× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার

নগদ টাকা তোলার চাপ

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:০৪

করোনা ভাইরাসের কারণে রাজধানীর ব্যাংকগুলোতে সতর্কতার মধ্যে লেনদেন হলেও নগদ টাকা তোলার চাপ বেড়ে গেছে ব্যাপকভাবে। এর বিপরীতে কমে গেছে টাকা জমার পরিমাণ। অনেক গ্রাহক মনে করছেন যদি লকডাউন হয়ে যায়, এ কারণে বেশিরভাগই নগদ টাকা তুলছেন। এর বাইরে এটিএম থেকেও টাকা তোলার বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেনও বেড়েছে। সব মিলে নগদ টাকার বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। গ্রাহকের এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে অনেক ব্যাংক।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, করোনার কারণে মানুষের মধ্যে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ফলে কয়েক দিন ধরেই চাল, ডাল, তেল, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটা বেড়েছে।
এতে বাড়তি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। আবার অনেকেই নগদ টাকা তুলে বাসাবাড়িতে রাখছেন। ফলে ব্যাংকগুলোতে চাপ বাড়ছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বেশিরভাগ ব্যাংক বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। ব্যাংকের শাখাগুলোর ঢুকতে প্রধান গেটে সংক্রমণ নিধন হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হচ্ছে গ্রাহকদের। থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে নির্ণয় করা হচ্ছে শরীরের তাপমাত্রা। তবে ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক উপস্থিতি অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম। এর পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বেশ সতর্ক। মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পড়ে অফিস করছেন অনেকে। রাজধানীর মতিঝিল এলাকার সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
জানা গেছে, নগদ টাকার চাহিদা বাড়ায় ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তাতেও সংকট মিটছে না। তাই বিকল্প হিসেবে ব্যাংকের হাতে থাকা অতিরিক্ত সরকারি সিকিউরিটিজ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বাজারমূল্যে বিক্রি করার সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সুত্র জানায়, তারল্য সংকটে পড়ায় গত ১৮ই মার্চ এক দিনেই ১০ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার রেপো ও বিশেষ তারল্য সহায়তা দেয়া হয়েছে প্রায় ২৮টি ব্যাংককে। এর আগে ১৬ই মার্চ প্রায় ৩০টি ব্যাংককে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার রেপো ও বিশেষ তারল্য সংহায়তা দেয়া হয়। আর ১২ই মার্চ প্রায় ২৬টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। কিন্তু এতেও তাদের সংকট কাটছে না। তাই এবার ব্যাংকের হাতে থাকা অতিরিক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাজারমূল্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সার্কুলারে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তারল্য ব্যবস্থাপনায় যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করেছে। সে অনুযায়ী কোনো তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ বা এসএলআর সংরক্ষণের পর অতিরিক্ত সরকারি সিকিউরিটিজ থাকলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বাজারমূল্যে বিক্রি করতে পারবে।
এদিকে রাজধানীর মতিঝিল পূবালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় দেখা গেছে, ব্যাংকের প্রবেশ গেটে নিরাপত্তাকর্মী হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ ব্যাংকে প্রবেশ করলেই তার হাতে স্প্রে করছেন। ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব মুখে মাস্ক পড়ে আছেন তবে গ্রাহক উপস্থিতি কম। একই অবস্থা দেখা যায় বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকে।
এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকও করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বেশ সতর্ক। থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে নির্ণয় করা হচ্ছে শরীরের তাপমাত্রা। এরপর গ্রাহকের হাতে দেয়া হচ্ছে জীবাণু প্রতিরোধকারী তরল পদার্থ।
সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল প্রধান শাখার মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মুদ্দাসসির হাসান জানান, আমাদের ব্যাংকের লেনদেনে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। সকাল থেকে ব্যাংকে গ্রাহকের দীর্ঘলাইন। তবে টাকা জমা দেয়ার চেয়ে উত্তোলনের পরিমাণ বেশি। তিনি জানান, অনেক গ্রাহক মনে করছেন যদি লকডাউন হয়ে যায়। তখন নগদ টাকা কোথায় পাবো। এ আতঙ্কে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও বিভিন্ন আমানত স্কিমের টাকা উত্তোলনে গ্রাহকদের চাপ বেশি।
তবে সরকারি ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা বেশি থাকলেও উল্টো চিত্র বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে। গ্রাহক উপস্থিতি কম, প্রয়োজন ছাড়া কেউ আসে না ব্যাংকে। এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় আমাদের শাখায় গ্রাহকদের উপস্থিতি কমেছে। পাশাপাশি কমেছে লেনদেনও। অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় লেনদেন সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কম।
ব্যাংকাররা জানান, কোভিড-১৯ আতঙ্কে ব্যাংকের শাখায় গ্রাহক পর্যায়ে লেনদেন কমেছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমদানি-রপ্তানির এলসি খোলার হারও অনেক কমেছে। করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যে অনেক ব্যাংক এরই মধ্যে হ্যান্ড গ্লাভস পড়ে লেনদেন বাধ্যতামূলক করেছে। প্রধান কার্যালয়, আঞ্চলিক কার্যালয় ও শাখায় প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।
এদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিটি ব্যাংক শাখায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি নগদ টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সব সময় মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। এক প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর