× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেট
ঢাকা, ২৮ মার্চ ২০২০, শনিবার

তাহিরপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩৬ বছর ধরে চিকিৎসক নেই

বাংলারজমিন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | ২৭ মার্চ ২০২০, শুক্রবার, ৭:০২

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গত ৩৬ বছর ধরে চিকিৎসক না থাকায় এ ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। এ ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্য সেবার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালের ২০শে মার্চ প্রতিষ্ঠা করা হয় বাদাঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। কিন্তু শুরু থেকেই এ কেন্দ্রে কাগজে-কলমে একজন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনদিন এক ঘণ্টার জন্যও মেডিকেল অফিসারের স্বাস্থ্য সেবা পায়নি এ ইউনিয়নবাসী। অপরদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে নানান সমস্যায় জর্জরিত।
সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে মেডিকেল অফিসার ১ জন, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ১ জন, ফার্মাসিস্ট ১ জন, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা ১ জন, আয়া ১ জন, এমএলএসএস ১ জনসহ মোট ৬ জনের পদ থাকলেও রহস্যজনক কারণে গত ৩৬ বছরের মধ্যে ১ দিনের জন্যও এখানে কোনো মেডিকেল অফিসার অফিস বা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেননি। ফলে এ ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল ভবনেও রয়েছে অসংখ্য ফাটল, ফ্লোরেই নেই টাইলস। দেখলে মনে হবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি যেন নিজেই রোগী। বাউন্ডারি দেওয়াল থাকলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুরক্ষার জন্য নেই পর্যাপ্ত উচ্চতা কিংবা বাউন্ডারির উপরের অংশে কাঁটাতারের বেষ্টনী।
বাউন্ডারির পূর্ব পাশের দেওয়ালের মাটি সরে গিয়ে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পিছনে আবাসিক কোয়ার্টারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। রোগীদের জন্য নেই আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল, নেই কোনো শৌচাগার। যার ফলে  স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সেবা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। এই কেন্দ্রটিতে ২৪ ঘণ্টা ডেলিভারীর সার্ভিস চালু থাকলেও জরুরি রোগী পরিবহনে নেই কোনো এম্বুলেন্স।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিশ্বজিৎ কৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, এ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও তিনটিতেই মেডিকেল অফিসারের পদটি শূন্য। তিনি এখানে আসা পর্যন্ত কোনো মেডিকেল অফিসার পাননি বলে জানান। সুনামগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক এ বিষয়ে জানান, সারা দেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক সংকটের কারণে আমরা চিকিৎসক পদায়ন করতে পারি না। এ জেলার যেসকল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক সংকট রয়েছে আমি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তিনি বলেন, আমার জানা মতে বাদাঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কয়েকবার চিকিৎসক দেয়া হয়েছে। তবে তারা কেন কি কারণে সেখানে থাকেন না তা আমার জানা নেই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর