× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার

শিক্ষাব্যবস্থায় সংকট ও এর উত্তরণ সম্পর্কে

এক্সক্লুসিভ

অধ্যাপক ড. জাকারিয়া লিংকন | ২৭ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার, ৮:০১

ড. জাকারিয়া লিংকনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সংকট ও এর উত্তরণে করণীয় সম্পর্কে উঠে এসেছে জানা-অজানা তথ্যবহুল অনেক আলোচনা ও নির্দেশনা। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নেতিবাচক ও ইতিবাচক বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার ফলে শিক্ষাব্যবস্থার নেতিবাচক দিকগুলোর সমাধানেরও যে সহজবোধ্য উপায় তিনি খুঁজে পেয়েছেন তা উঠে এসেছে এই সাক্ষাৎকারে। একান্ত আলাপচারিতায় নিজ শিক্ষা এবং কর্মজীবন নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। যার সংক্ষেপিত অংশ তুলে ধরা হলো এখানে।

বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে একজন ফার্স্ট জেনারেশনের উদ্যোক্তা হয়েও পদে পদে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে আক্ষেপ করেন তিনি। বলেন “আমি ৪ বছর বয়সে শিক্ষা জীবন শুরু করে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত একনাগাড়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেছি অর্থাৎ কর্মজীবন শুরুর পরেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বন্ধ করিনি। তিনি বলেন, আমার হাতে ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেসব বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় নিয়োজিতরা অনেকেই আমার শত্রুতে পরিণত হয়েছেন।
নাম উল্লেখ করে শত্রুতা আরো বাড়াতে চাই না। তবে নিরলস ভাবে কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা এখনো আছে।”

১৯৯৫ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পর দেশে এসে আমার বড় ভাই মরহুম এমএ হান্নান ফিরোজকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষা প্রদানের জন্য Stamford College Group প্রতিষ্ঠা করি, যা পরবর্তীতে  Stamford University তে উন্নীত হয়, এ ভাবেই শুরু।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নানামুখী হওয়ার কারণে লেজেগোবরে অবস্থা। চরম সমন্বয়হীনতার কারণে ন্যাশনাল কারিকুলাম, মাদ্রাসা শিক্ষা এবং ইংরেজি মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক সামাজিক বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এখন আর মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের সন্তানেরা লেখা পড়া করে না। কেবলমাত্র নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের সন্তানেরাই সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে যাচ্ছে। ফলে, যে সামাজিক বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে তা ভবিষ্যতে জাতির জন্য মঙ্গলজনক তো নয়ই বরং ভয়ঙ্কর!

ইংরেজিমাধ্যম স্কুলগুলো বৃটিশ কারিকুলাম অনুসরণ করলেও কেবলমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থে আমাদের শিশুরা বৃটিশ শিশুদের চেয়েও একাডেমিক্যালি ২ বছর পিছিয়ে থাকছে। একটি জাতির উন্নয়নের পথে এটি একটি বড় বাধা। গত ২৫ বছর ধরে আমি একজন শিক্ষক, শিক্ষা সংগঠক এবং গবেষক হিসেবে কাজ করে যতটা বুঝতে পেরেছি তাতে সমন্বিত কারিকুলাম প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই। বিদেশি কারিকুলামের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন দেশীয় কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে। যাতে করে বাংলাদেশের শিক্ষা উন্নত দেশগুলোতে গ্রহণযোগ্য হয়। আর এটি করা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়। শিশুদের শিক্ষা জীবনের দুই বছর সাশ্রয় করার জন্য সরকারি নির্দেশনা প্রয়োজন। হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও বাচ্চাদের এখনো ভারী ব্যাগ বহন করতে হচ্ছে। এর থেকে শিশুদের মুক্ত করতে ১০ সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট, এজন্য ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন হবে না। দরকার শুধু সদিচ্ছা এবং সঠিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
উচ্চশিক্ষার প্রচলিত ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার প্রাণপণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু প্রকৃত ফলাফল আসছে না। এর পেছনেও প্রধান কারণ পদ্ধতিগত ত্রুটি। বই এবং মুখস্থ বিদ্যানির্ভর উচ্চশিক্ষা বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও প্রচলিত নেই। এক সময় যে সব দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য আসতো সে সব দেশও এখন আমাদের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে। প্রকৃত পক্ষে উচ্চশিক্ষা হওয়া উচিত গবেষণাধর্মী, অ্যানালিটিক্যাল এবং অধিকতর ব্যবহারিক অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্রি ওরিয়েন্টেড।
উচ্চশিক্ষার কোন বিষয়টি আশু পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন শীর্ষক প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেদনাদায়ক হচ্ছে, একজন শিক্ষার্থী ব্যাচেলর (পাস), বিএড, বিপিএড, এলএলবি (পাস) এই চারটি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করার পরেও দেশে অথবা বিদেশে তার কোনো ডিগ্রিই স্বীকৃতি পাচ্ছে না। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন, এমনকি ইতিপূর্বে এই সব একাধিক ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করে যারা কর্মক্ষেত্রে আছেন তাদেরকেও ব্যাচেলর (সম্মান) ডিগ্রির সমতুল্য করার ব্যবস্থা করতে হবে। জাতিকে পিছিয়ে থাকার নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অধ্যাপক ড. জাকারিয়া লিংকন-

আমেরিকা থেকে ‘পাবলিক সেক্টর হেলথ কেয়ার ফাইন্যান্সিং প্যাটার্ন অব বাংলাদেশ’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি, ইউরোপ থেকে উচ্চতর শিক্ষায় পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি, মালয়েশিয়া থেকে ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট-এ এমবিএ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাসটেইনেবল ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট-এ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি সোফিয়া টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি, বুলগেরিয়া থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ প্রিপারেটরি গ্রাজুয়েশন এবং ইউকে থেকে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এডুকেশনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৯৯ সালে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর