাষী হিসেবে কাজ করেন।
নয়ন তার বাবার সূত্রে মা এবং আরো দুই ভাইবোনের সঙ্গে ফ্রান্স আসেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে নয়ন সবার ছোট। বড় বোন প্যারিসের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্যাশন ডিজাইনের ওপর সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন। ভাই টহরাবৎংরঃল্ক ফ্থঊঠজণ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে ঊজঙচ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে  Concepteur Industriel  হিসেবে কর্মরত আছেন।
অন্যদিকে সরুফ ছদিওল প্যারিসের নিকটবর্তী সেন্দেনিস সেন্ট্রাল থেকে সোসালিস্ট পার্টির হয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। ২০১১ সালে সোসালিস্ট পার্টিতে তিনি যোগদান করেন। তিনি মেয়র প্রার্থী মাতিউ হানাতার প্যানেল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে ।

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগাঁও গ্রামের সন্তান প্রায় ১৯ বছর ধরে ফ্রান্সে বসবাস করছেন। পিতার নাম- দুদু মিয়া ছদিওলৎ। সেন্দেনিস এলাকাতে তার ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছেন।
আগামী ১৫ এবং ২২শে মার্চ নির্বাচনে এই দুই প্রার্থী বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছে দোয়া এবং তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে দুই প্রবাসী বাংলাদেশির ফ্রান্স সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় কমিউনিটির মানুষজন অত্যন্ত খুশি। তারা দুই প্রার্থীর বিজয় প্রত্যাশা করেন। আশা করেন দুই প্রার্থী এই চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন। ইংল্যান্ড, কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেমন বাংলাদেশিরা বেশ দাপটের সঙ্গেই রাজনীতি করছে এবং সফল হচ্ছে। ফ্রান্সে তেমনটি দেখা যায় না। সেদিক থেকে নয়ন কিয়াং এবং সরুফ ছদিওল ইতিহাসে উদাহরণ হয়ে থাকবেন বলে বাংলাদেশ কমিউনিটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
গত ১৯শে নভেম্বর ২০১৯ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন মেয়র সম্মেলনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি মেয়রদের ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন। নির্বাচনী তারিখ ঘোষণার পর থেকে ফ্রান্সে নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর