× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২০, বুধবার

ফেনীতে স্কুলছাত্রীর বাল্য বিয়ের আয়োজন, প্রবাসী বর সহ রেস্টুরেন্ট মালিকের অর্থদণ্ড

বাংলারজমিন

ফেনী প্রতিনিধি | ৬ জুন ২০২০, শনিবার, ১০:৪০

ফেনীতে করোনা পরিস্থিতিতে স্কুলছাত্রীর বাল্য বিয়ের আয়োজন করায় বর সহ রেস্টুরেন্ট মালিককে অর্থদণ্ড করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের রাজাঝির দীঘি সংলগ্ন ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টের ২য় তলায় সামাজিক দুরুত্ব অমান্যকরে বাল্য বিয়ের আয়োজন করায় সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের ইতালি ফেরত প্রবাসী মো. নাজমুল হোসেন নামে এক হবু বরকে ৩০ হাজার ও রেস্টুরেন্ট মালিককে ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শহরের রাজাঝির দীঘি সংলগ্ন ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টের ২য় তলায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় সেখানে প্রায় ৬০ জন লোক সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে জনসমাগমের মাধ্যমে বাল্য বিয়ের জন্য নির্ধারিত নিমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করছিলেন। এসময় তাদের জনসমাগম না করাসহ সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মনিরুজ্জামান। পরে জব্দ করা হয় নিমন্ত্রনের সব খাবার। একই সাথে জনসমাগমে সহায়তা করার অপরাধে ফাইভস্টার চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিককে ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

আগত অতিথিদের জিঙ্গাসাবাদে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক জানতে পারে, শহরের হাজারী রোডের একটি ঘরে প্রবাসী নাজমুল হোসেনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। দ্রুত বিচারক ওই পাত্রের বাসায় যেয়ে দেখতে পায় অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীর সাথে বাল্যবিয়ের প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসময় বিচারক পাত্রের অভিভাবককে বাল্যবিয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা অপরাধ স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক কোন পাত্রীকে বিয়ে করবে না বলে মুচলেকা প্রদান করে।
একপর্যায় বাল্যবিয়ের চেষ্টা ও জনসমাগম করার অপরাধে মো. নাজমুল হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।
পরবর্তীতে ভ্রাম্যমান আদালত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সহযোগিতায় সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাপুর গ্রামে কনের বাড়িতে যায়। এসময় ১৫ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হবু কনেকে সাজানো অবস্থায় দেখতে পায়। মেয়েটির বাবা প্রয়াত ও মেয়ের মা নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে মুচলেকা প্রদান করে।

এসময় আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে মেয়েটির পরিবারকে জরিমানা না করে মৌখিকভাবে সতর্ক করে আদালতের বিচারক। একই সাথে মেয়েটির মা’র জন্য বিধবা ভাতার কার্ড তৈরী করে দিতে চেয়ারম্যানকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান।

পরে জব্দকৃত খাবারগুলো শহরের ভাসমান দুস্থ্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর