× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার
সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলা প্লাবিত

পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ

শেষের পাতা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার, ৯:০৮

অবিরাম বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। অন্য ৬টি উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ কম।
 
নদীর চেয়ে হাওর এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। জেলার সবকটি উপজেলার গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও হাটবাজারের বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলো কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা ও জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে চলছে নৌকা। প্লাবিত এলাকার গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি নিয়ে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক ও জামালগঞ্জ উপজেলা। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মধ্যবাজার, পশ্চিমবাজার, সাববাড়ির ঘাট এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে এখন নৌকা চলছে। শহরের কাজীর পয়েন্ট, উকিল পাড়া, ষোলঘর, নবীনগর, ধোপাখালী, মল্লিকপুর, বড়পাড়া, তেঘরিয়া, ওয়েজখালী, কালীপুর হাছনবসত, শান্তিবাগ, মরাটিলা, টিলাপাড়া, নুতনপাড়াসহ ৯টি ওয়ার্ডের সবকটি আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার সড়কগুলো ৫ থেকে ৮ ফুট পানির নিচে রয়েছে। অন্যদিকে সুরমা নদীর ৩০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রবল বেগে শহরে পানি ঢুকছে। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল বলেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর, রঙ্গারচর লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন। এসব এলাকার পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি। আশ্রয়কেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে ত্রাণের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি ঢলে শুরুতে প্লাবিত হয় উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন। পানিবন্দি হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। জেলা প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, বন্যার কারণে ২৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এক হাজার ৩৪৪টি পারিবারের পাঁচ হাজার ২৭৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার ৮১টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভার ২০ ওয়ার্ডে ৭০ হাজার ৩২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৩৩৭ টন চাল, ২০ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা ও ৩৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানিয়েছেন, সকাল ৯টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি বেশি হয়েছে। চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৫২৩ মিলিমিটার। একারণে সুনামগঞ্জের নদ নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেট আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, রোববার সকালে সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও সোমবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাবে। তখন ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টিপাত কমে যাবে এবং সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। লাগাতার দু’দফা বন্যায় সুনামগঞ্জের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এজন্য ১১ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের যত বেশি সম্ভব বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর