× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার

করোনা ভয়াবহ পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে: ফখরুল

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ৩ জুন ২০২০, বুধবার, ৮:২৭
ফাইল ছবি

করোনা মহামারির ‘ভয়াবহ’ পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। নাগরিক ঐক্যের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা হয়। ২০১২ সালে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব জোর করে নিয়েছেন তারা জনগনকে কোনো মূল্য দেন না, তাদের কাছে অনেক বেশি মূল্য হচ্ছে ব্যবসার, তাদের কাছে অনেক বেশি মূল্য হচ্ছে তাদের সো-কলড প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর। কোনটাই বাড়বে না, সব কিছু নিচে নেমে যাচ্ছে এবং ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে। এই অবস্থা তারা তৈরি করেছে, এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

সরকারি ছুটি তুলে নেয়ার সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, সরকার যে টেকনিক্যাল কমিটি করে দিয়েছে সেই কমিটি বলছে যে, এই মুহুর্তে সরকারি ছুটি তুলে নেয়াটা একটা বিপদজনক অবস্থা হবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর যিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ সাহেব, তিনিও বলেছেন যে, এটা খুব ভুল সিদ্ধান্ত হচ্ছে, এটা একটা সুইসাইডেল সিদ্ধান্ত। আমরা কার কাছে কী বলব? কোথায় যাবেন আপনারা? এদেশের মানুষ কার কাছে যাবে? এদেশের প্রতিটি মানুষ আজকে আতঙ্কে আছে।

তিনি বলেন, আমি জানি না যে, এখান থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবে সরকার বা এদেশের মানুষ।
সমগ্র বিশ্ব এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধ ও ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়নি এবং হওয়াও ডিফিকাল্ট। এর মধ্যে আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে, পরামর্শ করে যদি পদক্ষেপ নেয়া হতো, তাহলে হয়ত এই অবস্থার সম্মুখিন নাও হতে পারতো। দুর্ভাগ্য আমাদের যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব জোর করে নিয়েছেন তারা জনগণকে মূল্য দেন না। তাদের কাছে অনেক বেশি মূল্য হচ্ছে ব্যবসার।

বাংলাদেশ রসাতলে যাচ্ছে মন্তব্য করে অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক ফখরুল বলেন, আমরা মনে পড়ছে অনেক আগে কথা। ১৯৭৪ সালে ঠিক একইভাবে সেদিন অবহেলা করা হয়েছিলো সমস্যগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। যার ফলে কি হয়েছিলো খাদ্য থাকা সত্ত্বেও চরম দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো। ততকালীন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম সাহেব সমিতির প্রথম অধিবেশনে ততকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সামনে বসিয়ে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ তীব্র গতিতে রসাতলে যাচ্ছে। আজকেও বাংলাদেশ রসাতলের দিকে যাচ্ছে। এখান থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব সকলের। সরকার কোনো উদ্যাগ নেবেন না, উদ্যোগ নেয়ার মতো তাদের সেই মানসিকতাও নেই। জনগণকে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে আমি বলছি, ঐক্য দরকার, জনগণের ঐক্য দরকার। দেশের সকল রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্য দরকার, যারা জনগণের কল্যাণে বিশ্বাস করে। এজন্য প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা করে এ বিষয়ে অতিদ্রুত উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি। আসুন ভীত না হয়ে আমাদেরকে উঠে দাঁড়াতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই। সেজন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতে হবে, সমাল দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। সবাইকে নিয়ে আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে, করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের হাসপাতালগুলোর করুন অবস্থার কথাও তুলেও ধরেন তিনি।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নিয়ে জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, আজকে সমগ্র পৃথিবী ও মানবসভ্যতা হুমকির সম্মুখিন। করোনা মহামারির হাত থেকে এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠি বা সরকার বাঁচতে পারবে না। সমগ্র বিশ্বকে সম্মিলিতভাবে বাঁচতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই সরকার আমাদের সরকার নয়, ওরা আমাদের কাজ করবেও না। এরা পুরো ব্যবসায়ীদের সরকার। এখন এই শাসকদের কাছে নিরাপদ নই, এখন যারা ক্ষমতা চালাচ্ছে তাদের কাছে আমরা নিরাপদ নই।

সংগঠনের সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় ইন্টারেনেটের মাধ্যমে গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকীও বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আকবর খান ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর