× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেট
ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার

গোয়াইনঘাট সরকারি জলমহালে সন্ত্রাসীদের মাছ লুট

বাংলারজমিন

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি | ২৭ মার্চ ২০২০, শুক্রবার, ৭:৪২

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের সরকারি ইজারাকৃত পাতনীখাল জলমহাল থেকে মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীরা। এক ঘটনায় ২টি গ্রুপ মুখোমুখি রয়েছে। বৈধভাবে ইজারা নিয়েও উক্ত পাতনীখালের মৎস্য মহলের ফিশিং করতে না পারায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে পাতনীখালের ইজারাদার বিলাল উদ্দিন ও অপরাপর অংশীদার ব্যবসায়ী। ইতিপূর্বে কয়েক দফা ফিশিং করে উক্ত জলমহাল থেকে অন্তত ১০ লাখ টাকার বেশি মাছ লুট করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বৈধ ইজারাদাররা মাছ ফিশিং করতে গেলে বাধা দেয় কাঁঠালকান্দি গ্রামের সঙ্গবদ্ধ একটি সন্ত্রাসী চক্র। চক্রটি মাছ লুটের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২১শে মার্চ ইজারাদারদের ওপর আক্রমণ করে প্রকাশ্যে জোরপূর্বক জাল ফেলে ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসী ওই চক্রটি। এ ঘটনায় ইজারাদার বিলাল উদ্দিন গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতা চাইলে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৎস্য লুটে নিয়োজিত ২টি জাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের পাতনীখালের ইজারাদার পাতনী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতিসহ সকল সদস্যবৃন্দ বিগত ৭ই জানুয়ারি দুপুরে তাদের ইজারাকৃত পাতনীখালের মাছ আহরণের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও জাল নিয়ে অবস্থান করেন।
যাবতীয় প্রস্তুতি শেষে মাছ আহরণের জন্য পাতনীখালের পানিতে জাল ফেললে পার্শ্ববর্তী কাঁঠালকান্দি গ্রামের সন্ত্রাসী শফিক মিয়ার ছেলে আছরব আলী (৩০), আবদুল আলীর ছেলে মনির উদ্দিন (২২), ইউনুছ আলীর ছেলে আম্বর আলী (২২), মৃত মনেহর আলীর ছেলে ইন্তাজ আলী (৫০), মজম্মিল আলী (৫০), পিতা অজ্ঞাত, মজু মিয়র ছেলে আঙ্গুর মিয়া (৪৫), হায়দর আলী (৩২), হাসন আলী (৩৫), আজর আলী, সৈয়দ আলীর ছেলে আরমান (৪৫) এবং গুজারকান্দি গ্রামের মনাফ মিয়ার ছেলে রাজ্জাক (৪০)সহ কয়েক শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হইয়া ইজারাদার ও তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের উপর অতর্কিত হামলা করে ইজারাদারসহ বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। এমন খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাকিব ও থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল আহাদসহ অর্ধ শতাধিক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় ইজারাপক্ষ গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করলে আসামিপক্ষ জামিনে বের হয়ে গত ২১শে মার্চ দিনের বেলায় ইজারাকৃত নদীতে জাল ফেলে জোরপূর্বকভাবে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার মাছ আহরণ করে নিয়ে যায়। জোরপূর্বক মাছ আহরণের বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পাতনীখাল থেকে ৬০-৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২টি জাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে ইজারাদার বিলাল উদ্দিন জানান, সাবেক গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার পাল সরকারি বিধি মোতাবেক ২৭শে মার্চ ১লাখ ৩৭ হাজার টাকা মূল্য পাতনী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. বিলাল উদ্দিনের অনুখূলে পাতনীখাল জলমহাল ইজারা প্রদান করেন। আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, গোয়াইনঘাট থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বৈধভাবে পাতনীখালের ইজারা গ্রহণ করেছি। এরপর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা পাতনীখাল জলমহালটি সমিতিকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা বৈধ উপায়ে ইজারা গ্রহণ করেও কাঁঠালকান্দির একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে মাছ আহরণ করতে পারছি না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গোয়াইনঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ দ্বয়কে আমরা একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তারপরেও আমাদের বৈধ ইজারাকৃত পাতনীখালে গোপনে এবং প্রকাশেও মাছ লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে মহলটি। এতে বাধা দিলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল আহাদ বলেন, পাতনীখালের ইজারাদারদের ওপর মৎস্য লুটরা একাধিকবার আক্রমণ করেছে। সেই সঙ্গে রাত এবং দিনের বেলায় মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। গত শনিবার মাছ লুটের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২টি জাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাকিব বলেন, সরকারের নিয়মনীতি যথাযথভাবে পালনের মধ্য দিয়ে পাতনীখালের ইজারা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু একটি পক্ষ বৈধ ইজারাদারকে মাছ আহরণে বাধা দিচ্ছে। এমন ঘটনায় থানা পুলিশকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাহাব উদ্দিন শিহাব প্রতিবেদককে জানান, সরকারি নিয়মনীতি অবলম্বণ করে দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা প্রশাসন পাতনীখাল জল মহালটি ইজারা দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও ইজারা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু একটি জলমহাল বৈধ ইজারাদারদের একাধিকবার বাধা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রকাশ্যে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে এমন খবর আমিও একাধিকবার শুনেছি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর