× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার
৩৩৪ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি-

পুরো দেশ পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের দাবি

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৬:৩৪

দেশে করোনা মহামারী ভয়াবহভাবে বেড়ে যাওয়ায় পুরো দেশকে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে  নাগরিক সমাজের ৩৪৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এ দাবি করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী ২রা জুন তারিখ পর্যন্ত দেশে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ আর মারা গেছেন ৭০৯ জন। ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে সম্প্রতি জানিয়েছেন, “কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা শনাক্তের চেয়ে ৪০ গুণ বেশি” । সরকারি পর্যায়ে গত এক সপ্তাহ যাবত প্রতিদিনের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মোট টেস্টের শতকরা ২০-২৫ ভাগ কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত। তার মানে হলো টেস্টের সংখ্যা বাড়লে রোগীর সংখ্যা নিশ্চিতভাবে আরো বেশি বাড়বে। আমাদের টেস্টের সক্ষমতা প্রতিদিন ৩০ হাজার। অথচ এই সক্ষমতার অর্ধেকও আমরা এখনো কার্যকর করতে পারিনি।
অথচ এরকম অবস্থাতেই ৩১ মে থেকে “স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে” অফিস, গণপরিবহনসহ সকল কিছু খুলে দেয়া হলো।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সীমিত পরিসরে” গণপরিবহন চালুর খেসারত হিসেবে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আন্ত:জেলা পরিবহনে এবং গণপরিবহনে শতকরা ৬০ ভাগ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। এ ধরণের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থ বিরোধী এবং নিন্দনীয়। আর এদিনই দেশে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত ও মৃত্যু হয়।  রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরেও সংক্রমণ বিপদজনকভাবে বাড়ছে করোনা। একজন শরণার্থী এরই মধ্যে মারা গেছে।
কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগী গত ৮ মার্চ চিহ্নিত হওয়ার পর সংক্রমণরোধে যথাযথ লকডাউনের পরিবর্তে এখন পর্যন্ত ছয় দফায় রাষ্ট্রীয়ভাবে “সাধারণ ছুটি” ঘোষণা করা হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পোশাক কারখানা খুলে দিলে রোগীর সংখ্যা দ্রুতই বাড়তে থাকে। এক মাসের মধ্যে রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। আবারো মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঈদ উপলক্ষে দোকান-পাট, কারখানা খোলা এবং অন্যান্য ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকেও রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এখন পরিস্থিতি আরো বিপদজনক হয়ে উঠেছে। তাই এ রকম পরিস্থিতিতে মহামারি মোকাবেলায় গঠিত ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি তাঁদের পরামর্শ ছিল আরো বেশি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার। তাদের পরামর্শকে বিবেচনা না করে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সচল করার সিদ্ধান্ত খুবই আত্মঘাতী হবে বলে আমরা মনে করছি।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিরাজমান করোনা পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার কোনো রকম সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কৌশল ছাড়া সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিসহ দীর্ঘমেয়াদে জীবন ও জীবিকার সংকটে শুধু দরিদ্র আর সাধারণ নাগরিকরাই পড়বেন না বরং সার্বিকভাবে সকলকেই মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিবে। এতে দেখা যাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ শুরু হয়ে গেলেও অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবেও আমরা বিচ্ছিন্ন থাকবো। এতে এই করোনা পরবর্তী অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিও হারাবে।
বিবৃতিদারা বেশ কিছু দাবিও তুলে ধরেন। এর মধ্যে আছে-
১) পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত অতি জরুরি অর্থনৈতিক কর্মকা- ও জরুরি জনসেবাভিত্তিক কর্মকাণ্ড বাদে সমস্ত অফিস আদালত ও শ্রমঘন কারখানা বন্ধ রাখা হোক। খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি পণ্য পরিবহন বাদে সকল আন্তঃজেলা পরিবহন ও গণপরিবহন বন্ধ করা হোক।
২) লকডাউন কার্যকর করার প্রধান শর্ত হিসেবে সকল কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাবার ও নগদ অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সমস্ত কল কারখানার শ্রমিক, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং যেকোন ধরণের ছাটাই বন্ধ রাখতে হবে। একই সাথে লকডাউন তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেজন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে তা জনপরিসরে দ্রুতই প্রকাশ করা হোক।
৩) দেশের সকল পর্যায়ে টেস্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো হোক। প্রতিটি জেলার করোনা হাসপাতালে আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হোক। করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া প্রতিটি রোগীর নমুনা শুরুতে সংগ্রহ করে দ্রুত নিকটবর্তী ল্যাবে পাঠানো হোক। সংগৃহীত নমুনাগুলোর জট কমাতে দৈনিক টেস্টের সক্ষমতা বাড়ানো হোক, নমুনা শনাক্তকরণে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমিয়ে আনা হোক। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং গবেষণাগারের মধ্যে সমন্বয় করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে করোনা টেস্ট সেন্টার স্থাপন করা হোক। উপরন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো ব্যবহার করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হোক।
৪) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহজলভ্য কিটের ট্রায়ালের ফল জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। ট্রায়াল সফল হলে এই কিটের দেশব্যাপী ব্যাপক ব্যবহারের দ্রুত অনুমোদন দেয়া হোক।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সায়েমা খাতুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আরশাদ মোমেন, রোবায়েত ফেরদৌস, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ রয়েছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৯:৪১

নাগরিক সমাজের ৩৪৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মতামতের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মানুষের জীবন বাঁচানোর তাগিদ অনুভব করা। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে, মানুষের জীবন ও জীবীকা যুগপৎভাবে দু'টোই সরকারের নিকট সমান গুরুত্বপূর্ণ। সব সেক্টরে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন এবং ব্যবসা বানিজ্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তার যে খেসারত দিতে হবে জাতি তার বোঝা বহন করার ক্ষমতা রাখে কিনা ভেবে দেখতে হবে। অবশ্য ড.আসিফ নজরুল মানবজমিন সম্পাদক সাহেবের সাথে পডকাস্ট সংলাপে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার কথায় কথায় বাংলাদেশকে উন্নত দেশের সাথে তুলনা করছেন। তাহলে নাগরিকদের কিছুদিন ঘরে ঘরে বসিয়ে রেখে খাওয়াতে পারবেননা কেনো? যেখানে কোনো কোনো উন্নত দেশ বিপুল পরিমাণ মুদ্রা তাদের মানুষের জন্য ভর্তুকি দিয়েছে। আসলে আমাদের সমস্যা, কিছু অসৎ মানুষ। সরকার যে পরিমান নগদ টাকা, ত্রাণ ও দশ টাকার চাল বরাদ্দ দিয়েছেন, কিছু অসৎ পথের পথিক দ্বারা সেগুলোর তছরুপ না হয়ে সুষ্ঠু বিলি বন্টন হলে অভাবী মানুষের হাহাকার বহুলাংশে কমে যেতো। এখন এটা পরিষ্কার যে, সৎ নাগরিকের গুরুত্ব অপরিসীম। সৎ নাগরিক পেতে হলে সমাজ ও রাজনীতি থেকে মাস্তানী উৎখাত করা জরুরী। আজ দেখা যায় দলের পরিচয়ে অনেকেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। নিজেকে প্রথমে ভাবতে হবে দেশের নাগরিক। তারপর দলের লোক। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ব্যবস্থায় কুরআন ও হাদিসের চর্চা সৎ মানুষ উপহার দিতে পারে। কারন, কারো মনে আল্লাহর ভয় থাকলে তার দ্বারা সহজে পাপ কাজ করা সম্ভব হয়না। যার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় আছে, জনগণের হক আত্মসাৎ করা তার জন্য সহজ নয়। তাই পুরো জাতিকে সৎ প্রবন করে গড়ে তোলার যুগোপযোগী কর্মসূচী গ্রহন করতে হবে।

লিটন
৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৯:৩৮

সহমত প্রকাশ করছ।

ইকবাল
৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৮:৫৮

আমি একজন সাধারন মানুষ।কাজ না করলে খাবারের যোগাড় কোথা থেকে আসবে?আমার মত এই রকম কোটু কোটি মানুষ আছে যারা কাজ করতে না পারলে খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন। পরিবার নিয়ে উপবাস থাকতে হবে।তোমরা ৩৩৪ বিশিষ্ট নাগরিক আমাদের খাবারের নিশৃচয়তা দেওয়ার পর লকডাউনের বিবৃতি দিও। না খেয়ে থাকার কষ্ট বুঝ তোমরা?আমাদের কাতারে যদি থাকতা তো বিবৃতি দিতানা।তোমরা বিশিষ্ট নাগরিক না।তোমাদের কে বিশিষ্ট নাগরিক বললে পাপ হবে।

Selina
৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৮:৪৬

Hope instantaneously lockdown coming two week for the betterment. Mass movement makes danger life of human.

Dr.Naved Mostaque
৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৬:৩২

Do not talk like idiot, Mr. Kalam. If people go outside they will die and kill others. This is fact. Our work is to protect people not to kill them. If you think we the physicians know nothin, than kindly give your formula to save life. Do not talk irrelevant. Not a single people is left hungry. But if one do not follow instructions of Doctor's than this is their fault. Why in Eid, people have to go Village? This is nothing but nonsense. If you want to die than die, but do not inspire other people to die. We are physicians and we will take every steps, even it is strict now. Because it is you like people, who make people and misguided and force us to become strict. Regards Dr. Naved Mostaque Central executive member, Doctors Association Of Bangladesh Assistant Organising Secretary, D.A.B Dhaka City North.

Not Interested
৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৬:২৭

Ekhon aar kichu korar nai, Hard Imunity ty jaityci may be aamra. Dory nayn, aamadyr 1.4 milion scenior citizen nai. Only 21 days CARFU er solution, ae ta ekhon aar possible na. Ae ta possible chelo, March to April.

তপু
৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৬:২২

সরকার বলছে,বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় গঠিত কারিগরি কমিটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন,তাদের সুপারিশ অগ্রাহ্য করা হয়েছে। সরকার মিথ্যা বলেছে।

shiblik
৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৭:১৮

Without effective relief (food and cash), millions of hungry people will completely breakdown the law and order. Government's position - keeping one door partially open may not be the worst idea. #2 suggestion is not practical because of the "tran chores."

Sm mozibur bin kalam
৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৬:৪৬

অসহায় মানুষদের পূর্ণ খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এসব দাবির কোন যুক্তি নাই।

অন্যান্য খবর