× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১৪ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার

উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা

প্রথম পাতা

বাংলারজমিন ডেস্ক | ২৮ জুন ২০২০, রবিবার, ৮:৪৬

উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে শঙ্কা। গাইবান্ধার ১১টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে ।
স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে জানান, ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গাইবান্ধার ১১টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের ও নদীতীরবর্তী এলাকার অনেক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যানুযায়ী, শনিবার ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ৫৯ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পানি বৃদ্ধি আগামী চারদিন অব্যাহত থাকবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। ফলে গাইবান্ধা জেলার বন্যা সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর-বালাসীঘাটের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই বাঁধ ভাঙা এলাকা দিয়ে পানি ঢুকে সাঁতারকান্দির চর ও ভাষারপাড়া এলাকা আকস্মিক বন্যায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। ফলে ওই দু’টি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় ২ হাজার ৫শ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এছাড়া গাইবান্ধা বালাসীঘাট সড়কের বাঁধের পূর্ব অংশের সড়কটি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এদিকে সাঘাটা, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জের নদীবেষ্টিত চরগুলোর নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকার বসতবাড়ির লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে পাট, পটল, কাঁচামরিচ ও শাক-সবজির ক্ষেতসহ সদ্য রোপণকৃত বীজতলা তলিয়ে গেছে।
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ২ হাজার ৯৪০টি পরিবার। বন্যায় ভাঙনের কারণে বসতবাড়িসহ চরের বাদাম ক্ষেত ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সকালে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যা বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপরে থাকলেও শুক্রবার রাত থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার বিকাল পর্যন্ত বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার) ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের সবক’টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাত ১২টার পর উজানের ঢলে ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এবং শনিবার ৮৭.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টেপাখড়িবাড়ি  ইউনিয়নের পূর্বখড়িবাড়ির দিঘিরপাড়, চরখড়িবাড়ী, পশ্চিম টাপুর চর, পাগলীর বাজার, পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেরশ্বর, ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত এলাকা ভেন্ডাবাড়ী, সাতুনামা, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর, ছোটখাতা, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের কিসামত ছাতনাই, দোহলপাড়া গ্রামে ২৯৪০টি পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এবং তিস্তা পাড়ের মানুষজন বন্যার কারণে সতর্কাবস্থায় রয়েছে। বন্যা ও ভাঙনের কারণে চরের বাদাম ক্ষেত ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার কারণে গবাদি পশু ও পালিত হাঁস-মুরগি উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ডালিয়া (পাউবো) ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজানের ঢলে ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে শনিবার বিকাল পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের সবক’টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে এবং আমরা সব সময় সতর্কাবস্থায় রয়েছি। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, তিস্তা নদীর বন্যাকবলিত এলাকা সরজমিন পরিদর্শন করে শুক্রবার উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের পানিবন্দি ২২টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও নগদ ২ হাজার করে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোর জন্য জেলায় ত্রাণের চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর