× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২০, বুধবার

ট্রেনে প্রথম দিন যাত্রীর চাপ ছিল কম

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১ জুন ২০২০, সোমবার, ৮:১০

করোনা ভাইরাসের কারণে টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে ট্রেন চলাচল। রেল মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে এসে ৭টি ট্রেন ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করেছে। আর কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেছে ৬টি ট্রেন। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, গতকাল সকাল সোয়া ৬টার দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৪টি কোচে অর্ধেকের কম যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয় কালনি এক্সপ্রেস ট্রেন। ট্রেনটিতে ৫২৪টি আসন থাকলেও মাত্র ১৪৩ জন যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি সিলেট ছেড়ে এসে দুপুর দেড়টায় ঢাকা পৌঁছায়। এছাড়া সকাল সাতটায় অর্ধেক আসন ফাঁকা নিয়ে রাজশাহী থেকে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১২টার দিকে ঢাকা এসে পৌঁছায়। বনলতা ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা ৯৮৯ জন। কিন্তু ট্রেনটি গতকাল ৪৯৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসে।
কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে ফের ট্রেনটি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, প্রথম ধাপে গতকাল মোট ৮ জোড়া ট্রেন চালানো হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনারবাংলা এক্সপ্রেস, সিলেট-ঢাকা রুটে কালনী এক্সপ্রেস, ঢাকা পঞ্চগড় রুটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, ঢাকা রাজশাহী রুটে বনলতা এক্সপ্রেস, ঢাকা লালমনিরহাট রুটে লালমনি এক্সপ্রেস, খুলনা চিলাহাটী রুটে চিত্রা এক্সপ্রেস, সিলেট-চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে পাহাড়িকা/উদয়ন এক্সপ্রেস। এরমধ্যে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি গতকাল চালানো হয়নি। আজ সোমবার সকালে ১৬টি বগি নিয়ে ট্রেনটি সিলেট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওয়ানা হবে।   
এদিকে, করোনাভাইরাসের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও স্টেশন কর্তৃপক্ষ ব্যাপক তৎপর ছিলেন। যাত্রীরা ফ্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করার আগে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের শরীপের তাপমাত্রা  মাপেন। বেশি তাপমাত্রার যাত্রীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।  পাশাপাশি ওই যাত্রীর কাছে ট্রেনের টিকেট আছে কিনা সেটিও পরীক্ষা করেন। তারপর সেখান থেকে বের হয়ে টেবিলে রাখা হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত ধুঁয়ে জীবাণুনাশক ট্রেতে জুতা ভিজিয়ে যাত্রীরা ভেতরে প্রবেশ করেন। যাত্রীদের নির্ধারিত ট্রেনে প্রবেশ করার আগে ট্রেনের স্টাফরা আবার যাত্রীদের শরীরে জীবানুনাশক স্প্রে করেন।
সরজমিন গতকাল দুপুরে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের সবগুলো টিকেট কাউন্টারগুলো বন্ধ। শুধুমাত্র অনলাইন টিকেটের প্রিন্ট কপির জন্য একটি মাত্র কাউন্টার খোলা রাখা হয়েছে। স্টেশনের প্রবেশ ও বাহিরের জন্য আলাদা আলাদা গেট খোলা রাখা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিপুল পরিমান রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। স্ক্যানিং থেকে শুরু করে, টিকেট চেক, সামাজিক দুরত্ব বজায়ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য মাইকিং ও সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন তারা। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ফরহাদ শিকদার বলেন, আমরা হ্যান্ডমাইক দিয়ে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছি। এছাড়া সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বলছি। কালনী ট্রেনে সিলেট থেকে আসা যাত্রী আবু বকর মোহাম্মদ আদনান বলেন, আমি অনলাইনে সিলেট থেকে ঢাকা পর্যন্ত টিকেট কেটে আজমপুর থেকে ট্রেনে উঠেছি। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ট্রেনে বসার ব্যবস্থা ছিল। যাত্রীর সংখ্যাও অনেক কম ছিল। এভাবে যদি ট্রেন চালানো হয় তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। বনলতা ট্রেনে রাজশাহীগামী যাত্রী সৈকত বলেন, স্টেশনে প্রবেশ থেকে শুরু করে ট্রেনের ভেতর পর্যন্ত ব্যাপক স্বাস্থ্যবিধি মানতে হয়েছে। এভাবে চললে যাত্রীরা নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবে।
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করেছি। স্টেশনের প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে গন্তব্য ট্রেন পৌঁছা পর্যন্ত আমরা যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সজাগ। প্রবেশ পথে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা মাপা, সেনিটাইজার দিয়ে হাত ধোঁয়া, জীবানুনাশক দিয়ে জুতা ভিজিয়ে প্রবেশ করছেন যাত্রীরা। ট্রেনে উঠার আগে আবার স্প্রে করা হচ্ছে। এর আগে আমরা পুরো ট্রেন জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করেছি। সিটের হাতল, দরজার হাতল, ওয়াশরুমে জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে আজ ৭টি ট্রেন ঢাকায় এসেছে আর ছেড়ে গেছে ৬টি ট্রেন। শুধুমাত্র সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে এসে আজ ছেড়ে যাবে।
রেল সুত্র বলছে, যাত্রীদের পাশাপাশি রেলওয়ের চালক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি যেমন গ্লাবস, মাস্ক ও সেনিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ট্রেনে কোনো ধরনের খাবার বিক্রি হবে না। এক বগির যাত্রীরা অন্য বগিতে যাতায়াত করতে পারবেন না।
ওদিকে আগামি ৩রা জুন থেকে খ-গ্রুপে আরও ১১ জোড়া ট্রেন চালু হবে। তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা- দেওয়ানগঞ্জ রুটে তিস্তা এক্সপ্রেস, ঢাকা- বেনাপোল রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস, ঢাকা-চিলাহাটি রুটে নীলসাগর এক্সপ্রেস, খুলনা-চিলাহাটি রুটে রুপসা এক্সপ্রেস, খুলনা-রাজশাহী রুটে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, রাজশাহী গোয়ালন্দ ঘাট রুটে মধুমতি এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে মেঘনা এক্সপ্রেস, ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এবং ঢাকা- নোয়াখালী রুটে উপকূল এক্সপ্রেস।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর