× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার

আরো তিনজন করোনা আক্রান্ত

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ মার্চ ২০২০, সোমবার, ৮:৫৯

দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই ভাইরাসে নতুন করে আরো তিনজন আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছে সরকার। তাদের মধ্যে দু’জন দেশের বাইরে থেকে এসেছেন। অপরজন পরিবারের একজন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসায় আক্রান্ত হন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এই তথ্য জানিয়েছে। গতকাল বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে করোনা নিয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথৗ্য জানান আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
তিনি জানান, নতুন আক্রান্ত তিন জনের মধ্যে দুই জন পুরুষ, একজন নারী। শারীরিকভাবে তিন জনের লক্ষণ মৃদু।
ডা. ফ্লোরা বলেন, এ নিয়ে মোট সংক্রমণের সংখ্যা ২৭। দেশে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই জন মারা গেছেন। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন ৪০ জন। আক্রান্ত চিকিৎসাধীন ২০ জনের মধ্যে একজনের কিডনি সমস্যাসহ আরো কিছু জটিলতা রয়েছে। এছাড়া সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো দুজন, মোট সুস্থ পাঁচজন। তবে নতুন করে কারো মৃত্যু হয়নি। অর্থাৎ করোনায় দেশে মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত দুজনই। সিঙ্গাপুরের রোগী এখনও আইসিইউতে আছেন। তার অবস্থা অপরিবর্তিত। বর্তমানে ১৩ হাজার কিট আছে। আরও ৩০ হাজার আসবে। একশ’ নতুন ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা হচ্ছে।চীন থেকে ১০ হাজার কিট আসছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. ফ্লোরা বলেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার আগে সময় নিচ্ছি। প্রত্যেক ক্ষেত্রে সোর্স অব ইনফেকশন চিহ্নিত করতে চাইছি। তারা (আক্রান্ত ব্যক্তিরা) কোথায় গেছেন সেসব জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কিনা সেটা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আপনাদের নিশ্চিত হলে জানানো হবে। মিরপুরে করোনায় মৃত্যু ব্যক্তির সত্যতা তাদের কাছে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সন্দেহ হলেই পরীক্ষা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সন্দেহের সর্বোচ্চ পরীক্ষা হয়েছে ৬৫টি। এরমধ্যে তিন জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই পর্যন্ত দেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৬৪টি। ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৯৯০জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ২৩ হাজার ৫৪৮জন। ৪০ জনের নিউমোনিয়ার পরীক্ষাও হয়েছে। এতে কারো শরীরে করোনা পাওয়া যায়নি।
অতি বয়স্করা ঘরে থাকুন: অতি বয়স্ক ব্যক্তি ও যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে তাদের অত্যাবশ্যক প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইইডিসিআর। গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, অতি বয়স্করা ঘরের মধ্যে থাকবেন। প্রয়োজন না হলে বাইরে বের হবেন না। ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং অপরিচিত কেউ যদি বাসায় আসে বা বাইরে থেকে কেউ এসেছেন এমন কারও কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধোবেন, অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করবেন না। ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগীর সংস্পর্শ এডিয়ে চলুন। শুধু কভিড-১৯ এর জন্য ব্যাপারটি প্রযোজ্য নয় বরং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ রয়েছে তেমন ব্যক্তির সংস্পর্শও এড়িয়ে চলুন। শিষ্টাচার মেনে চলুন, অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন। বাইরে যাওয়া যদি অত্যাবশ্যক হয় সেক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করুন, কারও সঙ্গে করমর্দন, কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকুন। তিনি বলেন, বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
জুম অ্যাপের মাধ্যমে ব্রিফ করবে আইইডিসিআর: আজ সোমবার থেকে জুম অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফ করবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, প্রতিদিনের মতোই বেলা ১২টায় এ ব্রিফিংও হবে। ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য ই-মেইলে আমন্ত্রণপত্রও পাঠানো হবে। তখন সাংবাদিকরা এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন।
স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশি প্রবেশ নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের সব স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশি নাগরিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। করোনা প্রতিরোধে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মনিরা হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে বলা হয়, সমপ্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে করোনা ভাইরাসের অধিকতর সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রোববার (২২শে মার্চ) থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের চালু সব স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশি  নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো।
সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে না: সোমবার (আজ, ২৩শে মার্চ) সরকারের মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানান, এটি নতুন সিদ্ধান্ত নয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক হচ্ছে না, তবে তা করোনার কারণে নয়। ২২ এবং ২৩শে মার্চ ছিল মুজিববর্ষ উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন। এই অধিবেশনের কারণেই ২৩শে মার্চ সোমবার নিয়মিত মন্ত্রিসভার বৈঠক আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কার্যতালিকায় রাখা ছিল না। কিন্তু, পরবর্তীতে করোনার কারণে মুজিববর্ষের সেই বিশেষ অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠক না হওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সর্বস্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও এর প্রাদুর্ভাবজনিত যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই আদেশের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে যে এলাকায় বর্তমানে কর্মরত আছেন, তিনি সেই এলাকার বাইরে অন্য কোথায় যেতে পারবেন না। সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ অন্য যেকোনো ছুটিতেও তারা কর্মক্ষেত্রের বাইরে যেতে পারবেন না। শুক্রবার বা অন্য যেকোনো সরকারি ছুটির দিনও তারা ওই এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। আদেশে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) প্রতিরোধ ও এর প্রাদুর্ভাবজনিত যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিভাগ/ জেলা/উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত
করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব ঠেকাতে স্থগিত করা হয়েছে এইএসসি ও সমমানের পরিক্ষা। এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে জানানো হবে পরবর্তী তারিখ। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালায়নের তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষ ২০২০ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত করা হয়েছে। আগমী এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ জানানো হবে।
আগামী ১ এপ্রিল  থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী। ১লা এপ্রিল শুরু হয়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা ৪ঠা মে পর্যন্ত হবার কথা ছিলো। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা পরদিন ৫ই মে থেকে শুরু হয়ে ১৩ই মে পর্যন্ত হবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জানা যায়, এই বিষয়ে শিক্ষাবোবোর্ড চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা করা হয়। এইসভায় পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়াও এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ স্থগিত করেছে শিক্ষাবোর্ড। যার নির্দেশনা বোর্ডগুলো ওয়েবসাইটে দেয়া হয়। এই বিষয়ে আন্ত:শিক্ষাবোর্ড ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরবর্তী ১৫ দিন পর পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে সভা করে এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে পরবর্তী পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর