× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার

হবিগঞ্জে সাড়া জাগিয়েছে বইমেলা

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে | ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, ৮:১৭

হবিগঞ্জে বইপ্রেমী পাঠকদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা। শুরু থেকেই মেলায় ছিল আশানুরূপ দর্শকদের পদচারণা। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে সন্ধ্যায় দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। দেশের স্বনামধন্য সকল প্রকাশনীর স্টলই ছিল হবিগঞ্জের মেলায়। বই বিক্রিও হয়েছে ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। জেলা শহরের এ বই মেলায় বিভাগীয় শহরের চেয়েও বেশি বই বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বইমেলা উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী হবিগঞ্জ শহরে ছিল উৎসবের আমেজ। স্বাধীনতা পরবর্তী এবারের মেলা-ই ছিল হবিগঞ্জ জেলার সর্ববৃহৎ বইমেলা।
হবিগঞ্জের নবাগত বইপ্রেমী জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের একান্ত চেষ্টায় আয়োজন করা হয় এ বিশাল বইমেলার। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে বিভাগীয় শহরসহ জেলা পর্যায়ের ১৮ স্থানে বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে হবিগঞ্জের মেলাটি সারাদেশের মধ্যে ২য় স্থান অর্জন করেছে। এতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনসহ সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরাও অভিভূত হয়েছেন। আগামীতেও এ মেলার আয়োজন হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মেলায় ইত্যাদি, পাঠকসমাজ, অন্যপ্রকাশ, কাকলী প্রকাশনালয়, সমকালীন প্রকাশন, আনিন্দ্র প্রকাশ, পুঁথিনিলয়, বাংলা একাডেমিসহ দেশের নামকরা সকল প্রকাশনীই অংশগ্রহণ করেছে হবিগঞ্জের বইমেলায়। আর এসব খ্যাতিমান প্রকাশনীর বই কিনতে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা সপরিবারে মেলায় উপস্থিত হয়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। পাশাপাশি ক্ষুদে পাঠকরাও উপস্থিত হয়ে মেলাকে প্রাণবন্ত রেখেছেন। খ্যাতিমান প্রকাশনীগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন স্টলে ছিল সিলেট বিভাগের বিভিন্ন কীর্তিমান লেখকদের বই। সকল স্থানীয় লেখকদের গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও প্রবন্ধ একসাথে পেয়ে অনেক পাঠকরা উদ্বেলিত হয়েছেন। জেলা শহরে এতবড় বই মেলা সফল হতে পারে এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হবিগঞ্জ জেলা বইমেলা। মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন বিকেলে ছিল আলোচনা সভা। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলেছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা প্রতিদিন মঞ্চ মাতিয়েছেন। তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার দর্শক ভিড় জমিয়েছেন মেলা প্রাঙ্গণে। শহরের নিমতলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা মেলা চলে গত ৩১শে ডিসেম্বর থেকে ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রি কে এম খালিদ এমপি। জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু জাহির, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহ্‌ নেওয়াজ, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রাজ্জাক ভুইয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ প্রমুখ। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান জানান, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে বইকে জনপ্রিয় করতে আমরা ৭ দিন ব্যাপী বইমেলার আয়োজন করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি দেশের স্ব-নামধন্য প্রকাশনাগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় বই বিক্রেতা এবং লেখকরাও যাতে মেলায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। তিনি বলেন, বই পড়ার কোন বয়স হয় না। বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরকেও বই পড়ার অভ্যাস করাতে হবে। মোবাইল ও ইউটিউবের যুগে আমাদের সন্তানরা এখন আর আগের মতো বইমুখী হচ্ছে না।
তাদেরকে যে কোন মূল্যে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বইয়ের প্রতি যাতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ে এজন্য আমরা হবিগঞ্জে শুরু করেছি সাপ্তাহিক পাঠচক্র। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন পাঠচক্রে এসে বই পড়েন। আমরা মনে করছি এতে বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীরা মনোযোগী হবে। বেশি বেশি বই পড়ার মাধ্যমে দেশাত্ববোধে উজ্জীবিত শিক্ষিত ও মেধাবী জাতি গঠন করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর