× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১৪ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার

আইসিইউ’র চেয়ে বেশি প্রয়োজন অক্সিজেন

শেষের পাতা

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ২৯ জুন ২০২০, সোমবার, ৮:৪২

কৃত্রিম শ্বাস নেয়ার সর্বশেষ পন্থা আইসিইউ। করোনাভাইরাস সংক্রমণে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের কদর বহুগুণ। মৃত্যুযন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে ভেন্টিলেটরযুক্ত আইসিইউ শয্যার জন্য সে কী আকুতি-আহাজারি, গত দুই মাস ধরে প্রত্যক্ষ করছে চট্টগ্রামবাসী। নগরীর মাত্র দুটি সরকারি হাসপাতালে রয়েছে এই আইসিইউ সুবিধা। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০টি আর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র। তবে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে চমেক হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার দ্বারই খোলা ছিল না। একইভাবে নগরীর ১৫টি হাসপাতাল শতাধিক আইসিইউ শয্যা থাকলেও করোনা আক্রান্ত সন্দেহে তাদের দরজা এখনো পর্যন্ত বন্ধ। আইসিইউ সংকটে শ্বাসকষ্ঠ নিয়ে করোনা আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল শুরু হলে মে মাস থেকে করোনা চিকিৎসার জন্য ১০০টি শয্যা বরাদ্দ দেয়া হয় চমেক হাসপাতালে।


এরমধ্যে ৫টি আইসিইউ শয্যাও রয়েছে। নগরীর প্রভাবশালী শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম করোনায় আক্রান্ত হন মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। শ্বাসকষ্ঠ নিয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু ২২ মে রাতে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। একইভাবে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যাদের ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটর ব্যবহার করতে হয়েছে, তাদের কাউকেই বাঁচানো যায়নি বলে জানিয়েছেন জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডের ডা. গোলাম মোস্তফা জামাল। তিনি বলেন, সাধারণত গুরুতর রোগীদেরই আইসিইউতে নেয়া হয়। জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছেন এমন একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ পর্যন্ত যতজনকেই ভেন্টিলেটর লাগাতে হয়েছে তাদের একজনও ফিরেননি। এক্ষেত্রে আইসিইউতে যাদের আমরা হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানোলা দিয়ে অক্সিজেন দিতে পেরেছি এবং পাশাপাশি অন্যান্য সাপোর্টিং চিকিৎসা দিতে পেরেছি তারাই সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু যাদের অবস্থা এই পর্যায়ের চেয়ে অবনতি হয়েছে তাদের আর বাঁচানো যায়নি। কাজেই অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারাটাই এখনকার জন্য সবচেয়ে বড় সমাধান। শুধু অক্সিজেন সরবরাহ নয় বরং নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এই রোগে আক্রান্তদের সেবা দেয়া অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, একটা রোগীকে সারিয়ে তুলতে তাকে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হবে। কথা হলো সেটা কিভাবে করবেন আপনি? সিলিন্ডার দিয়ে করা যায়, আবার সেন্ট্রাল লাইন দিয়েও করা যায়। তবে সিলিন্ডারের অক্সিজেন দিয়ে বেশি চাপে অক্সিজেন দেয়া সম্ভব না।

নিরবচ্ছিন্নভাবে দেয়া তো কোনোভাবেই সম্ভব না। কাজেই এখানে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়া। সেটা করা গেলে আপনি নিরবচ্ছিন্নভাবে একজন রোগীকে ৭০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল উপসর্গের রোগীকে হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানোলা দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারাটাই সর্বোচ্চ চিকিৎসা। এটুকু নিশ্চিত করতে পারলেই পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবির বলেন, সবাই দেখছি আইসিইউ নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের উপলব্ধি হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত ক্রিটিক্যাল রোগী বাঁচানোর জন্য আইসিইউ নয় প্রয়োজন হচ্ছে অক্সিজেন। তিনি বলেন, এখন কথা হচ্ছে রোগীদের লোকজন বলছে আইসিইউ লাগবে। আজও একজন আমাকে ফোন করে বললেন আইসিইউ লাগবে। আমি সপষ্ট বলেছি আইসিইউ কেন চাইছেন? যদি বলেন আইসিইউ লাগবে তাহলে তা আমার কাছে নাই। আর যদি বলেন চিকিৎসা লাগবে, তাহলে আমি চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবির আরও বলেন, আইসিইউ ভেন্টিলেটর ব্যয়বহুল, এর জন্য দক্ষ জনবলও লাগে। পাশাপাশি আরও অনেকগুলো বিষয় আছে। কিন্তু তার চেয়ে অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো, হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানোলা ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোটা বেশি সহজ ও কার্যকর। সূত্রমতে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এ পর্যন্ত চারজন রোগীকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। যাদের একজনও বেঁচে ফিরেননি। আর চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে শনিবার দিবাগত রাতে প্রকাশিত সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী ৭৬৮৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে মারা গেছে ১৬৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ৯৩৩ জন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর