× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২০, রবিবার

রূপগঞ্জে ৯০ দিন পর ড্রামে মিললো নিখোঁজ ব্যবসায়ীর লাশ

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রূপগঞ্জ থেকে | ৩ জুলাই ২০২০, শুক্রবার, ৭:৩৭

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিখোঁজের ৯০ দিন পর ঢালাই করা ড্রামের ভেতর মিললো নিখোঁজ ব্যবসায়ী হেকমত আলীর (৪৫) লাশ। গতকাল দুপুরে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কুশাবো এলাকায় একটি পুকুর থেকে হত্যাকারীর দেখানো মতে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশন (পিবিআই)।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু সায়েম জানান, চলতি বছরের ৪ঠা এপ্রিল সকালে কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে স্থানীয় ভুলতা এলাকার নুর ম্যানশন মার্কেটের মোটরসাইকেল ও গাড়ির পার্টস ব্যবসায়ী হেকমত আলী তার দোকানের ম্যানেজার ও তার আত্মীয় কেরাবো এলাকার ইয়াকুবের ছেলে রফিকুল ইসলাম সবুজের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় ১৪ই এপ্রিল নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী রোকসানা বেগম বাদী হয়ে ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম সবুজসহ ৪ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তের ভার আসে রূপগঞ্জ থানার এসআই আমিনুল ইসলামের কাছে। তিনি মামলার ভিত্তিতে প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম সবুজকে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে সবুজ পুলিশের কাছে কোনোরকম স্বীকারোক্তি না করায় অপহরণের সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এদিকে এ ঘটনায় দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে মামলাটির অধিক অগ্রগতির জন্য তার স্ত্রী মামলার বাদী আদালতে তদন্তভার অন্যত্র হস্তান্তরের আবেদন করেন।
এর প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের জন্য গত ১৮ই জুন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জের ওপর দায়িত্বভার অর্পিত হয়। গত ২৬শে জুন মামলাটি তদন্তের জন্য পিআইবি এর এসআই আবু সায়েমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি ৩০শে মে আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ডে আনেন রফিকুল ইসলাম সবুজকে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক হত্যার বর্ণনা। প্রায় ৮৮ দিন পূর্বে ব্যবসায়ী হেকমতকে অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় হত্যার পর তাকে একটি তেলের ড্রামে ঢুকিয়ে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে ঢাকা-বাইপাস সড়কের কুশাবো এলাকার একটি পুকুরে ফেলে রাখে হত্যাকারী রফিকুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে রফিকুলের দেখানো মতে সেই পুকুর থেকে ঢালাই করা ড্রামভর্তি লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পরনে পাঞ্জাবি ও শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখে মামলার বাদী ব্যবসায়ীর স্ত্রী রোকসানা ও পরিবারের অন্যরা নিশ্চিত করে এটা নিখোঁজ ব্যবসায়ী হেকমত আলীর লাশ।
নিহত ব্যবসায়ী হেকমতের স্ত্রী ও মামলার বাদী রোকসানা আক্তার জানান, দোকানের ম্যানেজার ও তার বোনের ছেলে রফিকুলের সঙ্গে ব্যবসার টাকা পয়সা নিয়ে প্রায় সময়ই ঝামেলা হতো। টাকা পয়সা আত্মসাতের জন্যই তার স্বামীকে রফিকুল তার সহযোগীদের সহায়তায় হত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশন (পিবিআই) এর পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ হোসেন বলেন, পিবিআই মামলাটির দায়িত্বভার গ্রহণের পর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় মাত্র এক সপ্তাহে ক্লুলেস একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে রফিকুলের অন্যান্য সহযোগীদের আমরা আটক করতে সক্ষম হবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর