× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৪ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার

পাকিস্তানের পাইলটদের ভুয়া লাইসেন্স, তোলপাড়

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৬ জুলাই ২০২০, সোমবার, ৮:০৯

পাকিস্তানি বিপুল সংখ্যক পাইলটের লাইসেন্স কেলেঙ্কারিতে চারদিকে তোলপাড় চলছে। সরাসরি পাকিস্তানি বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী গোলাম সারওয়ার খান তাদের এই কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস করেছেন। বলেছেন, যথাযথ পরীক্ষা না দিয়ে, প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে এসব পাইলট লাইসেন্স পেয়েছেন। তাদের বিমান চালানোর প্রকৃত অভিজ্ঞতা নেই। এমন অবস্থায় মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় পাকিস্তানের যেসব পাইলট বিমান চালানোর দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে যেসব পাকিস্তানি পাইলট দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের জন্য ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এয়ার সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ বা ইসা)। এ অবস্থায় গোলাম সারওয়ার খান শনিবার ঘোষণা করেছেন, সন্দেহজনক পাইলটদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের লাইসেন্স ভুয়া এমন তথ্য পাওয়ার পর আরো কমপক্ষে ৩০ জন পাইলটকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে সরকার। তিনি বলেছেন, এসব পাইলটের পরিণতি কী হবে তা প্রতিটি ঘটনা শুনানিতে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিপরিষদ।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
ওদিকে ইসা তার স্থগিতাদেশে বলেছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স অনুমোদিত যেসব পাইলট আছেন তাদের বিরুদ্ধে ১লা জুলাই থেকে ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের আছে বলে মিডিয়াকে জানিয়েছেন মন্ত্রী সারওয়ার।  তিনি শনিবার ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের রাওয়ালপিন্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, এমিরেটস এবং অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলোতে যেসব পাকিস্তানি পাইলট দায়িত্ব পালন করছেন তাদের যথার্থতা যাচাই করছি আমরা। এ যাচাই প্রক্রিয়া করা হবে নিরেটভাবে। এর মধ্যে যাদেরকে সার্টিফাই করা হবে শুধু তারাই বিমান উড়াতে পারবেন। তিনি আরো জানান, গত দুই দশকে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ১১ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে তাদেরকে ইউনিয়নের সুপারিশে বদলি করা হয় নি। মন্ত্রী আরো বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, অন্য সন্দেহভাজন পাইলট নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক স্টাফদের বিষয়েও যথার্থতা যাচাই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তারা পাইলটদের লাইসেন্স পরীক্ষা করছেন। পরে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। ওই বোর্ড দেখতে পেয়েছে ৮৫০ জন পাইলটের লাইসেন্সে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে। তার মধ্যে ২৬২টি লাইসেন্স ভুয়া বলে পাওয়া গেছে। ২৮ জন পাইলটের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ, চার্জশিট এবং তাদেরকে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার পর এই তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে। ব্যক্তিগত শুনানির পর তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ, এর মধ্যে ৯ জনই ভুয়া লাইসেন্সের কথা স্বীকার করেছেন। পাকিস্তানের এই মন্ত্রী আরো বলেছেন, ভুয়া লাইসেন্স ইস্যুর সঙ্গে জড়িত সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (সিএএ) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) কাছে।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর