× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২০, শনিবার

প্রশাসকই পাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন?

অনলাইন

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ৬ জুলাই ২০২০, সোমবার, ৪:১১

৫ আগস্ট পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। কিন্তু নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো পর্যন্ত পুনরায় ঠিক করেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষা হয়তো আর হচ্ছে না। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসকই পাচ্ছে চসিক।
নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীরের আভাস তেমনটাই। রোববার বিকেলে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চসিক নির্বাচনের সময় ৫ আগষ্ট পর্যন্ত। কিন্তু করোনা মহামারি কাটার আগে চসিক নির্বাচন করার কোনো পরিকল্পনা নেই ইসির।
নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের মধ্যে চসিক নির্বাচন যদি করতে না পারি, তখন দেখা যাবে করণীয় কী। সেক্ষেত্রে প্রশাসকই নিয়োগ হবে।
তবে এ বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেওয়ার বিধান আছে-বিষয়টি আমাদের নয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের।
স্থানীয় সরকার বিভাগের শীর্ষ এক কর্মকর্তার মতে, ৫ আগস্টের মধ্যে চসিক নির্বাচন হওয়ার মতো কোন পরিস্থিতি দেখছি না। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগ দিয়েই সমস্যা সমাধানের কথা ভাবছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত হতে পারে চসিক পরিচালনার ভার।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন (সিটি করপোরেশন) আইনে বলা হয়েছে, করপোরেশনের প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর হবে এর মেয়াদ। করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। চসিকের বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ২০১৫ সালে ৬ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সে অনুযায়ী চলতি বছরের ৫ আগস্ট মেয়াদপূর্তি হবে।
সে অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে ২৯ মার্চ ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে ২১ মার্চ নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এদিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারনে করোনাভাইরাস মহামারীর এই সময়েও বগুড়া ও যশোর উপ নির্বাচনের জন্য ১৪ জুলাই ভোটগ্রহণের দিন ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কোন তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, মেয়াদ শেষ হলে তারপর করণীয় ঠিক হবে। নির্বাচন সম্ভব না হলে নির্বাচন কমিশনের মতামত নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
আইনে বলা হয়েছে, নূতন সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হলে অথবা কোনো সিটি করপোরেশন বিভক্ত করা হলে অথবা কোনো সিটি করপোরেশন মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সরকার নতুন সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে।
প্রশাসকের কাজে সহায়তার জন্য সরকার প্রয়োজন মনে করলে একটি কমিটিও করে দিতে পারবে। প্রশাসক এবং সেই কমিটির সদস্যরা মেয়র ও কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না প্রশাসক।
তিনি বলেন, করোনা মহামারীর মধ্যে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রেখেছে। কিন্তু এরমধ্যেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মৃত্যুতে অনেক পদ শূন্য হচ্ছে। আবার স্থানীয় সরকারও অনিয়মের অভিযোগে অনেককে বরখাস্ত করছে।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের কারণে এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই জনপ্রতিনিধিরা কারণ দর্শাও নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে যথাসময়ে পদগুলো শূন্য ঘোষণা করা হবে। এরপর সেখানে নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে ইসিকে আমরা অনুরোধ করব। যথাসময়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছেন এমন কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ইতোমধ্যে করোনায় বা করোনা উপসর্গে মারা গেছেন। সব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সভায় আগামীতে আলোচনা হবে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর