× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকরোনা আপডেটকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজান
ঢাকা, ১১ জুলাই ২০২০, শনিবার

চাকরি হারাচ্ছেন বিজেএমসি’র স্থায়ী ক্রীড়াবিদরাও

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ৩০ জুন ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:০৬

রোববার গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের  মাধ্যমে পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানোর কথা বলেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর বীরপ্রতীক। কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠালে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসায়ন হবে বিভিন্ন ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে খেলা ক্রীড়াবিদদের চাকরিরও। আর এতেই চাকরি হারানোর আতংক তৈরি হয়েছে বিজেএমসিতে স্থায়ীভাবে কাজ করা ক্রীড়াবিদদের মধ্যে।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) সামপ্রতিক অর্থ সংকটের কোপটা বেশি পড়ে ক্রীড়াবিদদের ওপর। প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতার পর থেকে বিশাল অবদান রেখে আসছিল দেশের খেলাধুলায়। বিশেষ করে নারী খেলোয়াড়দের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা প্রশংসনীয়। এগারোটি ডিসিপ্লিনে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি খেলাধুলায় অংশ নিয়ে আসছে।  তৈরি করেছে বহু স্বনামধন্য ক্রীড়াবিদ, যারা দেশের বাইরেও জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে ধরেছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই দুঃসংবাদ এ প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়াবিদদের। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে ২৬৭ জন ক্রীড়াবিদ হাজিরা কার্ডে (অস্থায়ী ভিত্তিতে) চাকরি করতেন এ প্রতিষ্ঠানে।
তাদের মধ্যে প্রায় আড়াইশজন চাকরি হারিয়েছেন গত ফেরুয়ারিতে। এবার স্থায়ীভাবে কাজ করা শ’খানেক ক্রীড়াবিদও চাকরি হারানোর প্রহর গুনছেন।
পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের (ইপিআইডিসি) হয়েই খেলতেন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) ক্রীড়াবিদরা। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের হয়েই খেলেন তারা। তোফাজ্জল হোসেন, মজিবর রহমান মল্লিক, শাহ আলম, মিলজার হোসেন, জ্যোৎস্না আফরোজ, জ্যেৎস্না আক্তার, নেলী জেসমিন. লাভলী সুলতানা, আখেরুন নেছা এমন অর্ধশত অ্যাথলেটের নাম আজও স্মরণীয় দেশের ক্রীড়াঙ্গণে। বিদেশের মাটি থেকে দেশের জন্য বয়ে এনেছেন সম্মান। এই নামগুলো অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করেন বর্তমান তারকা অ্যাথলেটদের জন্য। অথচ এসব তারকা অ্যাথলেটদের তৈরি হওয়ার সেই মঞ্চ আজ ভেঙে পড়ার উপক্রম।

অর্থ সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ফুটবলে দল গঠন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গতবছর। তখনই চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়েছিলেন বিজেএমসি নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন দিন দাপটের সঙ্গে ফুটবল খেলা বিজেএমসি মাঝে হারিয়ে গিয়েছিল। ২০১১ সালে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয় বিজেএমসির পরিচালক হিসেবে যোগ দেয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিকে ফুটবলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন এবং দলগঠন করে ২০১২ মৌসুমে সরাসারি অংশ নেয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে। দেশের শীর্ষ পর্যায়ে ৭ মৌসুম খেলে আবার তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় ফুটবল থেকে। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগ থেকে অবনমন হয়ে যায় বিজেএমসির। তার আগেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অর্থ সংকটের কারণে ফুটবলে আর দল গঠন করবে না। ২০১৯ সালের ২০শে মে বিজেএমসির বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল- আর্থিক সংকটের কারণে পরবর্তী মৌসুম হতে তাদের অর্থায়নে ‘টিম বিজেমমসি’র ফুটবল পরিচালনা সম্ভব নয়। বিজেএমসি তাদের এই সিদ্ধান্ত চিঠি দিয়ে বাফুফেকে জানিয়ে দিয়েছিল গত বছরের ৩০শে জুলাই। সঙ্গে নারী ফুটবলারদেরও জানিয়ে দেয়া হয় দল না করার সংবাদ। তখনই অস্থায়ী ভিত্তিতে যারা ছিলেন তাদের চাকরিচ্যুতি ঘটে। এবার স্থায়ী চাকরিজীবিদেরও বিদায় নেয়ার পালা। এ বিষয়ে  
সাবেক অ্যাথলেট ও বিজেএমসির কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘যেখানে বিজেএমসিই থাকছে না, সেখানে অ্যাথলেট থাকে কিভাবে। ক্রীড়াবিদদের জন্য বিজেএমসি একটি বড় জায়গা ছিল। যা আজ ভঙ্গুর।’
আরেক সাবেক অ্যাথলেট মিলজার হোসেন বলেন, ‘আগে থেকেই শুনছিলাম ক্রীড়াবিদদের রাখা হবে না বিজেএমসিতে। যদি মন্ত্রীর কথায় এবার বন্ধই হয়ে যায়, তাহলে ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি প্লাটফর্মও ভেঙে যাবে।’ সাবেক দ্রুততম মানবী লাভলী সুলতানাও হতাশ, ‘আমরাদের তো পথে বসার মতো উপক্রম হলো। কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি ক্রীড়াবিদদের ব্যাপারে। বিষয়টি খুবই হতাশাজনক।’ নারী হ্যান্ডবল দলের অধিনায়ক এবং বিজেএমসির সদস্য ডালিয়া আক্তার বলেন, ‘ফুটবল দলটি যখন বন্ধ হয়ে যায়, অশনি সংকেতটা তখনই বোঝা গিয়েছিল। তাছাড়া অন্য ক্রীড়াবিদদের মধ্যেও আতংক ছিল। যদি চাকরিজীবিদের মতো ক্রীড়াবিদদেরও অবসায়ন ঘটে, তাহলে অবশ্যই তা হতাশার।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর