× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৪ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার

বাংলাদেশি ইস্যুতে মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের হুমকি বৃদ্ধির আশঙ্কা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৮ জুলাই ২০২০, বুধবার, ১০:১১

তদন্তে এক বাংলাদেশির সম্পর্কে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। নাগরিক সমাজ মনে করছেন এতে বিদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সহিংসতার হুমকি বৃদ্ধি পেতে পারে। হয়রানি বৃদ্ধি পেতে পারে। সম্প্রতি আল জাজিরার একটি ডকুমেন্টারিতে অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অশোভন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশি এক অভিবাসী মোহাম্মদ রায়হান কবির। এর প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য তার সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট। এ খবর দিয়েছে মালয়েশিয়ার অনলাইন মালয় মেইল। এতে বলা হয়, ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের এমন বিজ্ঞপ্তির ফলে ঘৃণাপ্রসূত কথাবার্তা, সহিংসতার হুমকি এবং হয়রানি বৃদ্ধি পাবে বিদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে- এমনটা মনে করে সেন্টার ফর ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম (সিআইজে)।
আল জাজিরা সম্প্রতি ‘১০১ ইস্ট’ শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারি বানায়। এতে যারা সাক্ষাতকার দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ রায়হান কবির। তাতে মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর পর থেকেই তার ব্যক্তিগত তথ্য মালয়েশিয়ার অনলাইনগুলোতে বিস্তারিত আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। তাতে রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে সমালোচনামুলক রিপোর্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ৫২টি নাগরিক সংগঠন ও ব্যক্তিবিশেষ একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, রায়হান কবিরের ফোন নম্বর, ফেসবুক একাউন্ট নম্বর সহ তার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে। এতে তার প্রতি বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তার নাম, পাসপোর্ট নম্বর এবং সর্বশেষ ঠিকানা প্রকাশ করে বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট। বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের আশঙ্কা এতে প্রতিশোধ নেয়ার একটি মানসিকতা তৈরি হতে পারে। তা শুধু এই একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে না। অন্য অভিবাসীদের নিরাপত্তা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পারে। তাদের ক্ষতি করা হতে পারে।
নোটিশে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট ২৫ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি মোহাম্মদ রায়হান কবিরের নাম, তার পাসপোর্ট নম্বর এবং কুয়ালালামপুরে তিনি সর্বশেষ যেখানে থাকতেন সেই ঠিকানা প্রকাশ করেছে। জনগণকে অনুরোধ করেছে তার বিষয়ে কোনো তথ্য জানলেই তদন্তে সহযোগিতার স্বার্থে তারা যেন ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করেন। ওদিকে মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তি যেসব বিদেশী ক্ষতিগ্রস্ত করে তাদের কাজ করার পাস বাতিল করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক খায়রুল দাইমি দাউদ।
ওদিকে মিডিয়াকে ভীতি প্রদর্শন এবং মিডিয়ার স্বাধীনতায় হুমকির জন্য সরকারি প্রচেষ্টায় নিন্দা জানিয়েছে সিআইজে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা সম্প্রতি কিছু দিন ধরে যেসব বক্তব্য, বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন, তাতে অভিবাসী বিরোধী উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। সহিংসতা উস্কে উঠতে পারে। অভিবাসীরা বৈষম্যের শিকার হতে পারেন। বিশেষ করে এমন অবস্থার শিকার হতে পারেন মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ শ্রমিকরা। এ ছাড়াও এতে মিডিয়ার রিপোর্ট করা এবং স্বাধীনতা চর্চা করাও পড়বে ঝুঁকিতে। আল জাজিরার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সিআইজে সরকারের কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, মিডিয়ার স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা হলো মৌলিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে জনগণ তাদের মত প্রকাশ করেন। তাই মিডিয়া এবং সমালোচকদের কণ্ঠকে রুদ্ধ করার হুমকি ও শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে ভীতিকর পদক্ষেপ নেয়া বন্ধ করতে এবং এ থেকে বিরত থাকতে পেরিকাতান ন্যাশনাল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইজে। এর মধ্যে আল জাজিরার বিরুদ্ধে যে তদন্ত শুরু হয়েছে তার পুরোটাই বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে যে অশোভন আচরণ করা হয় তা তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এতে সরকারকে বক্তব্য বিবৃতির মাধ্যমে বৈষম্য উস্কে দেয়া থেকে বিরত থাকতে, অভিবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে শত্রুতা বা সহিংসতা রোধ করতে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, বিশেষ করে যখন সাক্ষাতকার দেয়া ওই গ্রুপটির বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মালয়েশিয়ায় যখন চলাচল নিয়ন্ত্রিত ছিল তখন রাজধানী কুয়ালালামপুরের কোভিড-১৯ রেড জোনে যেসব অভিবাসী আটক অবস্থায় ছিলেন তাদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওই ডকুমেন্টারি তৈরি করে আল জাজিরা। ৩রা জুলাই কাতারভিত্তিক নিউজ চ্যানেল আল জাজিরা ২৫.৫০ মিনিট স্থায়ী ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়াজ লকডাউন’ শীর্ষক ওই ডকুমেন্টারি প্রচার করে। এতে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের দুর্দশা তুলে ধরা হয়। এরপর ৫ই জুলাই মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. আদম বাবা বলেন, অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের বৈষম্যের অভিযোগ অসত্য। কেউ নাগরিক হন বা না হোন- সবার জন্যই কোভিড-১৯ ইস্যুতে সমান ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ৬ই জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা জয়নুদ্দিন বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী সবার প্রতিই স্থানীয় আইন অনুসরণ করে মালয়েশিয়া। সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী ইসমাইল সাব্রি ইয়াকুব বলেছেন, আল জাজিরার ওই রিপোর্ট বিদ্বেষপূর্ণ। যে এলাকায় চলাচল সীমিত করা হয়েছে সেখানে অবৈধ অভিবাসীদের আটক রার বিষয়টিকে মিথ্যাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, একই রকম বিধিনিষেধ দেশি বিদেশি সবার জন্যও প্রয়োগ করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
নিসারুল ইসলাম
৮ জুলাই ২০২০, বুধবার, ১১:৪৩

রায়হান কবির নয় মালয়েশিয় সরকার মিথ্যা কথা বলছে । যারা পাচারকৃত অবৈধ পয়সার মালিকদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়, তারা সত্য কথা বলতে জানেনা ।

অন্যান্য খবর