× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার

অনিশ্চয়তায় পঞ্চগড় জেলা বিএনপি’র সম্মেলন

বাংলারজমিন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি | ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, ৭:৪৯

আবারো পঞ্চগড় জেলা বিএনপি’র সম্মেলন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় গঠিত মেয়াদ উত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটি অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্যান্য সম্মেলন করতে না পারার জন্য এ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে উজ্জীবিত নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। দু’টি গ্রুপ পরস্পরের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দলীয় গ্রুপিং বন্ধে ২০১৪ সালের ১০ই এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে তার গুলশান কার্যালয়ে উভয় গ্রুপের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের পর ২০০৯ সালে গঠিত জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সকল সম্মেলন শেষ করে জেলা বিএনপি’র সম্মেলন করার নির্দেশনা থাকলেও কমিটিতে বিএনপি’র স্থায়ী জমির উদ্দিন সরকারের মনোনীত লোককে সম্মেলন ছাড়াই বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে পক্ষপাতিত্বের কারণে গোলযোগ ও উত্তেজনা দেখা দেয়ার জন্য কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। ওই আহ্বায়ক কমিটি পরবর্তীতে বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রায় ৫ বছর পর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত বছরের ১৯শে আগস্ট জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুকে আহ্বায়ক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। আহ্বায়ক কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পঞ্চগড় জেলার সকল ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
কিন্তু এরই মধ্যে আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ চলছে। সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ গত সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড় ২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তিনি এ আসনের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় নিজের মতো করে সকল পর্যায়ের কমিটি সাজানোর কাজে তৎপর রয়েছেন। কিন্তু ১ আসনের সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলায় কার্যক্রমের গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ওদিকে, পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা আলহাজ তৌহিদুল ইসলাম সম্মেলনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে পৌর কমিটি গঠনের জন্য অবস্থান নিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে তৌহিদুল ইসলাম আরো প্রার্থী হওয়ার জন্য ওয়ার্ড ও পৌর কমিটি নিজের মত করে সাজাতে চান। কিন্তু অপর পক্ষ মনোনীত লোকদের নিয়ে কমিটি গঠনের পক্ষে তৎপর থাকার জন্য আবার জটিলতা ও বিরোধ দেখা দিয়েছে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সর্বমহলে জনপ্রিয় পৌর বিএনপির সভাপতি মেয়র তৌহিদুল ইসলাম এবার জেলা বিএনপির সভাপতি ও আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যায়। দীর্ঘ ১০ বছর পর জেলা বিএনপি ও অন্যান্য সম্মেলনকে ঘিরে নিষ্ক্রিয় ও হতাশায় ভুগা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা গ্রুপিং ও কোন্দল ভুলে সর্বস্তরের নেতাকর্মী এক সঙ্গে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে। গত সংসদ নির্বাচনে গ্রুপিংয়ের নিরসন হওয়ার পর সম্মেলন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার পক্ষের কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ ফরহাদ হোসেন আজাদকে সদস্য সচিব ও পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা আলহাজ তৌহিদুল ইসলাম পক্ষের প্রবীণ রাজনীতিবিদ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটি পেয়ে নেতাকর্মীরা আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৫ই জানুয়ারি জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল হকের মৃত্যুর পর সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে দু’টি গ্রুপের সৃষ্টি হয়। এতে পর্যায়ক্রমে দ্বন্দ্ব ও কোন্দল বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় দ্বিধাবিভক্ত জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার পক্ষের এমএ মজিদের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এবং সাবেক সংসদ সদস্য জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মরহুম মোজাহার হোসেন ও পৌর বিএনপি’র সভাপতি মেয়র তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অপর গ্রুপ পরস্পরের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন।
সম্মেলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়র তৌহিদুল ইসলাম কেন্দ্রীয় এক বিএনপি নেতার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাকে বহিষ্কার করে দেয় না কেন। তাহলে তো তারা তাদের মনমতো কমিটি গঠন করতে পারবে। আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আলহাজ ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও সমস্যা নেই। এই কমিটিই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকার কারণে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আবার বিরোধী দল হওয়ার জন্য নানা সমস্যাও হচ্ছে। আশা করছি জটিলতা ও সমস্যা কাটিয়ে উঠে অল্প সময়ের মধ্যে সম্মেলনগুলো সম্পন্ন করতে পারবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর