× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১১ জুলাই ২০২০, শনিবার

আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার বালু লোপাটের অভিযোগ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ২৯ জুন ২০২০, সোমবার, ৮:৪৩

বালুর পাহাড় গায়েব। সরকারি ভাবে বালু বিক্রির ব্যবস্থা হওয়ার আগেই এর বেচাবিক্রি শেষ। কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এই বালু লোপাটের অভিযোগ উঠেছে আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হানিফ মুন্সির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে অভিযোগ। তবে হানিফ মুন্সি বালু বিক্রির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও এর আগে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর কাছে এ ব্যাপারে সহায়তা চান। তাকে বলেন, ‘মামারে সহযোগিতা করবা, ডিসটার্ব করলে কেমন হয় না।’ এই ফোনালাপও ভাইরাল হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চর-সোনারামপুর এলাকায় মেঘনা নদী খননে উঠা বালু মজুদ করা হয় স্থানীয় রেলস্টেশন ও সাইলোর মাঝামাঝি রেলওয়ের একটি জায়গায়। ওই জায়গা বন্দোবস্ত আনা কয়েকজনসহ ৪০-৫০ জনের একটি দলের বিরুদ্ধে সেখানে নদী খননের বালু রেখে বিক্রির অভিযোগ উঠলে রেলওয়ের সহকারী এস্টেট অফিসার, ফিল্ড কানুনগো ও আমিন সেখানে এসে বাধা দেন।
ওই বছরের পহেলা মার্চ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট জেলার কর্মকর্তাকে রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী চিঠি দিয়ে তাদের জায়গায় অবৈধভাবে প্রবেশ ও বালু ফেলে ভরাট করা থেকে বিরত থাকতে বলেন। তারপরও বালুর ডিপো করা হয় সেখানে। পরবর্তীতে রেলওয়ে তাদের জায়গায় রাখা বালু নিলামে বিক্রি করবে বলে জানায়। এরপর ২০১৯ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর একটি প্রকাশ্য নিলাম হয়। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা হন চরচারতলা গ্রামের বাসিন্দা হানিফ মুন্সি। কিন্তু রেলভবন সেই নিলাম অনুমোদন দেয়নি। এরপর এ নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন হানিফ। যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে মো. হানিফ মুন্সি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কয়েক মাস আগে রেলওয়ের এই বালু বিক্রি করতে শুরু করেন। এর আগে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে তিনি জানান দেন বালুর টেন্ডার তিনি পেয়েছেন। রেলপথ মন্ত্রীর কাছে দেয়া অভিযোগ এবং সরজমিনে খোঁজখবরে জানা যায়, চেয়ারম্যানের ছেলে জনি মুন্সি ও ভাইয়ের ছেলে রনি মুন্সি এই বালুর ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ট্রাক-ট্রাক্টরে ভরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিক্রি করা বালু। ধারণা পাওয়া গেছে, এখানে মজুদ করা প্রায় ৪৫-৫০ লাখ ঘনফুট বালুর প্রায় সবই বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। প্রতি ফুট বালু ৪ থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। সেই হিসেবে বালুর দাম আসে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা। মেসার্স মিজান কনস্ট্রাকশন নামে বানানো একটি রশিদ দেয়া হয় বালু ক্রেতাদের।

এদিকে অবৈধভাবে বালু বিক্রিতে রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক সংবাদকর্মী এ বিষয়ে ওই রেল কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে ফোন করলে ওই কর্মকর্তা উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সিকে বিষয়টি জানান এবং তাকে ফোনকারী সংবাদকর্মীর নাম্বার দিয়ে দেন। এরপরই হানিফ মুন্সি তাকে ফোন দিয়ে ভাগিনা সম্বোধনে বালু বিক্রিতে সহায়তা চান। বলেন, ‘আমি বালু নিতাছি, তুমি ঢাকায় ফোন দিছো। তোমার নাম্বার ওইখান থেকে দিছে। মামারে সহযোগিতা করবা, ডিসটার্ব করলে কেমন হয় না।’ এই ফোনালাপ ভাইরাল হয়েছে।

রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পদ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সঙ্গে রোববার দুপুরে যোগাযোগ করলে তিনি হাসপাতালে যাচ্ছেন জানিয়ে এ নিয়ে সার্ভেয়ারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। সার্ভেয়ার মো. ফারুক হোসেন জানান, ২২ ও ২৫শে জুন মোট ১২ জনকে আসামি করে এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি বালু বিক্রিতে তার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। আদালতে রিট করেছেন জানিয়ে বলেন, ‘এর শুনানি হলে আদেশ তার পক্ষেই আসবে। আদেশ পেলে বালুতো বিক্রি করতেই পারবো।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
জাকারিয়া
১ জুলাই ২০২০, বুধবার, ৯:২৯

ওরা আদীপত্ত বিস্তার করতে চাই সব জায়গাই । এটার ভালো করে তদন্ত হোক । এলাকার লোকজন অতিস্ষ্ট এদের জন্য ।

অন্যান্য খবর