× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২০, শনিবার

সাবেক উপদেষ্টা স্টোনের সাজা মওকুফ করলেন ট্রাম্প, ডেমোক্রেটদের কড়া নিন্দা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১১ জুলাই ২০২০, শনিবার, ১২:১৮

সাবেক উপদেষ্টা রজার স্টোনের জেলের সাজা মওকুফ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিচার কাছে বাধা, সাক্ষীর সাক্ষ্যকে টেম্পারিং করা ও কংগ্রেসে রাশিয়া কানেকশন নিয়ে মিথ্যাচারের জন্য রজার স্টোনকে অভিযুক্ত করে আদালত। এ জন্য তাকে ৪০ মাসের জেল দেয়া হয়। সেই সাজা শুরুর তারিখ বিলম্বিত করতে ওয়াশিংটন ডিসি কোর্ট অব আপিলে আবেদন করেছিলেন রজার স্টোন। কিন্তু আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এরপরই ট্রাম্প ওই শাস্তি মওকুফের ঘোষণা দেন। এমন সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্রেটরা। তারা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে তিনি দুই ধরনের বিচার ব্যবস্থা চালু করেছেন। একটি হলো তার ক্রিমিনাল বন্ধুদের জন্য। অন্য হলো বাকি মানুষদের জন্য। ট্রাম্পকে ইতিহাসের সবচেয়ে ‘করাপ্ট’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে আইন মন্ত্রনালয়ের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন যেসব কর্মকর্তা তার মধ্যে রজার স্টোন হলেন ট্রাম্পের ষষ্ঠ সহযোগী। ৬৭ বছর বয়সী স্টোনের শাস্তি ভোগের মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা আগামী মঙ্গলবার। এদিন জর্জিয়াতে জেসাপ এলাকায় ফেডারেল জেলখানায় তার রিপোর্ট করার কথা। অর্থাৎ ওইদিন তার জেলে যাওয়ার কথা।
কিন্তু হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে রজার স্টোনকে রাশিয়া বিষয়ক ধাপ্পাবাজির শিকার বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিডিয়ায় বাম এবং তার মিত্ররা কয়েক বছর ধরে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকে খর্ব করার চেষ্টায় লিপ্ত। এতে আরো বলা হয়েছে, ক্রেমলিনের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচারণা টিমের যোগসাজশের যে ‘ফ্যান্টাসি’র অভিযোগ আনা হয়েছে তা প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কাউন্সেলর রবার্ট মুয়েলার হতাশা থেকে রজার স্টোনকে অভিযুক্ত করেছেন। এ কারণে রবার্ট মুয়েলারের প্রসিকিউটররা ছিলেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তারা ব্যর্থ তদন্ত ঢাকতে মরিয়া ছিলেন, যেখানে দৃষ্টি দেয়া হয়েছিল রজার স্টোনের দিকে।
হোয়াইট হাউজ বলেছে, রজার স্টোনের বাড়িতে যে সকালে ঘেরাও দেয়া হয় সেদিনের সেই বিষয় আগেই সিএনএনকে জানিয়েছিল এফবিআই। এর ফলে রজার স্টোনকে গ্রেপ্তারের দৃশ্য ওই টিভি নেটওয়ার্কের ক্রুরা ক্যামেরাবন্দি করেন। এরই মধ্যে রজার স্টোন যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছেন। তার সঙ্গে খুব অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য আরো অনেকের সঙ্গেও একই আচরণ করা হয়েছে। ফলে রজার স্টোন এখন একজন মুক্ত মানুষ। কয়েক মাস ধরেই তাকে উদ্ধার করার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন।
ওদিকে বার্তা সংস্থা এপি’কে রজার স্টোন বলেছেন, শুক্রবারই তাকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। তাকে শাস্তি মওকুফের বিষয় জানিয়েছিলেন। এমন সিদ্ধান্ত তিনি বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলে সেলিব্রেট করছেন। সেখানে শ্যাম্পেন পরিবেশন করা হচ্ছে। উৎসবের আমেজ বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাকে দায়মুক্তি দেয়ার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ইন্টেলিজেন্স কমিটি চেয়ারম্যান এডাম শিফ। ডেমোক্রেট দলের শীর্ষ এই প্রতিনিধি বলেছেন, এই ক্ষমা করে দেয়ার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটা নিশ্চিত করলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে দুই রকম বিচার ব্যবস্থা আছে। একটি হলো তার ক্রিমিনাল বন্ধুদের জন্য। অন্যটি বাকি অন্যদের জন্য। ডেমোক্রেট ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার টম পেরেজ বলেছেন, ট্রাম্প কি এর মাধ্যমে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন নি? অন্যদিকে ডেমোক্রেট দলের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণ হলো যে, ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত প্রেসিডেন্ট হলেন ডনাল্ড ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি গিলিয়ানি। তিনি বলেছেন, রজার স্টোনের শাস্তি দেয়াটা ছিল অন্যায়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর