× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার

বিয়ানীবাজারে এক বছর পর ব্যবসায়ী খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন

শেষের পাতা

মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার (সিলেট) থেকে | ৯ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৯:১৫

বিয়ানীবাজারের চারখাইয়ে টাকা আত্মসাতের লোভ সামলাতে না পেরে ব্যবসায়ী কামাল হোসেন (৩৫)কে খুন করে তারই দোকানের কর্মচারী। প্রায় ১ বছর পর ব্যবসায়ী কামাল নিখোঁজ ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বুধবার সিলেটের জুডিশিয়াল আদালতে এ ঘটনার পুরো বিষয় উল্লেখ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সে। হত্যাকাণ্ডে মোট ৬ জন অংশ নেয় বলে সে আদালতকে জানায়। মঙ্গলবার বিকেলে কচুরিপানা ভর্তি ডুবায় ড্রামের ভেতর থেকে নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ী কামালের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এর আগে ওই দিন সকাল ৯টায় ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম আমির উদ্দিন (২৪)। সে জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম এলাকার রায়গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ব্যবসায়ী কামাল হোসেন (৩৫) সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশক ছিলেন। চারখাই ও আলীনগরসহ আশপাশ এলাকায় তিনি সিগারেটসহ অন্যান্য পণ্য পাইকারি বিক্রি করতেন। তিনি নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই মাস পূর্বে আমির আলী দোকানে কর্মচারীর চাকরি নেয়। আমিরের লক্ষ্য ছিল কামাল হোসেনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের ১০ই আগস্ট বিয়ানীবাজারের চারখাই এলাকার আদিনাবাদ গ্রামের মৃত রকিব আলির ছেলে কামাল আহমদ নিখোঁজ হন। চারখাই বাজারের কামাল স্টোরের সত্ত্বাধিকারী ছিলেন তিনি। সেখানে ব্যবসা করলেও তিনি একটি বাড়ি বানিয়ে বসবাস করতেন আলিনগর ইউনিয়নের খলাগ্রামে। ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসায়ী কামাল ছিলেন অবিবাহিত। প্রতিদিনের ন্যায় ব্যবসায়ী কামাল ও তার দোকান কর্মচারী আমীর ব্যবসা বাণিজ্য শেষে নিখোঁজের রাতে ঘুমাতে যান আলিনগর ইউনিয়নের খলাগ্রামের বাড়িতে। কিন্তু কে জানতো ওই রাতেই ব্যবসায়ী কামাল হত্যার শিকার হবেন। ঘাতকরা ওই রাতেই তাকে হত্যা করে লাশ একটি ড্রামে ভরে তারই বাড়ির পাশে একটি ডুবায় ফেলে দেয়। উদ্দেশ্য, ব্যবসায়ী কামালের টাকা আত্মসাৎ করা এমনটি বলছে পুলিশের সূত্র। পরদিন ব্যবসায়ী কামাল দোকানে না যাওয়ায় পরিবারের লোকজন ফোন দেন দোকান কর্মচারী আমির উদ্দিনকে। সে একেক ধরনের কথা বলে। এ সময় সে প্রচার করে ব্যবসায়ী কামাল আজমির শরিফ জিয়ারতে গেছেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমির জানায় সব মিলিয়ে সে ২০-৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান, ঘটনার পুরো বিষয় বর্ণনা করে আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় আমির আলীসহ মোট ৩ জনকে আটক করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এর মধ্যে আদালতের কাছে তাদের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। হত্যা রহস্য উদঘাটন এবং এর সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করেছে। বিয়ানীবাজার থানার ওসি অবনী শংকর কর বলেন, হত্যার পর লাশগুম করে আমির কমপক্ষে দুই মাস দোকান চালায়। আমিরকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয় লাশ উদ্ধার অভিযান। এক সময় সে স্বীকার করে ব্যবসায়ী কামালের লাশ তারই (ব্যবসায়ী) বাড়ির পাশে ডুবায় ড্রামে ফেলে দেয়া হয়েছে। বিকেলে ডুবুরীর সাহায্যে ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েকটি কঙ্কাল।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর