× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ৭ জুন ২০২০, রবিবার

রহমতের দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে দ্রুত

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

মাওলানা এম.এ.করিম ইবনে মছব্বির | ২৬ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, ১২:০৬

মাহে রমজানের দ্বিতীয় দিন আজ। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ মাসে সব পাপ, অন্যায়, অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। মহান আল্লাহই পারেন রহমতের অক্সিজেন দিয়ে বিশ্ব মানবকে রক্ষা করতে। আল্লাহ ক্ষমাশীল।  মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন যে,"ওয়া তাছিমু বি, হাবলিল্লাহি, জামিয়ান ওয়ালা তাফাররাক্কু।" অর্থ: তোমরা আল্লাহর রশিকে শক্ত করে, মজবুত কর আঁকড়ে ধর।"
করোনা ভাইরাসের কারণে কোরআন নাজিলের মাস এই রমজানে মসজিদে হাফেজরা কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে খতমে তারাবীহর নামাজ  পড়াতে পারছেন না। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন মুসল্লীরা।  করোনাভাইরাস ছোঁয়াছে থেকে রক্ষার জন্যই এ ব্যবস্থা।
বর্তমান বিশ্বে আমাদের মুসলিম উম্মাহর হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানির ফলে আল্লাহর গজব বিপরীতমূখী হয়ে গেছে। হ্যান্ডশ্যাক বা করর্মদনের দোয়া ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম।
বুক মোলাক্বাতের সময় পড়তে হয় আল্লাহুম্মাজিদ মহব্বতি লিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি। এসব আমল বেশিরভাগ মুসলিমদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে। জায়গা করে নিয়েছে হায়! হ্যালো।  
জানাজার নামাজ ফরজে কেফায়া। অথচ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের সেই শেষ বিদায়ের নামাজেও আত্নীয়, স্বজন, পাড়া, প্রতিবেশী কেউ অংশ গ্রহন করতে পারছেনা। এসব নিয়ামত থেকে আজ আমরা বঞ্চিত।  আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন যে, "তোমাদের আগেও আমি আল্লাহ বহু মানব গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যখন তারা সীমা অতিক্রম করেছিল।"(সুরা: ইউনুস,  আয়াত-১৩)।
তাই সকল মুসলমানকে রমজান মাসের ইবাদতের মোক্ষম সময়কে কাজে লাগাতে হবে। পাপ কাজের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা, ইস্তিগফারের মাধ্যমে মানবজাতির জন্য প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহপাক যেন আমাদের আগের অবস্থা ফিরিয়ে দেন। রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের। আজ দ্বিতীয় দিন চলে যাচ্ছে। আমরা যেন কোন ভাবেই আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত না হই। মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল। তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি তাঁর বান্দাদের ফিরিয়ে দেন না। আসুন আমরা অতীত অপরাধের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা চাই। এই রহমত, নাজাত ও মাগফিরাতের মাস যেন হেলায় হারিয়ে না ফেলি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
২৬ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, ৪:০৯

যারা অকৃতজ্ঞ শুধু তারাই আল্লাহর নিয়ামাতের শুকরিয়া আদায় করেনা। পৃথিবীতে নাস্তিকের সংখ্যা কম নয়। তারা শুধু অকৃতজ্ঞ নয় ; কৃতঘ্নও বটে। এখন করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেনের হাহাকার চলছে। অথচ, দয়াময় আল্লাহ প্রকৃতিতে যে অবারিত অক্সিজেন সাপ্লাই দিয়ে জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ ও বৃক্ষ তরুলতার জীবন বাঁচিয়ে রেখেছেন, সেজন্য আমরা সৃষ্টির সেরা মনুষ্য জাতি কী আল্লাহর এই দয়ার শোকর আদায় করছি? অথচ আমরা মানুষেরা ব্যতিত প্রকৃতির অন্যান্য সকল প্রাণী আল্লাহর আনুগত্য করে যাচ্ছে।ভোরে পাখিদের ঘুম ভাঙ্গে আল্লাহর জিকিরের কলরব দিয়ে। গাছপালা, জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ, এককথায় আসমান ও জমিনের প্রত্যেকটি বস্তু মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য সিজদাহ্ করে ও তাঁর তাসবিহ করে।দেখুন, করোনা ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র একটি অদৃশ্য বস্তু। কিন্তু এর ভয়াবহতা বি-শা-ল। মনুষ্য জগৎ আজ এর আক্রমণে দিশেহারা। চৌকস গেরিলা বাহিনীর চেয়েও ভয়ংকর আক্রমণ রচনায় পারদর্শিতা প্রদর্শন করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার জন্য গর্বিত বিশ্ব নেতারা আজ কিংকর্তব্যবিমূঢ় ! লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে যে, দাম্ভিক, অকৃতজ্ঞ ও কৃতঘ্ন মনুষ্য জাতিকেই করোনা ভাইরাস তার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। বিশাল সৃষ্টি জগতের আর কোথাও এই ভাইরাসের ভয়ংকর থাবা নেই। নেই কোনো বিপর্যয়। ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে দখলদারিত্ব ও সম্প্রসারণ নীতির বেড়াজালে মানুষ বিভোর। নাই-নাই, খাই-খাই, যত পাই তত খাই, আরও চাই আরও পাইয়ের নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে সৃষ্টির সেরা আল্লাহর গোলাম এই মানুষ জাতি। একটিবারও তাদের ভাববার ফুরসত নেই যে, তারা সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহর গোলামীর জন্যই তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। মানবতার মুক্তির জন্য সত্যের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধ তাদের দায়িত্ব। নশ্বর দুনিয়া ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে। নিজের প্রতিটি কৃতকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেবে দিতে হবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে। মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর নাফরমানীর পথ ছেড়ে সৃষ্টিকর্তা মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর গোলামীর পথে ফিরে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর আজাব থেকে নিষ্কৃতি নেই। আমিতো মনে করি, আমি গোলামের ঘরের গোলাম। গোলামই আমার স্রেষ্ঠ পরিচয়। গোলামী করা আমার কর্তব্য এবং দায়িত্ব। যিনি সৃষ্টি করেছেন সুখে-দুখে ও সর্বাবস্থায় তাঁর দাসত্ব-গোলামী বা ইবাদাত করতে হবে। তবেই মুক্তি। নইলে আরও ভয়ানক কিছুর অপেক্ষা করতে হবে। পবিত্র রমাদান আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ নিয়ে হাজির হয়েছে। রহমাতের অংশ এখন দ্রুত অতিবাহিত হচ্ছে। নিতান্ত বদনসিব লোক ব্যতিত এই মহা নিয়ামাত থেকে কেউ গাফেল থাকতে পারেনা। হে আল্লাহ ! আপনার অপার রহমাতের একটি কণা থেকেও আমাদের বঞ্চিত করবেননা। আমাদের ক্ষমা করুন। হেদায়েত নসিব করুন। আসমানী-জমিনী আজাবসহ সকল প্রকার বালা মুসিবত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।।

অন্যান্য খবর