× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেট
ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার

দিনারপুর কলেজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৮:২০

নবীগঞ্জের দিনারপুর কলেজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। কলেজের জমিদাতা এবং ভবন নির্মাণকারী পরিবারকে অবমূল্যায়নের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে নিয়ে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দাতা পরিবারকে অবহিত না করায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। এনিয়ে কলেজ কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুল হাই চৌধুরী এবং কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কলেজের ভূমি ও ভবনদাতা পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, ২০ বছর পূর্বে দিনারপুর কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। কিন্তু তহবিল না থাকাসহ নানা জটিলতার কারণে কলেজটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর কলেজের ভূমিটি পরিত্যক্ত ছিল। এমতাবস্থায় গাবদেব গ্রামের দানশীল ব্যক্তি আব্দুর রউফ চৌধুরী সুরুজ মিয়াসহ ভূমিদাতারা তাদের ভূমি ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়।
এসময় ৩ মাসের মধ্যে ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয় কলেজ বাস্তবায়ন কমিটি। এমন কঠিন মুহূর্তে এগিয়ে আসেন লন্ডন প্রবাসী সমাজসেবক আবুল কাশেম চৌধুরী। তিনি প্রায় ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কলেজের মূল ভবনটি নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন ভাবে অবমূল্যায়নের শিকার হতে থাকে ‘ভবন ও ভূমিদাতা’ পরিবার। এনিয়ে ভূমিদাতা পরিবারের অন্যতম সদস্য যুক্তরাজ্য প্রবাসী জামাল আহমেদ বলেন, চরম অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন তারা। কলেজের ভাল-মন্দ কোন বিষয়েই তাদেরকে অবহিত করা হয় না। এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানেও তাদের দাওয়াত দেয়া হয়নি। বিষয়টি তাদের চরমভাবে ব্যথিত করেছে। অপর ভূমিদাতা আব্দুর রউফ চৌধুরী সুরুজ মিয়ার পুত্র জালাল চৌধুরী ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কলেজের ভবনদাতাদের নামফলক থাকলেও ভূমিদাতা হিসেবে তার পিতার কোন নাম ফলকে নেই। শুধুমাত্র প্রিন্সিপালের কক্ষে দায়সারাভাবে একটি সাইনবোর্ড সাঁটানো আছে। তাও পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। কলেজের মূল ভবনদাতা বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, আমরা কলেজের কঠিন দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় উচ্চু শিক্ষার প্রসার ঘটুক। কিন্তু আমাদের চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। অন্য দুটি ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও আজও পর্যন্ত আমার দেয়া মূল ভবনটির কোন আনুষ্ঠানিকতা হয়নি। এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানে নামটি পর্যন্ত উচ্চারণে নির্লজ্জ কৃপণতা দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, যদিও নাম আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু তারপরও অবমূল্যায়ন আর উদাসীনতার সংস্কৃতি চর্চা হলে ভবিষ্যতে মানুষ সামাজিক কর্মকাণ্ডে চরমভাবে নিরুৎসাহিত হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ ও সমাজ। এনিয়ে কলেজের অন্যতম উদ্যোগক্তা গজনাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ভবন ও ভূমিদাতা পরিবারের প্রতি অসম্মান ও অবমূল্যায়নের বিষয়টি দুঃখজনক।
অভিযুক্ত কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুর রহমান মুকুল বলেন, অবমূল্যায়ন করার কোন সুযোগই নেই। এমন মানসিকতা আমরা লালন করি না। আমরা দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করব। কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুল হাইয়ের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর