× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১১ জুলাই ২০২০, শনিবার

উখিয়া ও টেকনাফে আইওএম'র ৪৭ টি এসএআরআই আইটিসি শয্যা নির্মাণ

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে | ২৮ জুন ২০২০, রবিবার, ৭:৪৫

করোনাকালে কক্সবাজারে মানবিক সহায়তার কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলো সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। মানবিক সহায়তায় স্বাস্থ্যসেবার নতুন নতুন প্রয়াসের মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি এবং করোনা আক্রান্তদের জন্য যথাযথ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংবলিত নতুন নতুন সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন (এসএআরআই) আইসোলেশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার (আইটিসি) নির্মাণ। এ ছাড়া চলমান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো নির্মাণ এবং পুনর্নির্মাণ করার কাজও চলছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অফিসার তারেক মাহমুদ জানান, চলতি সপ্তাহে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আইওএম দুটি এসএআরআই আইটিসি নির্মাণ করেছে, যার মাধ্যমে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।

তারেক আরো জানান, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ (লেদা) এবং উখিয়ার ক্যাম্প-২ (ডব্লিউ)-এ নির্মিত এই দুটি বিশেষায়িত কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বর্তমানে ৪৭টি এসএআরআই আইটিসি শয্যা রয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবাসহ শয্যা সংখ্যা ১১০-এ উন্নীত করা হবে। এই দুটি কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র জেলায় আইওএমের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া শিগগিরই উখিয়ার কুতুপালংয়ে ক্যাম্প-২০ (এক্সটেনশন)-এ আরো একটি ১২০ শয্যার এসএআরআই আইটিসির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

আইওএম কক্সবাজারের ইমার্জেন্সি হেলথ প্রোগ্রামের চিকিৎসক সমীর হাওলাদার বলেন, ‘উদ্বোধন করা এই ৪৭টি এসএআরআই আইটিসি শয্যা সুবিধাটি বাংলাদেশ সরকার এবং স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিকল্পনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এসএআরআই আইটিসির বৃহত্তর প্রচেষ্টার একটি সামান্য দৃশ্যমান অংশ। আইটিসির পাশাপাশি আইওএম জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, হোম-বেইজ কেয়ার রেফারেল এবং জরুরি মুহূর্তের যোগাযোগসহ বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে অবদান রাখছে। আমরা বিশ্বাস করি, একসঙ্গে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করা, জনগোষ্ঠীদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কমিয়ে এবং মৃত্যুহার রোধ করার চেষ্টা করলেই আমরা বাঁচব।’

আইওএমের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অফিসার তারেক মাহমুদ জানান, উল্লিখিত দুটি এসএআরআই আইটিসির পাশাপাশি এখন পর্যন্ত আইওএমের মাইগ্রেশন হেলথ ডিভিশন কক্সবাজারে আরো দুটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের পুনর্গঠন করেছে।
এখানে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য রোগীদের পরবর্তী রেফারেলের জন্য সাময়িক পৃথকীকরণ সুবিধা এবং সেন্টিনাল টেস্টিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু উপজেলায় সরকারের পরিচালনাধীন আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে সহায়তার জন্য আইওএম স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন অফিস এবং বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

কক্সবাজারে কোভিড-১৯-এর প্রভাব কমানো, বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করার জন্য বিদ্যমান স্বাস্থ্য পরিষেবা আরো শক্তিশালী করা এবং উন্নত করার কার্যক্রমের উপর সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে আইওএম। যদিও বর্ষা মৌসুমের কার্যক্রম, সুরক্ষা এবং জীবিকা সংস্থানমূলক কার্যক্রমও চলমান আছে।

এদিকে শনিবার পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ জন। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন মোট এক হাজার ৭৩৮ জন।

তারেক মাহমুদ জানান, মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো কোভিড-১৯-এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত আছে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ও জেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা ও সংস্থান প্রদান করা হচ্ছে।
কক্সবাজারে আইওএমের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সহায়তাগুলো হলো—
আইওএম কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১০ জন মেডিকেল অফিসার, একজন রেডিওলজিস্ট, একজন রেডিওগ্রাফার, একজন স্যানিটেশন অফিসার এবং ১৫ জন ক্লিনারের সহায়তা দেবে এবং স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারীদের জন্য পিপিই সরবরাহ করবে।
আইওএম বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রামু এবং চকরিয়ায় এসএআরআই আইটিসিগুলোতে শয্যা বাড়ানো এবং পরিষেবার মান উন্নয়নে সহায়তা করছে।
উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিভিন্ন সহায়তা সরবরাহ করা হচ্ছে।

আইওএম কোভিড-১৯ রোগীদের এবং তাদের পরিবারদের সঙ্গে সমন্বয় করতে এবং বিষয়গুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো এবং রেফারেল ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। রেফারেলকৃত কোভিড-১৯ রোগী বহন করার জন্য সাতটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত করা হয়েছে।
অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আইওএম ২৪ ঘণ্টা হটলাইন এবং ইন্টারেক্টিভ ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত গুজব এবং ভুল তথ্য প্রতিরোধ করে জীবন রক্ষাকারী তথ্য সরবরাহ করছে।

আইওএম ৩৫টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছে।
৪৬৫ জন ব্যক্তির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ৯৩ ইউনিটের আইসোলেশন সেন্টার নির্মাণ কাজ শেষের পথে। পাশাপাশি ৫০টি আশ্রয়সেবা কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে ২৫০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা যাবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর