× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার

চৌহালীতে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোতে ১০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি

বাংলারজমিন

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, ৭:৪৫

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে চর নাকালিয়া পূর্বপাড়া খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটি এলাকাবাসীর দুর্ভোগে ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে তা এখন আর এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না। মাঝ খানে ভেঙে যাবার কারণে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এখানে স্থায়ীভাবে কংক্রিটের একটি সেতু নির্মাণের। স্থানীয়রা জানান, ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেহাইপুখুরিয়া-বিনানই সড়কটির চর নাকালিয়ায় যমুনার একটি খাল বহমান। এখানে দীর্ঘদিন ধরে দাবি থাকলেও স্থায়ীভাবে কোনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় অতীত কাল হতে এলাকাবাসী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করছে। সবিশেষ এ খালের ওপর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালের বর্ষায় সময় ৮০ ফুট সাঁকো নির্মাণ করে। টানা দু’বছর তা মানুষের উপকারে এলেও এবার তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাঁকোর মাঝখান থেকে খুঁটি ও মাচান ভেঙে তা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে চর নাকালিয়া গ্রামের নূর আলম, রওশন আলী মাস্টার, আনোয়ার হোসেন ও জুলহাস মোল্লা জানান, সাকোটি ভেঙ্গে নরবরে হয়ে গেছে। ফলে এখন আর এ সাকো দিয়ে পার হওয়া যায় না। এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের অভাবে এলাকাবাসী খুবই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাই এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। এদিকে খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাকোটি নরবরে হয়ে যাওয়ায় এ সড়ক দিয়ে কোন মালামাল পরিবহন করা যায় না। জমি থেকে ফসল আনতে হয় মাথায় করে। এ ছাড়া ঘরবাড়ি ও সেনিটারি সামগ্রী পরিবহন কষ্ট সাধ্য হওয়ায় অনেকের সামর্থ্য থাকলেও বাড়িতে ভালো ঘর ও সেনিটারি ল্যাট্রিন তৈরি করতে পারে না। এখানে সেতুর অভাবে এ গ্রাম সহ আশেপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চরম কষ্ট পোহাতে হয়। এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ খুবই জরুরি প্রয়োজন। এ ছাড়া বিনানই নদীর ওপর নির্মাণাধীন কংক্রিট সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হলে ঢাকার সঙ্গে চৌহালী সদরের সড়ক যোগাযোগ উন্নত হবে। এর পাশাপাশি ঢাকায় যাতায়াতের জন্য প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ কমে যাবে। এতে চৌহালীর মানুষ সকালে ঢাকায় পৌঁছে হাতের কাজ সেরে আবার বিকালে বাড়ি ফিরতে পারবে। যাতায়াত খরচও অর্ধেক কমে যাবে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ খালের ওপর একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানালেও স্থানীয় প্রশাসনের এদিকে নজর না থাকায় তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তারা অবিলম্বে এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুস সাত্তার জানান, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের এদিকে নজর নেই। তাদের বারবার বলেও কোনো কাজ না হওয়ায় এখন বলাই বাদ দিয়েছি।
এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্‌হার সিদ্দিকী জানান, এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু খালের প্রশস্ততা বেশি হওয়ায় প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘের উপরে সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। তাই সেতুটি নির্মাণ দেরি হচ্ছে। তবে আশা করছি এ বছরের মধ্যেই হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে চৌহালি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। কিন্তু সেতু নির্মাণে কোনো বরাদ্দ না থাকায় সেখানে সেতু নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। তার পরও একটি প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রস্তাবটি পাশ হলেই ওখানে সেতু নির্মাণ করা হবে।
আর চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহাম্মেদ জানান, ঝুঁকি মুক্ত সাঁকো সরাতে অচিরেই একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর