× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ‘অপারেশনাল রাইটস’ চায় এসজিএফএল

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১১ জুলাই ২০২০, শনিবার, ৯:০৮

নিজেদের ‘মালিকানায়’ থাকা টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র ফেরত চায় সিলেট গ্যাসফিল্ড লি.-এসজিএফএল। শুরু করতে চায় খনন কাজও। চলমান গ্যাস সংকট কাটাতে এই গ্যাসক্ষেত্র অনেকখানি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অফুরন্ত গ্যাসভাণ্ডার টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র। সুতরাং নিজেরাই খনন করে গ্যাস উত্তোলন করলে সংকট অনেকখানি দূর করা সম্ভব হবে। এ নিয়ে সিলেট গ্যাসফিল্ডস লি. কর্মচারী লীগের আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের কাছে ডিও দিয়েছেন স্থানীয় এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। এসজিএফএল কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তারা সহসাই বিষয়টি খনিজ মন্ত্রণালয়ের বোর্ড সভায় আনুষ্ঠানিক উত্থাপন করে অনুমতি চাইবেন। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের (ছাতক গ্যাসফিল্ড) মূল মালিক সিলেট গ্যাসফিল্ড লি.।
১৯৫৫ সালে পাকিস্তান সরকারের সময় এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়। তৎকালীন পিপিএলের অধীনে কূপ খনন করে গ্যাস উত্তোলন শুরু করা হয়। ১৯৬০ সালে ওই গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস সরবরাহ করা হয় ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ও পাল্প এন্ড পেপার মিলে। এই গ্যাসক্ষেত্র দিয়ে উত্তোলিত গ্যাস দেশের প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার শুরু হয়। স্বাধীনতার পর বিপিএল হয়ে এসজিএফএলর হাতেই ন্যস্ত হয় টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের দায়িত্ব। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দৈনিক ৪-৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস এই কূপ থেকে উত্তোলিত হয়। পরবর্তীতে পানি ও বালুর পরিমাণ বেশি আসায় ১৯৮৬ সালে এই কূপটির উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। কূপের উৎপাদন বন্ধ থাকলেও এসজিএফএল’র কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৩ সালে সরকারের তরফ থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো ও দেশি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কূপ খনন ও গ্যাস উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়। এরপর নাইকো ওই কূপে গ্যাস উত্তোলনের জন্য খনন কাজ শুরু করলে তাদের অদক্ষতার কারণে ২০০৫ সালের জানুয়ারি ও জুন মাসে পরপর দু’দফা অগ্নিকাণ্ডের (ব্লো-আউট) ঘটনা ঘটে। এতে করে দেশজুড়ে আলোচিত হয় টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড। ঘটে মানবিক বিপর্যয়। অগ্নিকাণ্ডে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে টেংরাটিলাসহ আশপাশের ১৫-২০ গ্রাম। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক আদালতে যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল সেটির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষেই এসেছে রায়। কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার ফয়সালা হওয়ার পর নিজেদের সম্পত্তি রক্ষা এবং ‘অপারেশন রাইটস’ দাবি করে সক্রিয় হয়েছে সিলেট গ্যাসফিল্ড লি.। বিষয়টি নিয়ে গত ১৭ই জুন সিলেট গ্যাসফিল্ডস লি. কর্মচারী লীগের তরফ থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে তারা উল্লেখ করেছেন- আন্তর্জাতিক আদালতের রায় বিবেচনা করলে এখন টেংরাটিলায় বাপেক্স কিংবা নাইকো কারো কোনো কার্যকারিতা নেই। ওই গ্যাসক্ষেত্রটি মূল মালিক সিলেট গ্যাসফিল্ডকে ফেরত পেতে আর আইনগত কোনো বাধা নেই। মন্ত্রীকে তারা অবগত করেন- বর্তমানে এসজিএফএল’র ১০টি উৎপাদিত কূপের মধ্যে ৫টি কূপ থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি উত্তোলিত হচ্ছে। গ্যাস চাপ ও পরিমাণ কমে আসছে। এ সকল গ্যাস কূপের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়লে দৈনিক ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন কম হবে। এতে দেশের মোট উৎপাদন নেমে দাঁড়াবে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অথচ ২০০২ সালে দেশে দৈনিক গড়ে ২০০ মিলিয়ন গ্যাস উৎপাদিত হতো। জ্বালানি মন্ত্রীর কাছে দেয়া আবেদনে তারা উল্লেখ করেছেন, টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড এসজিএফএল’র অধীন করা না হলে কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়বে। ইতিমধ্যে কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। এ কারণে টেংলাটিলা গ্যাসফিল্ডে অপারেশনাল রাইট ফিরে পাওয়া এসজিএফএল’র জন্য খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ড লি. কর্মচারী লীগের সভাপতি আলহাজ মো. হারুন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সরকারের অনুমতি পেলে আমরা মনে করি টেংরাটিলায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে।  প্রথম পর্যায়ে একটি কূপ খননের পাশাপাশি ৩টি সাইসমিক জরিপ পরিচালনা এবং পরবর্তীতে দুটি কূপের খননসহ যাবতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যাবে। এজন্য তারা উদ্যোগী হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। এদিকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে একমত সিলেট গ্যাসফিল্ড লি. কর্তৃপক্ষ। টেংরাটিলা তাদের সম্পত্তি। খনন, গ্যাস উত্তোলন যা করার সবই করবে সিলেট গ্যাসফিল্ড কর্তৃপক্ষ। এখানে অন্য কারো অধিকার নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরাও। সিলেট গ্যাসফিল্ড লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুর উল্লাহ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেট গ্যাসফিল্ড লি. তার সম্পত্তি ফেরত চাইবে, এটাই তো স্বাভাবিক। বিষয়টি তিনি মন্ত্রণালয়ের আগামী বোর্ড সভায় উত্থাপন করবেন। ‘অপারেশনাল রাইটস’ আশা করছে সরকারের তরফ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে। আর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে সিলেট গ্যাসফিল্ড কর্তৃপক্ষ দ্রুতই সেখানে কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানান তিনি। এদিকে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের অপারেশনাল রাইটস সিলেট গ্যাসফিল্ডকে দেয়া উচিত বলে মনে করেন স্থানীয় এমপি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। এ ব্যাপারে তিনি গত ২৮শে জুন খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে একটি ডিও পাঠিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট গ্যাসফিল্ডের সিবিএ ও কর্মচারী লীগ নামে দুটি সংগঠন পৃথক আবেদনে তার কাছে এ দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান মন্ত্রী। টেংরাটিলার স্থানীয় বাসিন্দা ও টেংরাটিলা দাবি আদায় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল আমীন জানিয়েছেন, টেংরাটিলার সম্পত্তি সিলেট গ্যাসফিল্ডের। কাগজপত্রে দালিলিক মালিক তারা। নাইকো ও বাপেক্স উড়ে এসে জুড়ে বসে দু’দফা অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে পুরো এলাকা বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। এখনো টেংরাটিলার মানুষ সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। সুতরাং এসজিএফএলের মাধ্যমে টেংরাটিলায় খনন ও গ্যাস উত্তোলন শুরু হলে এলাকার মানুষ সর্বাত্মক ভাবে সহযোগিতা করবেন। কারণ দেশীয় সম্পদ, দেশি কোম্পানির মাধ্যমে উত্তোলিত হলে হয়তো নাইকোর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না। দেশের সম্পদ রক্ষায় দেশি কোম্পানি দরদ নিয়ে কাজ করবে। এতে আবার জেগে উঠবে টেংরাটিলা। কর্মস্থান পাবে এলাকার মানুষ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর