× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার

কুষ্টিয়ায় চার যুগ ধরে বন্ধ একাধিক শিল্পকারখানা!

বাংলারজমিন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, ৭:৪৫

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর রাজনৈতিক প্রভাবে প্রায় চার দশক ধরে বন্ধ কুষ্টিয়া বিসিকের ‘এ’ ক্যাটাগরির একাধিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান বিসিকের কাছে হস্তান্তর না করায় নতুন কোনো শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না বিসিক নগরীতে। সঠিকভাবে বিসিকের কাছে হস্তান্তর হলে সেখানে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পকারখানা। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান, ঘুচবে বেকারত্ব, ঘুরবে এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা, মোটা অঙ্কের রাজস্ব পাবে সরকার।
সত্তরের দশকে প্রায় ১৯ একর জায়গার ওপর ৮১টি প্লটে ছোট ছোট ৩০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়ে যাত্রা শুরু কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্পনগরীর। কালের পরিক্রমায় এখন তা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। এর মধ্যেও ঋণ খেলাপির দায়ে চার দশক ধরে বন্ধ ‘এ’ ক্যাটাগরির প্লটে প্রতিষ্ঠিত আবুল হোসেন পিভিসি বাংলাদেশ নামের প্রতিষ্ঠানটি। চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই।
একই ক্যাটাগরির ৫টি প্লটের ওপর নির্মিত, বাংলাদেশ স্টিল টিউবস প্রাইভেট লিমিটেড।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্বল্প পরিসরে নাম মাত্র চালু করে, ৯৮-এর জুলাই মাসে লে-অফ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে কারখানাটি চালু করার আশ্বাসে তৎকালীন সরকারের শিল্পমন্ত্রীর সহায়তায় ব্যাংক লোনের সুদ ও জরিমানা  মওকুফ করে ১০ বছর আগে তিন দিনের জন্য চালু করে! আর ধুঁকে ধুঁকে চলছে নর্দান জুট মিলটি।
এদিকে বিংশ শতাব্দিতে ‘ডি’ ক্যাটাগরির শিল্প প্লটে নির্মিত নিউ কুষ্টিয়া স্টিল মিল। মিলটি পুরোপুরি উৎপাদনে যায়নি কখনই। আর বছর দু’য়েক স্থায়ী ভাবেই বন্ধ রয়েছে কারখানাটি। বিসিকের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠাটির মালিক মনোয়ার হোসেন খোকন ব্যবসা শুরু করেছেন ভারতের কৃষ্ণনগরে, এমন তথ্য দিয়েছে কিয়াম মেটাল ইন্ড্রাঃ লিঃ দুই কর্মচারী। বিসিকের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে চার দশক ধরে বন্ধ থাকা মিল কারখানা নিয়ে কথা বলেন, কুষ্টিয়ার বটতৈলে অবস্থিত কেএনবি এগ্রো ফিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামন নাসির। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের বেকারত্ব দূরীকরণে অতিসত্বর বন্ধ কারখানাগুলো চালু হওয়া জরুরি অথবা বিসিকের নিকট প্লট হস্তান্তর করে নতুনদের সুযোগ করে দেয়া উচিত শিল্প স্থাপনে।
ব্যবসায়ীদের সংগঠন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম বলেন, বিসিকের একাধিক প্রতিষ্ঠান যুগযুগ ধরে বন্ধ রয়েছে। ঐ সব প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ কখনো চেম্বারমুখী হয়নি, বিধায় আমরা জানতেও পারি না কেন, কোন কারণে মিলগুলো বন্ধ রেখেছেন তিনারা। মিল তিনটি চালু থাকলে বড় রকমের বেকার সমস্যা সমাধান হতো, সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায়সহ আমাদের বিসিক হতো সর্ব সুন্দর সফল। এই বিষয়টি সমাধানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা আশানুজ্জামান বলেন, কারখানাগুলো চালু করতে ৩১ ডিসেম্বর, কুষ/শিঃনঃ/ বিসিক/ পি,আর-১০/৮০-২০১৯/৭৮(৫) স্মারকে চূড়ান্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি মিলগুলো চালু না হয় তবে আমরা ঐ সকল প্লট বাতিল করে চেম্বারের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা খুঁজে তাদের মধ্যে বরাদ্দ দিয়ে দেবো। কারখানাগুলো চালু অথবা নতুন উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা পাবে বিসিক শিল্পনগরী। এমনটাই মনে করে কুষ্টিয়ার সচেতন মহল।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর