× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২০, রবিবার

দোয়ারাবাজারে বানের পানিতে ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ

বাংলারজমিন

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | ৮ জুলাই ২০২০, বুধবার, ৯:০৬

সাম্প্রতিক সময়ের বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় কপাল পুড়েছে সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার দুই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মৎস্যচাষীদের। বানের পানিতে ভেসে গেছে তাদের কয়েক কোটি টাকার মাছ। পথে বসার উপক্রম হয়েছে এখন খামারিদের। নতুন করে পোনা ছেড়ে চাষ করার সুযোগও নেই। ব্যাপকভাবে পুকুরগুলো তলিয়ে গিয়ে বানের পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ায় বিপাকে রয়েছেন এখানকার মৎস্যচাষিরা। বর্তমানে পানি নেমে গেলেও পোনা মাছের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।   
সরজমিন গিয়ে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের সফল মৎস্যচাষী আব্দুস শহীদ। ১৭টি দীঘি ও পুকুর নিয়ে আশপাশের এলাকার মধ্যে সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক মৎস্য খামার তার। তারমধ্যে একটি ছাড়া বাকি ১৬টিই তলিয়ে গেছে বন্যায়।
খামারে ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। পোনা মাছ ছাড়াও বেশ কয়েকটিতে ২ বছরের পুরনো বড় মাছও মজুত ছিল তার। আকস্মিক বন্যায় প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে পানিতে। পুঁজি হারিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।
একই গ্রামের সফল মৎস্যচাষি আব্দুর রহিম। তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ ধরেই মৎস্য চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বছর তিনেক আগে জেলা প্রশাসন কর্তৃক জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষির পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। বাড়ির পাশেই ৪০ বিঘা জমির একটি বড় পুকুরসহ আরো বড় ও মাঝারি সর্বমোট ৫টি পুকুর নিয়ে তার বাণিজ্যিক মৎস্য খামার। সবক’টিতেই পুরনো মাছ মজুত ছিল। এবার বন্যায় শুধু পুকুর তলিয়েই যায়নি। বন্যার পানির স্রোতের বেগে একাধিক পুকুরের পার ভেঙে গেছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে তার প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার মাছ। একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী টেংরাটিলা গ্রামের মৎস্যচাষি শের মাহমুদ ভূঁইয়া। ৪০ একর জমির একটি বিশাল দীঘি খনন করে দীঘিটিতে এবারই প্রথম শুরু করেছিলেন বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ। দীঘি ছাড়াও ছোট-বড় মিলিয়ে আরো ৪টি পুকুর রয়েছে তার। এবার হঠাৎ আকস্মিক বন্যায় দীঘিসহ তার সবকটি পুকুর তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার মাছ। একই গ্রামের মৎস্যচাষি তাজুল ইসলাম। ছোট-বড় ৭টি পুকুর নিয়ে তার বাণিজ্যিক মৎস্য খামার। প্রত্যেকটি পুকুরেই মজুত ছিল বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ও বিদেশি জাতের মাছ। বন্যায় তারও সবক’টি পুকুর তলিয়ে গেছে। নেট দিয়েও আটকে রাখা যায়নি মাছ। বানের পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার মাছ। একই ইউনিয়নের মহব্বতপুর, বরকতনগর, টিলাগাঁও, গিরিশনগর, শান্তিপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার পুকুরগুলো তলিয়ে গিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের লামাসানিয়া গ্রামের খামারি হেলাল উদ্দিন, হাজী আবদুল হান্নান, সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়া, নজরুল ইসলাম, ডা: হারিছ মিয়া, মুজিবুর রহমান, জাকির হোসেন, জজ মিয়া, দলেরগাঁও গ্রামের কালামিয়া, রবিন্দ্র চৌধুরী, পরমেশ্বরীপুর, বীরসিংহ, টেবলাই গ্রামের প্রায় প্রতিটি খামারের লাখ লাখ টাকার মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে। এ দিকে পার্শ্ববর্তী ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের গোদাবাড়ি গ্রামের মৎস্য খামারি ডা. আবদুল মোমিনের দেড়শ’ বিঘার ৪টি পুকুরের প্রায় ১ কোটি টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। একই ভাবে ওই ইউনিয়নের মানিকপুর, রংপুর, ছনখাইড়, রাজারগাঁও, চানপুর, কছুদাইড়, বেতুরা গ্রামের অসংখ্য পুকুরের লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। সরজমিন গিয়ে মৎস্যচাষিদের করুণদশার খবর জানা গেছে। বানের পানিতে ভেসে গেছে খামারিদের অন্তত কয়েক কোটি টাকার মাছ। দীঘি-পুকুরে বিনিয়োগ কৃত শ্রম-ঘাম ও পুঁজি বানের জলে একনিমিষেই হারিয়ে উপজেলার মৎস্যচাষিরা এখন দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন। অনেকের কাঁধে বইছে ঋণের বোঝা। মৎস্যচাষিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সমপ্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি আকস্মিক বন্যায় কোনো ধরনের আগাম প্রস্তুতিই নিতে পারেননি তারা। কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই এবারই প্রথম আকস্মিক বন্যায় একযোগে সব মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে। বন্যার পানির স্রোতের বেগের কারণে জাল দিয়ে ঘেরাও করেও মাছ আটকানো যায়নি। অনেক পুকুরের পার ভেঙে গেছে। করোনা পরিস্থিতি ও বন্যায় সব মিলিয়ে এখন পুঁজি শূন্য হয়ে পড়েছেন উপজেলার মৎস্যচাষিরা।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর