× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ৩ জুলাই ২০২০, শুক্রবার

ফরিদপুরের কামরুলের বাড়িতে চলছে মাতম

এক্সক্লুসিভ

ফরিদপুর প্রতিনিধি | ৩১ মে ২০২০, রবিবার, ৭:০০

পরিবারের অভাব অনটন ঘুচাতে ভিটেমাটি বিক্রি করে লিবিয়ায় গিয়েছিল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লবদি ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের কবির শেখের ছেলে কামরুল শেখ। মানবপাচারকারীদের গুলিতে নিহত হওয়ায় পিতামহের সে স্বপ্ন মাটি গেছে। গত মঙ্গলবার লিবিয়াতে মানবপাচারকারী চক্রের গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ফরিদপুরের সালথার কামরুলও ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পরিবারের সদস্যরা জানেন, তাদের প্রাণের ধন আর নেই। খবর পাওয়ার পর থেকেই এলাকাটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। এখনও চলছে কামরুলের পরিবারের শোকে মাতম। পরিবারের সদস্যরা জানায়, ৫মাস আগে গোপালগঞ্জ জেলার মুকছেদপুরের রব নামের এক দালালের মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ টাকায় চুক্তিতে লিবিয়ার উদ্দ্যেশে রওনা হয়। প্রথমে তার ১৫ দিন ভারতে থেকে লিবিয়ায় যাওয়ার পরেই মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি হয়।
তার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। মোবাইলের মাধ্যমে মুক্তিপণের কথা বাড়িতে জানায়। জানের বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা তাদের দিতেই হবে। হতদরিদ্র পিতা সমিতি থেকে ঋণ করে এবং ক্ষেতের জমি বিক্রি করে আগেই সব দিয়েছিলভ এখন বাকি তার রয়েছে একটি ভাঙ্গা ঘরখানা। সেটুকু বেচলে ওদের চাহিদা মতো টাকা হবে না। ফলে টাকা দিতে না পারায় জীবন দিতে হলো তাদের আদরের সন্তানকে। নিহত কামরুলের স্ত্রী রীনা বেগমের পাশাপাশি দুই বছরের ছেলে রমজান মাতা পিতা নিয়ে তার সংসার। এখন তাদের বাচার শেষ অবলম্বন হারিয়ে পথের ফকির কিভাবে চলবে তাদের জীবন এ চিন্তা দিশেহারা। এখন তারা নিহতদের লাশ দ্রুত ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতার কামনা করছেন। এলাকাবাসীও সরকারের সহযোগিতার পাশাপশি দালাল চত্রেুর উপযুক্ত বিচার দাবি করছে। নিহতের বড় ভাই ফারুক শেখ জানান, দালাল চক্র লিবিয়ার একটি শহরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। তাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পাচারকারী চক্রটি। ভাইয়ের জীবনের কথা ভেবে টাকা দিতে রাজিও হন তারা। কিন্তু টাকা পাঠানোর আগেই খবর এলো দালাল চক্র লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদা শহরে কামরুলসহ ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে। সালথা উপজেলার নির্বাহী অফিসার হাসিব সরকার বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবো ওই পরিবারকে।
 জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কামরুলের মরদেহ আইনী প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত দেশে আনার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া যে দালাল চক্রের দ্বারা এমন ঘটনা ঘটেছে তাদের কে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর