× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ৩০ মে ২০২০, শনিবার

সিলেটে কে টেনে ধরবে করোনার লাগাম?

বাংলারজমিন

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ২৩ মে ২০২০, শনিবার, ১২:৪১

সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬০৮ জন। গেলো এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন। বিভাগের মধ্যে প্রায় অর্ধেক আক্রান্ত সিলেট জেলাতেই। করোনা হটস্পটে পরিনত হয়েছে সিলেট। শুধু শহরই নয়, গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সিলেটে করোনার ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের কথা বলছেন। কিন্তু দিশা ফিরছে না কারো। সিলেটে করোনার লাগাম টেনে ধরার মতো নেই কেউ।
লকডাউন না মানায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা পুরোপুরি হতাশ। অন্যদিকে- যে হারে সিলেটে রোগী বাড়ছে সেভাবে নেই চিকিৎসা ব্যবস্থাও। সিলেটে একশ’ শয্যার করোনা আইসোলেশন হাসপাতালেও রোগী বাড়ছে। কয়েক দিন পর এই হাসপাতালে রোগী সংকুলান হবে না। চিকিৎসার পরিধি বাড়াতে নতুন করে কোনো সিদ্বান্ত নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার একদিনেই সিলেট বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ জন। এর মধ্যে ৪১ জনই হচ্ছেন সিলেট জেলার। বাকী ৪ জন সুনামগঞ্জ জেলার। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে এই রোগীরা শনাক্ত হয়। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানিয়েছেন- ওসমানীতে ১৮৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়। এরমধ্যে ৪১টি পজেটিভ আসে। শনাক্ত হওয়া সকলেই সিলেট জেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে সিলেট নগরী ও সদর উপজেলার বাসিন্দাই বেশি। এছাড়া কানাইঘাট ও গেলাপাগঞ্জেরও কয়েকজন রয়েছেন। এদিকে, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে ৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ৪টি পজেটিভ আসে। শনাক্ত হওয়া সকলেই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে সিলেট বিভাগের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬০৮ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৭৭ জন, সুনামগঞ্জে ৯২ জন, হবিগঞ্জে ১৫৬ জন ও মৌলভীবাজারে ৮৩জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন- ১১ জন, সুস্থ ১৫৭ জন। হাসপাতালে ভর্তি আছেন- ১৬৯জন। ওসমানী হাসপাতালের উপ পরিচালক জানান- সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ইতিমধ্যে ৫০ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন। আর হয়তো সর্বোচ্চ ১০ জন রোগী ভর্তি করা যাবে। এরপর রোগী ভর্তি করার কোনো সুযোগ নেই। বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও এখন পর্যন্ত করা হয়নি। সুতরাং রোগী বাড়লে পরবর্তী চিকিৎসা কীভাবে হবে সেটি জানা নেই বলে জানান তিনি। এদিকে- সিলেটে মানা হচ্ছে না লকডাউন। ঈদ মার্কেট জমে উঠেছে শহরে। ধীরে ধীরে গোটা নগরই ঈদ শপিং শুরু হয়েছে। ফুটপাতও জমজমাট। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিক সিলেট নগর। গ্রাম এলাকা থেকে মানুষ এসে সিলেটে ঈদ শপিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি হতাশ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান জানিয়েছেন- লকডাউন কার্যকর না হওয়ার কারনেই সিলেটের এই অবস্থা। এখন লকডাউন কিংবা কারফিউ দিলে সংক্রমন ঠেকানো যাবে কী না- সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এরপরও যতটুকু কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে ততটুকু বজায় করতে হলে ১৫ দিনের জন্য পুরোপুরি কার্যকর লকডাউনে যেতে হবে। সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের মার্কেট বন্ধ রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। ব্যবসায়ীরা মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্বান্ত নিলেও পরবর্তীতে সেটি মানেননি। ফলে আরিফুল হক চৌধুরী শুরুতে করোনা প্রতিরোধে মাঠে থাকলেও এখন তিনি নিরব হয়ে পড়েছেন। সিলেটের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে করোনা প্রতিরোধে সিলেটে লাগাম টেনে ধরার কেউ নেই বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর