× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার

‘চাই সচেতন সংগ্রাম’

ষোলো আনা

শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন | ৮ মার্চ ২০২০, রবিবার, ৮:২৪

রাশেদা আখতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। এক মেয়ের জননী। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি পালন করছেন একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্ব।

২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসাবে ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত বছর দায়িত্ব ছাড়লেও এখন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিনের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের প্রথম নারী ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী ডিন। অধ্যাপক রাশেদা দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসাবে রয়েছেন। এর মাঝেই চ্যান্সেলর মনোনীত হয়ে জাবির সিন্ডিকেট সদস্য হন অধ্যাপক রাশেদা আখতার।
শিক্ষকতা ও সংসার সামলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

এসব সফলতা নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, আমাদের সকলের একজন ব্যক্তি হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি নারী শিক্ষক, ছাত্রী এসব ভেবে গুটিয়ে নেয়া থেকে বের হয়ে আসা দরকার। তবে নারীর সামনে যে প্রতিবন্ধকতা আসবে তা সচেতন সংগ্রামের মাধ্যমে জয় করতে হবে। আমি নারী হিসাবে আলাদা কোন চাপকে নিজের মধ্যে আসতে দেইনা। এটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। কেউ কাউকে জায়গা ছেড়ে দেয় না। সেজন্য আমি সচেতন সংগ্রামের কথা বলছি।

তিনি ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক থাকা অবস্থায় কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে ‘শিক্ষার্থীকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র’ প্রস্তাব করেন। তিনি মনে করেন সমাজটাকে ভাঙতে হবে এর আগে ভাষা ও শব্দ চয়নের যে পুরুষতান্ত্রিকতা সেটার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যাপক রাশেদা আরও বলেন, একজন নারীর জীবনে অবশ্যই পুরুষের গুরুত্ব অপরিসীম। আমার জীবনে যা অর্জন তার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার স্বামীর সমর্থন ও সাহস যুগানো। এবারের নারী দিবসের শ্লোগানেও বলা হয়েছে আমরা সমতার প্রজন্ম। নারী হিসাবে ট্যাবু ভাঙতে ও নারীকে সচেতন করতে তিনি ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক থাকা অবস্থায় ইউএন উইমেন ও মহিলা পরিষদের সহযোগিতায় প্রায় ২৪ টি মতো কর্মশালাও সেমিনারের আয়োজন করেন। কিন্ত আশঙ্কাজনকভাবে এসব সেমিনারে পুরুষের অংশগ্রহণ অপ্রতুল।

অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, নারীকে বিশ্বজয় করতে হলে নারীর প্রতি পুরুষের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ জরুরী। নারী পুরুষের সমতার কথা যে বলা হয় সেটা তো একা একা সম্ভব না। ১৯৭৯ সালের সিলেট কিশোরী মহোন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ১৯৮১ সালে সিলেট মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন অধ্যাপক রাশেদা আখতার। দুই পরীক্ষায়ই বোর্ড স্টান্ড করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। ১৯৮৬ সালে স্নাতক ও ১৯৮৮ সালে স্নাতকত্তোর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে। শিক্ষকতার মাঝে ২০০৯ সালে তার পিএইচডি ডিগ্রীটাও সেরে নেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর