× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেট
ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২০, রবিবার

নিত্যপণ্য: মনিটরিং টিম চলে গেলেই ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ মার্চ ২০২০, সোমবার, ৮:৫৮

বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে ক্রেতাদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। এরমধ্যে দেশে করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা করোনার অজুহাতে যেন পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য বাজারে নেমেছে মনিটরিং টিম। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের ফলে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের দাম। কিন্তু অভিযানের সময় ব্যবসায়ীরা দাম কমালেও মনিটরিং টিম চলে গেলেই ফের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দোকানে ন্যায্য মূল্যতালিকাও রয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষ হলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল কাওরান বাজারে মানবজমিনের কাছে কয়েকজন ক্রেতা এমন অভিযোগ করেন।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে ঢাকাসহ সারাদেশের নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। করোনা রোগী শনাক্তের পর বাজারে হঠাৎ করে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে যায়। তারা প্রতিযোগিতা করে পণ্য কেনায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অভিযান শেষ হলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল কাওরান বাজারের বরিশাল রাইস এজেন্সিতে একজন নারী ক্রেতাকে চালের দামদর করতে দেখা যায়। কিন্তু বেশি দাম চাওয়ায় তিনি অন্য দোকানে চলে যান। মানবজমিনকে তিনি জানান, ওই দোকানের বিক্রেতার কাছে মিনিকেট ৫০ কেজির এক বস্তা চালের দাম জিজ্ঞেস করলে তিনি ১০০ টাকা বাড়িয়ে চেয়েছেন। তিনি বলেন, মূল্যতালিকায় লেখা আছে ২৭০০ টাকা। কিন্তু আমার কাছে তিনি ২৮০০ টাকা চেয়েছেন। অথচ কয়েকদিন আগেই এক বস্তা ২৬০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। আমি সাধারণত ৫-১০ কেজি করে চাল কিনি। কিন্তু করোনার কারণে বেশি করে নিতে চাচ্ছি। বাজারের যে পরিবেশ বারবারতো আসা যাবে না। কিন্তু যে দোকানেই যাচ্ছি একটু বেশি করেই দাম চাচ্ছেন বিক্রেতারা। করোনার কারণে আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণার সুযোগ নিচ্ছে।
বরিশাল রাইস এজেন্সির বিক্রেতা বলেন, মূল্যতালিকায় যে দাম দেয়া আছে সেই দামেই চাল বিক্রি করছি। আজ আমাদের এখানে কোন অভিযান টিম আসেনি। ওই দোকানে তালিকা অনুযায়ী দেখা যায়, প্রতিকেজি মিনিকেট চালের দাম দেয়া আছে ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা, আটাশ চাল ৪৪ থেকে ৪৬, নাজির শাইল ৫০ থেকে ৫৬ এবং পোলার চাল ৯৫ থেকে ৯৬ টাকা।
এদিকে বাজারে পিয়াজের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে কেজিতে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি নতুন পিয়াজ এখন পাইকারি বাজারে প্রতি পাল্লা ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা কেজিতে পড়ছে ৪৬ টাকা। খুচরা বাজারে তা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পিয়াজে কিছুটা কমলেও আদা ও রসুনের দাম চড়া দেখা গেছে। কাওরান বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত দু’দিনের তুলনায় আদা, রসুন, বাড়তি দাম নেয়া হচ্ছে। দেশি রসুন গত সপ্তাহে যেখানে ছিল ৮০-৯০ টাকা, তা বেড়ে হয়েছে ১৫০ টাকা। ভারতীয় রসুন বেড়ে হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আদার দাম বেড়ে হয়েছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। বেড়েছে আলুর দামও। সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা আর লাল ২২ টাকায়। যা তিনদিন আগেও ১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
কাঁচা বাজারও সহনীয় পর্যায় আসেনি। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি করলা ৪৫-৬০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা, শশা ২০-৩০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, পাকা টমেটো ২০-৪০ টাকা, শিম ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৩৫ টাকা, শালগম ২৫-৩০ টাকা, মুলা ১৫-২০ টাকা, বেগুন ৩০-৪০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, ঢেড়স ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মোবারক নামের এক ক্রেতা বলেন, শুনেছি বাজার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে একেক দোকানে একেক রকম দাম নেয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছে। পিয়াজের দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। বরং কিছু পণ্যে বেড়েছে। আলুতে দেখলাম ৫ টাকা বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সবকিছুর দাম বাড়াচ্ছেন কিন্তু অভিযানে কোন ফায়দা দেখছি না। শুধু কাঁচাবাচজার নয়, করোনা ভাইরাসের কারণে মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ সব মেডিকেল পণ্যের দামও বেড়েছে। পরশু একটি মাস্ক কিনলাম ৩০ টাকা আজ দেখি ৫০ টাকা। দেখছি অভিযান চলছে তবে অভিযান শেষ হলে ব্যবসায়ীরা আগের মতোই বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন।
জানা গেছে, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েল বাজার মনিটরিং টিম এবং জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে দাম বেশি নেয়ার প্রমাণ পায়। আর এ কারণে প্রতিদিন অনেক ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এতকিছুর পরও অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তবে বাজারে অব্যাহত অভিযানে কিছুটা সুফল আসতে শুরু করেছে। গতকাল শ্যামবাজার পিয়াজের আড়ৎসহ রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে র‌্যাব। এর পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকেও বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Raju
২৩ মার্চ ২০২০, সোমবার, ১০:১৫

বাজারে পাইকারী দোকানে কোন কোন পন্য ১০-২০ বাড়লে দেখা যায় এলাকার খুচরা দোকানীরা সেটা ৪০-৫০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন,শুধু বাজার মনিটরিং করলে হবে না এলাকা ভিত্তিক সৎ ও নির্ভর যোগ্য মনিটরিং দরকার,আমাদের প্রায় সবকিছুতেই সর্ষের মধ্যে ভূত দেখা যায়, so সবার শূভ বুদ্বির উদয় হোক।সব জায়গায় তো আর "সরওয়ার আলম" পাওয়া যাবে না।

আবুল কাসেম
২২ মার্চ ২০২০, রবিবার, ৫:৪৭

অসাধু বিবেক বর্জিত ব্যবসায়ীদের দোকান সীলগালা করা যায় কিনা ভাববার সময় হয়েছে। শুধু জরিমানা করলে দেখা যায় তারা জরিমানা পুষিয়ে নিতে আবারও বেশি দাম নিচ্ছে। তাই শাস্তির মাত্রা কঠোর করা উচিত।

জামশেদ পাটোয়ারী
২৩ মার্চ ২০২০, সোমবার, ১২:৩১

প্রতিটি দোকানের সামনে ভ্রাম্যমান আদালতের ফোন নাম্বার টানিয়ে দিতে হবে। যাতে বিক্রেতা বেশী দাম চাইলেই ক্রেতারা তৎক্ষণাত ফোন করতে পারে।

অন্যান্য খবর