× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২০, বৃহস্পতিবার

ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ধ্রুপদী লড়াইয়ের সমৃদ্ধ ইতিহাস

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক | ৮ জুলাই ২০২০, বুধবার, ১০:৫৬

 

ঐতিহাসিক এক দ্বৈরথ দিয়ে ১১৭ দিন পর মাঠে ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। আজ বিকাল ৪টায় রোজ বোল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে তিন ম্যাচ টেস্টের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯২৮ সালে লর্ডসে প্রথম সাক্ষাতের পর এখন পর্যন্ত ৩৭টি সিরিজে ১৫৭ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে চারটি যুগে ভাগ করা যায়।

১৯২৮-১৯৫০ (প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা)

প্রথম দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজ ১৯২৮ সালে। সবকটি ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ানদের ব্যর্থতার মাঝে উজ্জ্বল ছিলেন ল্যারি কনস্টান্টিন। তবে ২ বছর পরই ক্রিকেটের জনকদের বিপক্ষে প্রথম জয় উদযাপন করে উইন্ডিজ। ১৯৩০ সালে ক্যারিবিয়ান সফরে এসে ভালোই চ্যালেঞ্জ টের পায় ইংল্যান্ড।

চার ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ২৮৯ রানের বড় ব্যবধানে হারে তারা। দুই ইনিংসেই শত হাঁকান তরুণ ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান জর্জ হ্যাডলি। পরে উইন্ডিজের প্রথম কৃষাঙ্গ অধিনায়ক হয়েছিলেন তিনি। উইন্ডিজ-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের প্রথম দুই দশকে সর্বাধিক ১৮৩৫ রান সংগ্রাহক হ্যাডলি। এই সময়ে আর কোনো ব্যাটসম্যান ১ হাজারও ছুঁতে পারেনি। মোট ৬টি সিরিজে সমান ২টি করে জেতে উভয় দল। জয়-পরাজয়ে ৮-৫ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড।

১৯৫০-১৯৭৪ (কেউ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান)

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে পরের ২৪ বছরে। ১৯৫০ সালে ইংল্যান্ডকে তাদেরই মাটিতে ৩-১ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দেয় উইন্ডিজ। তিন বছর পর ক্যারিবিয়ানে শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারে এসে ইংলিশরা সিরিজ শেষ করে ২-২ সমতায় । তবে ১৯৫৭ ও ১৯৬৯/৬০ সালে দুটি সিরিজ জিতে প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হয় তারা। ১৯৬৩ থেকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন নামকরণ করা হয় ‘উইজডেন ট্রফি’। সেবার ইংল্যান্ডের মাটিতে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৬৬ সালের সিরিজটিও ছিল ইংল্যান্ডে। ফলাফলে পরিবর্তন আসেনি। এবারো ৩-১।  পরের দুটি সিরিজে ১-০ ও ২-০তে জিতে ইংলিশরা মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ১৯৭৩ সালে ২-০ তে জয় ও পরের বছর ১-১ সমতায় মাথা উঁচুতেই রাখে উইন্ডিজ। হেড টু হেডে ১৪-১৩ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল দলটি। এই সময়ে উত্থান হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিখ্যাত ডব্লিউ ত্রয়ীর (ফ্রাঙ্ক ওরেল, এভারটন উইকস, ক্লাইড ওয়ালকট)। তবে সবাইকে ছাপিয়ে যান স্যার গ্যারি সোবার্স। ব্যাট হাতে ৩৬ টেস্টে ৬০.৬৪ গড়ে ৩২১৪ রান ও বল হাতে ১০২ উইকেট নেন তিনি। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে ৭২২ রান ও ২০ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। আজ পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটার এক সিরিজে ৬০০ রান ও ২০ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁতে পারেননি।

১৯৭৬-১৯৯৮ (ব্ল্যাকওয়াশ)

এই সময়টাকে বলা হয় ‘ব্ল্যাকওয়াশ’। ১৯৭৬-৯০ পর্যন্ত ঘরে বাইরে টানা ৭টি সিরিজে ইংল্যান্ডকে হারায় উইন্ডিজ। এর মধ্য দুবার ৫-০তে হোয়াইটওয়াশ হয় ইংলিশরা। ১৯৮৯ পর্যন্ত তো একটি টেস্টও জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডস, গর্ডন গ্রিনিজ, জোয়েল গার্নারদের পর কার্টলি অ্যামব্রোস, কোর্টনি ওয়ালশ, ব্রায়ান লারাদের কাছে ইংলিশদের অসহায় আত্মসমর্পন ছিল নিয়মিত দৃশ্য। এই সময়ে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান ভিভ রিচার্ডস। সর্বাধিক ২৮৬৯ রান সংগ্রহ করেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে গ্রাহাম গুচ, ডেভিড গোয়ারের মতো কয়েকজন ক্রিকেটার প্রতিরোধ গড়েন। তবে তাদের হারজিতের ব্যবধানটা ছিল ৩২-৭!

১৯৯৯- বর্তমান (ক্যারিবিয়ান রাজত্বের অবসান)

সিনিয়র ক্রিকেটারদের অবসরে উইন্ডিজ রাজত্ব হারিয়ে ফেলে। এই সময়ে ‘ওয়ানম্যান  আর্মি’র মতো লড়েছেন ব্রায়ান লারা। ৩৭৫ ও ৪০০ রানের দুটি ইনিংস খেলে গড়েছেন ইতিহাস। কিন্তু দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি। গত ২০ বছরে ৬ জয়ের বিপরীতে ২১টিতেই হেরেছে তারা। ২০০০ সালে ক্যারিবিয়ানে ৩১ বছর পর ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। শুরু হয় নতুন যুগের। ২০০৭ পর্যন্ত টানা ৪টি সিরিজ হারে উইন্ডিজ। ২০০৮-০৯ সালে গেইল-সারওয়ানের কল্যাণে ৯ বছর পর ঘরের মাটিতে প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ নেয় ক্যারিবিয়ানরা। আর শেষ ৫ সিরিজের ৩টিই হেরেছে দলটি। তবে গত বছর ঘরের মাঠে জেসন হোল্ডারের দল ২-১ ব্যবধানে জিতে একটা বার্তা দিয়ে রেখেছে। ১৯৮৮ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ না জেতার আক্ষেপটা কি এবার ঘুচাতে পারবে তারা?

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর