× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২০, সোমবার

কুকুরের মাংস আমদানি, কেনাবেচা নিষিদ্ধ নাগাল্যান্ডে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৪ জুলাই ২০২০, শনিবার, ১১:৩২

কুকুরের মাংস আমদানি, বাণিজ্য ও বেচাকেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যে। কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে পশু অধিকারকর্মীরা। তাদের অব্যাহত আন্দোলনের পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সরকার এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। একে বড় ধরনের টার্নিং পয়েন্ট বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতে কুকুরকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা বন্ধ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলেও নাগারিক সমাজের কিছু গ্রুপ এর সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, এটা হলো ওই রাজ্যে খাদ্য শৃংখলার ওপর একটি আঘাত।
উল্লেখ্য, ভারতের বিভিন্ন অংশে কুকুরের মাংস খাওয়া বেআইনি। কিন্তু উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার কিছু সম্প্রদায়ের কাছে তা উপাদেয় খাদ্য। তবে নাগাল্যান্ডের মুখ্য সচিব তেমজেন টয় শুক্রবার এক টুইটে বলেছেন, কুকুর আমদানি, বাণিজ্য, কুকুরের বাজার এবং কুকুরের মাংসের কেনাবেচা নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে এই মাংস রান্না বা কাঁচা যেকোনো অবস্থায় তার কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা সরকার কিভাবে প্রয়োগ করবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয় নি।
ভারতীয় মিডিয়া বলছে, ওয়েট মার্কেট বলে পরিচিত একটি বাজারে ছালায় ভরা কুকুরের ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়। এর ফলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপরই সরকার এই নিষেধাজ্ঞা দিল। কুকুরকে ভয়াবহ অবস্থায় ছালার ভিতর বেঁধে একটি ভেজা মার্কেটে আটকে রাখা হয়েছে এমন ভয়াবহ ও হতাশাজনক ছবি প্রকাশিত হওয়ার কারণে মর্মাহত হয়েছে ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এনিমেল প্রটেকশন অর্গানাইজেশন (এফআইএপিও)। বৃহস্পতিবার দেয়া এক বিবৃতিতে তারা এ কথা বলেছে। আরো বলা হয়, ওই কুকুরগুলোকে জবাই করার জন্য, তা দিয়ে বাণিজ্য করার জন্য এবং মাংস হিসেবে বিক্রি করার জন্য ওই ভয়াবহ অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছিল। ফলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কুকুরের মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার জন্য নাগাল্যান্ড সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
পশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে এফআইএপিও অন্যতম। এ ছাড়া আছে এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব এনিমেলস (পেটা)। তারা সবাই নাগাল্যান্ডে কুকুরের মাংস বিক্রির বিরোধিতা করে এগিয়ে থাকা সংগঠনের মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া অনেক বছর ধরে একই দাবিতে আন্দোলন করে আসছে দ্য হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল (এইচএসআই)। তারাও নাগাল্যান্ড সরকারের সিদ্ধান্তে স্বাগত জানিয়েছে। এইচএসআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলোকপর্না সেনগুপ্তা বলেছেন, নাগাল্যান্ডে কুকুরের ওপর নির্মমতা ভারতে বহু বছর ধরে একটি অন্ধকার ছায়া ফেলে আছে। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। এইচএসআইয়ের মতে, নাগাল্যান্ডে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ হাজার কুকুর পাচার করা হয়। তাদেরকে জীবিত অবস্থায় বিক্রি করা হয়। এরপর জঙ্গলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ বছর শুরুর দিকে কুকুরের মাংস বিক্রি বন্ধের প্রথম পদক্ষেপ নেয় মিজোরাম সরকার। তারা সংবিধান সংশোধন করে জবাইযোগ্য প্রাণির তালিকা থেকে বাদ দেয় কুকুরকে। উল্লেখ্য, কুকুরের মাংস বিশ্বে খুব বেশি মানুষ খায় না। তবে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং থাইল্যান্ডে কুকুরের মাংস খুবই জনপ্রিয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর