× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২০, বুধবার

সিলেটে চোখ খুলে দিলো ‘কলের গাড়ি’

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ৩১ মে ২০২০, রবিবার, ৭:৩৫

সিলেটের ‘কলের গাড়ি’। সংস্কৃতিকর্মীদের নতুন প্ল্যাটফরম। করোনায় ব্যস্ত সিলেটের এই কলের গাড়ি। কল দিলেই ঘরে পৌঁছে দেয়া হতো খাবার। রাত নেই, দিন নেই ব্যস্ত সময় কাটান সংস্কৃতিকর্মীরা। প্রথমে নিজেরাই ফান্ড তৈরি করেন। অভুক্ত থাকা মানুষের মুখে তুলে দেন খাদ্য সামগ্রী। শুধু তাই নয়, রান্না খাবার খাবারও পৌছে দেন রাস্তায় থাকা মানুষের হাতে।
করোনাকালীন সময়ে সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীদের এই উদ্যোগ সব মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এগিয়ে যান অনেকেই। সাহায্যের হাত প্রসারিত করেন। যার যা আছে তাই নিয়ে করোনা মোকাবেলায় মানুষদের সাহায্য করে যান। আপাতত বন্ধ কলের গাড়ির কার্যক্রম। ঈদের দিন পর্যন্ত প্রায় দুই মাস সবাই ব্যস্ত ছিলেন। এ কারনে এক সপ্তাহের ‘বিরতি’ দেওয়া হয়েছে। আবারো ঘরবন্দি মানুষের প্রয়োজনে কলের গাড়ি কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। মহামারী করোনা। চারদিকে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। ২৬শে মার্চ থেকে ছুটি শুরু। ১১ই এপ্রিল থেকে সিলেট জেলায় লকডাউন। এর পরপরই সিলেটের মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। সিলেটের সকল সংস্কৃতিকর্মীরাও হয়ে পড়েন ঘরবন্দি। দেখা দেয় খাবার সংকট। ঘরবন্দি অনেক সংস্কৃতি কর্মীও পড়েন খাদ্য সংকটে। বিষয়টি জানাজানি হয় সিনিয়র কর্মীদের। তারা ঘরে বসে থাকলেন না। বেরিয়ে এলেন সিলেট অডিটোরিয়ামের মুক্তমঞ্চে। সেখানে বসেই পরিকল্পনা হয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। অন্তত নিজের পরিচিতজনেরা যাতে অভুক্ত না থাকে সেই উদ্যোগ। প্রথমে নিজেরাই নিজে নিজে সামর্থ মতো সাহায্য করেন। চাল, ডাল, তেল সহ খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে পৌঁছে কিছু কিছু সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন পেশার পরিচিত জনের বাড়িতে। তখনো সিলেটে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়নি। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ত্রাণ তহবিলও গঠন হয়নি। ফলে অভুক্ত মানুষের আহাজারী বেড়েই চলেছিলো। এমনিতেই মানুষ ঘরবন্দি। তার উপর ক্ষুধার জ্বালা। ফলে সংস্কৃতিকর্মীরা নিজেরা তাগিদ অনুভব করে কাজ শুরু করেন। উদ্যোগ বিফলে যায়নি। সফল হলেন সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীরা। তাদের মানবিক কার্যক্রম দেখে এগিয়ে এলেন সিলেটের অনেক মানুষ। বিদেশ থেকেও কেউ কেউ পাঠালেন সহযোগিতা। ‘মুক্তমঞ্চ’ লাগোয়া সিলেট অডিটোরিয়াম। সেখানে রাত হলেই সংস্কৃতি কর্মীরা ব্যস্ত হয়ে উঠেন। রাতে দলবেধে প্যাকেজিংয়ের কাজ করেন। এতে শরিক হন সিলেটের শিশু, মহিলা সংস্কৃতি কর্মীরা। অনেক শিশু ও মহিলারা নিজেদের লক্ষ্মীভাণ্ডারে জমানো টাকা এনে তুলে দেন সংস্কৃতিকর্মীদের হাতে। রাতের প্যাকেজিং শেষ হলেই দিনে শুরু হতো বিতরন। অর্ধশতাধিক সংস্কৃতি কর্মীর রয়েছে মোটরসাইকেল। এসব মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয় খাদ্য সামগ্রী। তখন নাম দেওয়া ‘কলের গাড়ি’। দেয়া হয় মোবাইল নম্বর। ঘরবন্দি মানুষজন যারাই ফোন দিয়েছেন তাদের ঘরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে খাদ্য সহায়তা। এ সহায়তা ছিলো নিরবে। ফলে শুধু নিম্ন মধ্যবিত্তরাই নয়, অনেক মধ্যভিত্তদের দুর্যোগে পাশে ছিলো কলের গাড়ি। খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি রান্না করা খাদ্য সামগ্রী তুলে দেয়া শহরের মানুষের কাছে। সংস্কৃতি কর্মীরা জানান- রাস্তায় থাকা অভুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছিলো। কোথাও খাদ্য সামগ্রীর যোগান ছিলো না। এ কারনে খিচুরি কিংবা পোলাও রান্না হয়ে তুলে দেওয়া হয়েছে অভুক্তদের হাতে। এখানেই থেমে থাকেনি কলের গাড়ির কার্যক্রম। রমজানের পরই খুশির ঈদ। সংস্কৃতি কর্মীরা নিজেরাই নিজ নিজ বাড়ি থেকে সংগ্রহ শুরু করেন। অনেক বিত্তবান তাদের হাতে তুলে দেন নতুন কাপড়। এসব কাপড় নিতে আগ্রহীরাও যোগাযোগ করেন সংস্কৃতি কর্মীদের সঙ্গে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত ঘরবন্দি মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন জামাও। সিলেটের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমিনুল ইসলাম লিটন জানিয়েছেন- আমরা যারা সিনিয়র ছিলাম সবাই কীভাবে কলের গাড়িতে খাদ্য সামগ্রীর যোগান বাড়ানো যায় তাই নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি। কলের গাড়ির কার্যক্রমের সঙ্গে সিলেটের মেয়র, জেলা প্রশাসক, সাবেক মেয়র সহ বিভিন্ন শ্রেণীর গুনীজনেরাও সম্পৃক্ত ছিলেন। তারা নিজেরাও এসে কার্যক্রম পরিদর্শন করে যান। এতে করে সংস্কৃতি কর্মীরা আরো উৎসাহিত হন। তিনি বলেন- সিলেটের শতাধিক সংস্কৃতি সংগঠন এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। কেউ খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ, কেউ প্যাকেজিং, কেউ বিতরন। সবাই প্রাণখুলে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। সবার ঐক্যবদ্ধ আগ্রহ কলের গাড়ির এই প্লাটফর্মকে এগিয়ে নিয়েছে বলে জানান তিনি। সিলেটের সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ শিশু জানিয়েছেন- লকডাউনের পরপরই আমরা মানুষের কষ্ট দেখে আর ঘরে থাকতে পারেনি। বেরিয়ে আসি ঘর ছেড়ে। মানবতার ডাকে সাড়া দেন সবাই। মোবাইল নাম্বার দেই। যারা এই নম্বরে কল দিয়েছেন আমরা তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিয়েছি। মধ্য রমজানের পর এসে অনেক মধ্য ভিত্তের ফোন পাই। তারাও খাদ্য সংকটে পড়েছিলেন। অনেকেই মুখ খুলে সমস্যার কথা বলতে পারেননি। তাদের জন্যই আমাদের এই কার্যক্রম। এটি আগামীতেও চলমান থাকবে বলে জানান তিনি। সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত জানিয়েছেন- শুধু খাবার নয়, ঈদেও আমরা কাপড় পৌছে দিয়েছি। শিশু, কিশোর, কিশোরীরা ঘরে থেকে নতুন কাপড় দিয়ে ঈদ উযাপন করেছে। তাদের খুশিতে আমরা খুশি। এছাড়া রান্না করা খাবারও বিতরন করা হয়েছে। ‘কলের গাড়ি’ সিলেটে উৎসাহ যুগিয়েছে ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধাদের। যারা সম্মুখে থেকে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জানিয়েছে সম্মানও।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Robiul
৩১ মে ২০২০, রবিবার, ৯:০৬

ভাই আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাবার ভাষা আমার জানা নেই

আব্দুল হক
৩০ মে ২০২০, শনিবার, ৮:৪৯

মাশাআল্লাহ এই দুর্যোগে আপনারা যে কাজ করে যাচ্ছেন ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান করবেন ধন্যবাদ ভাই ও বোনেরা আমিন ইয়া রাব্বুল আলামিন

m siddiqui
৩১ মে ২০২০, রবিবার, ৮:৪১

সিলেটের কলের গাড়ী ওয়ালাদের হাজার ধন্যবাদ ঢাকার উততর সিটি ও দক্ষিন সিটির কতৃপক্ষরা , মানুষ গাড়ী দিয়াও চালাতে পারত এান ৸৸

অন্যান্য খবর